৯/২১৪. অধ্যায়ঃ

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৬/১২০২ - রমযানে বেশি ইবাদতের শিক্ষা

শবে কদরের ফযীলত এবং সর্বাধিক সম্ভাবনাময় রাত্রি প্রসঙ্গে

আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,﴾ إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةِ الْقَدْرِ ١ وَمَا أَدْرَاكَ مَا لَيْلَةُ الْقَدْرِ ٢ لَيْلَةُ الْقَدْرِ خَيْرٌ مِنْ أَلْفِ شَهْرٍ ٣ تَنَزَّلُ الْمَلَائِكَةُ وَالرُّوحُ فِيهَا بِإِذْنِ رَبِّهِمْ مِنْ كُلِّ أَمْرٍ ٤ سَلَامٌ هِيَ حَتَّىٰ مَطْلَعِ الْفَجْرِ ٥ ﴿ [القدر: ١، ٥]অর্থাৎ নিশ্চয়ই আমি এ (কুরআন)কে অবতীর্ণ করেছি মর্যাদাপূর্ণ রাত্রিতে (শবেকদরে)। আর মর্যাদাপূর্ণ রাত্রি সম্বন্ধে তুমি কি জান? মর্যাদাপূর্ণ রাত্রি সহস্র মাস অপেক্ষা উত্তম। ঐ রাত্রিতে ফেরেশতাগণ ও রূহ (জিবরীল) অবতীর্ণ হয় প্রত্যেক কাজে তাদের প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে। শান্তিময় সেই রাত্রি ফজর উদয় হওয়া পর্যন্ত। (সূরা ক্বাদর)তিনি আরও বলেছেন,﴾ حمٓ ١ وَالْكِتَابِ الْمُبِينِ ٢ إِنَّا أَنْزَلْنَاهُ فِي لَيْلَةٍ مُبَارَكَةٍ ۚ إِنَّا كُنَّا مُنْذِرِينَ ٣فِيهَا يُفْرَقُ كُلُّ أَمْرٍ حَكِيمٍ ٤ أَمْرًا مِنْ عِنْدِنَا ۚ إِنَّا كُنَّا مُرْسِلِينَ ٥ رَحْمَةً مِنْ رَبِّكَ ۚ إِنَّهُ هُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ ٦ ﴿ (الدخان: ١، ٦অর্থাৎ, নিশ্চয় আমি এ (কুরআন) অবতীর্ণ করেছি এক বরকতময় (আশিস-পূত শবে কদর) রাতে; নিশ্চয় আমি সতর্ককারী। এ রাতে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত হয়। আমার আদেশত্রুমে, আমি তো রাসূল প্রেরণ করে থাকি। এ তোমার প্রতিপালকের নিকট হতে করুণা; নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। (সূরা দুখান ৩ আয়াত)

রমযানে বেশি ইবাদত: শেষ দশকের বিশেষ মেহনত

রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৬/১২০২

وَعَنْهَا، قَالَتْ: كَانَ رَسُولُ اللهِ ﷺ ﷺ يَجْتَهِدُ فِي رَمَضَانَ مَا لاَ يَجْتَهِدُ فِي غَيْرِهِ، وَفِي العَشْرِ الأوَاخِرِ مِنْهُ مَا لاَ يَجْتَهِدُ في غَيْرِهِ. رواه مسلم

উক্ত রাবী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

উক্ত রাবী (আয়েশা) (রাঃ) হতে আরও বর্ণিত, তিনি বলেন, ’রমজান মাসে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (আল্লাহর ইবাদতের জন্য) যত পরিশ্রম করতেন, অন্য কোন মাসে তেমন পরিশ্রম করতেন না। (অনুরূপভাবে) রমজানের শেষ দশকে যত মেহনত করতেন অন্য দিনগুলিতে তত মেহনত করতেন না।’ (মুসলিম, প্রথমাংশ মুসলিম শরীফে নেই। হয়তো বা অন্য কপিতে আছে।)[১]

সহীহুল বুখারী ২০২৪, মুসলিম ১১৭৫, তিরমিযী ৭৯৬, নাসায়ী ১৬৩৯ ঐ

অনুবাদের উৎস

সংকলক:
মুহিউদ্দীন আবূ যাকারিয়্যা ইয়াহইয়া বিন শারফ আন্‌-নাবাবী (রহ.)
প্রকাশক:
তাওহীদ পাবলিকেশন্স
মতামত ও সংশোধনের শর্তাবলি

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৬/১২০২-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা রমযান মাসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর ইবাদতের চেষ্টার কথা বলেছেন। তিনি জানান, নবীজি صلى الله عليه وسلم রমযানে এমন পরিশ্রম করতেন, যা অন্য মাসে করতেন না। আবার রমযানের শেষ দশকে তাঁর মেহনত আরও বেড়ে যেত। এতে বোঝা যায়, রমযান আল্লাহর কাছে ফিরে যাওয়ার বিশেষ সময়। আর শেষ দশক আরও বেশি যত্নের সময়। এই হাদিস থেকে রমযানের আমল, শেষ দশকের ইবাদত এবং শবে কদরের প্রস্তুতির দিকটি সহজভাবে বোঝা যায়। এখানে কোনো নির্দিষ্ট আমলের সংখ্যা বলা হয়নি; বরং বেশি চেষ্টা, মনোযোগ ও ইবাদতের আগ্রহের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • রমযানে অন্য সময়ের চেয়ে বেশি ইবাদতে মনোযোগ দেওয়া উচিত।
  • শেষ দশকে ইবাদতের মেহনত আরও বাড়ানো নবীজির আমল।
  • ইবাদতের ক্ষেত্রে আন্তরিক চেষ্টা ও নিয়মিততা গুরুত্বপূর্ণ।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন