৯/২১০. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১২/১১৬৫ - জুমার দিনে বেশি বেশি দরূদ পাঠ
জুমার দিনের মাহাত্ম্য ও গুরুত্ব
জুমার জন্য গোসল করা, সুগন্ধি ব্যবহার করা, সকাল সকাল মসজিদে যাওয়া, এ দিনে দো‘আ করা, নবী (ﷺ)-এর উপর দরূদ পড়া ও এ দিনের কোন এক সময়ে দো‘আ কবুল হওয়ার বিবরণ এবং জুমার পর বেশী বেশী মহান আল্লাহর যিকির করা মুস্তাহাবমহান আল্লাহ বলেছেন,قَالَ الله تَعَالَى: ﴾فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلَاةُ فَانْتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِنْ فَضْلِ اللَّهِ وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيرًا لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ﴿ (الجمعة: ١٠অর্থাৎ অতঃপর নামায সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড় এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান কর ও আল্লাহকে অধিক-রূপে স্মরণ কর; যাতে তোমরা সফলকাম হও। (সূরা জুমআ ১০ আয়াত)
জুমার দিনে দরূদ পাঠের ফজিলত ও নবীজির প্রতি ভালোবাসা
রিয়াদুস সালেহীন : ১২/১১৬৫
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১২/১১৬৫
وَعَنْ أَوسِ بنِ أَوسٍ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ ﷺ :«إِنَّ مِنْ أَفْضَلِ أَيَّامِكُمْ يَوْمَ الجُمُعَةِ، فَأَكْثِرُوا عَلَيَّ مِنَ الصَّلاَةِ فِيهِ؛ فَإِنَّ صَلاَتَكُمْ مَعْرُوضَةٌ عَلَيَّ».رواه أَبُو داود بإسناد صحيح
আওস ইবনে আওস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেন, “তোমাদের দিনগুলির মধ্যে সর্বোত্তম একটি দিন হচ্ছে জুমার দিন। সুতরাং ঐ দিনে তোমরা আমার উপর বেশী বেশী দরূদ পাঠ কর। কেননা, তোমাদের পাঠ করা দরূদ আমার কাছে পেশ করা হয়।” (আবূ দাউদ বিশুদ্ধ সূত্রে)[১]
আবূ দাউদ ১০৪৭, ১৫৩১, নাসায়ী ১৩৭৪, ইবনু মাজাহ ১৬৩৬, আহমাদ ১৫৭২৯, দারেমী ১৫৭২
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুহিউদ্দীন আবূ যাকারিয়্যা ইয়াহইয়া বিন শারফ আন্-নাবাবী (রহ.)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১২/১১৬৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে জুমার দিনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আমল এসেছে—নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর উপর বেশি বেশি দরূদ পাঠ করা। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন, তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে জুমার দিন উত্তম দিনগুলোর একটি। তাই এ দিনে তাঁর উপর বেশি দরূদ পাঠ করতে বলা হয়েছে। কারণ, উম্মতের পাঠ করা দরূদ তাঁর কাছে পেশ করা হয়। এখানে ‘জুমার দিনে দরূদ’, ‘দরূদ শরীফের ফজিলত’ এবং ‘নবীজির উপর দরূদ পাঠ’—এই বিষয়গুলো সরাসরি যুক্ত। হাদিসটি আমাদের শেখায়, জুমার দিন শুধু মসজিদে যাওয়ার দিন নয়; নবীজির প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের দিনও। দরূদ পাঠের মাধ্যমে মুমিন নিজের জিহ্বা ভালো কথায় ব্যস্ত রাখে এবং রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর প্রতি সম্মান প্রকাশ করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জুমার দিনে নবীজির উপর বেশি দরূদ পাঠ করা ভালো আমল।
- জুমার দিন মুসলিমের জন্য বিশেষ মর্যাদার দিন।
- উম্মতের দরূদ নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে পেশ করা হয় বলে হাদিসে এসেছে।
- দরূদ পাঠ নবীজির প্রতি ভালোবাসা ও সম্মানের প্রকাশ।
