৯/২১৪. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৫/১২০১ - রমযানের শেষ দশকে ইবাদতের জাগরণ
শবে কদরের ফযীলত এবং সর্বাধিক সম্ভাবনাময় রাত্রি প্রসঙ্গে
আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,﴾ إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ ١ وَمَا أَدْرَاكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ ٢ لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ ٣ تَنَزَّلُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِمْ مِنْ كُلِّ أَمْرٍ ٤ سَلَامٌ هِيَ حَتَّىٰ مَطْلَعِ الْفَجْرِ ٥ ﴿ [القدر: ١، ٥]অর্থাৎ নিশ্চয়ই আমি এ (কুরআন)কে অবতীর্ণ করেছি মর্যাদাপূর্ণ রাত্রিতে (শবেকদরে)। আর মর্যাদাপূর্ণ রাত্রি সম্বন্ধে তুমি কি জান? মর্যাদাপূর্ণ রাত্রি সহস্র মাস অপেক্ষা উত্তম। ঐ রাত্রিতে ফেরেশতাগণ ও রূহ (জিবরীল) অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক কাজে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে। শান্তিময় সেই রাত্রি ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত। (সূরা ক্বাদর)তিনি আরও বলেছেন,﴾ حمٓ ١ وَالْكِتَابِ الْمُبِينِ ٢ إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ مُبَارَكَةٍ ۚ إِنَّا كُنَّا مُنْذِرِينَ ٣فِيهَا يُفْرَقُ كُلُّ أَمْرٍ حَكِيمٍ ٤ أَمْرًا مِنْ عِنْدِنَا ۚ إِنَّا كُنَّا مُرْسِلِينَ ٥ رَحْمَةً مِنْ رَبِّكَ ۚ إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ ٦ ﴿ (الدخان: ١، ٦অর্থাৎ, নিশ্চয় আমি এ (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এক বরকতময় (আশিস-পূত শবে কদর) রাতে; নিশ্চয় আমি সতর্ককারী। এ রাতে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত হয়। আমার আদেশত্রুমে, আমি তো রাসূল প্রেরণ করে থাকি। এ তোমার প্রতিপালকের নিকট হতে করুণা; নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। (সূরা দুখান ৩ আয়াত)
রমযানের শেষ দশকে ইবাদত: নবীজির আমলের সহজ শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ৫/১২০১
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৫/১২০১
وَعَنْهَا، رَضِيَ اللهُ عَنهَا، قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ ﷺ إِذَا دَخَلَ العَشْرُ الأَوَاخِرُ مِنْ رَمَضَانَ، أَحْيَا اللَّيْلَ، وَأَيْقَظَ أَهْلَهُ، وَجَدَّ وَشَدَّ المِئزَرَ.متفقٌ عَلَيْهِ
উক্ত রাবী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
উক্ত রাবী (আয়েশা) (রাঃ) হতে আরও বর্ণিত, তিনি বলেন, ’যখন রমজানের শেষ দশক প্রবেশ করত, তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) রাতে নিজে জাগতেন, নিজ পরিজনদেরকেও জাগাতেন, কঠোর পরিশ্রম করতেন এবং কোমরে লুঙ্গি বেঁধে নিতেন।’ (বুখারী ও মুসলিম) [১]
মুসলিম ১১৭৪, তিরমিযী ৭৯৬, নাসায়ী ১৬৩৯, আবূ দাউদ ১৩৭৬, ২৩৮৬৯, ইবনু মাজাহ ১৭৬৭, ১৭৬৮, ২৩৬১১, ২৩৮৫৬, ২৪৩৯২, ২৫৬৫৬
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুহিউদ্দীন আবূ যাকারিয়্যা ইয়াহইয়া বিন শারফ আন্-নাবাবী (রহ.)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৫/১২০১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রমযানের শেষ দশকে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর বিশেষ আমলের কথা এসেছে। আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, শেষ দশক শুরু হলে তিনি নিজে রাতে জাগতেন, পরিবারকেও জাগাতেন, বেশি পরিশ্রম করতেন এবং কোমরে লুঙ্গি বেঁধে নিতেন। এখানে মূল শিক্ষা হলো, রমযানের শেষ দশককে সাধারণ দিনের মতো না কাটানো। শবে কদর তালাশ, রাতের ইবাদত, দোয়া ও পরিবারকে ভালো কাজে উৎসাহ দেওয়া—এসব বিষয় এই বর্ণনায় স্পষ্টভাবে দেখা যায়। হাদিসটি আমাদের শেখায়, ইবাদত শুধু ব্যক্তিগত নয়; পরিবারকেও আল্লাহর দিকে ডাকতে হয়। শেষ দশকের ইবাদত মানে অতিরঞ্জন নয়, বরং নবীজির দেখানো মতো যত্ন, চেষ্টা ও আন্তরিকতা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রমযানের শেষ দশকে রাতের ইবাদতে বেশি মনোযোগ দেওয়া নবীজির আমল।
- পরিবারকে ভালো কাজে জাগানো ও উৎসাহ দেওয়া সুন্দর সুন্নাহ।
- শেষ দশকে দোয়া, নামাজ ও ইবাদতে বাড়তি চেষ্টা করা উচিত।
