১/১৫. অধ্যায়ঃ

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/১৫৭ - রাতের অযীফা ছুটে গেলে করণীয়

আমলের রক্ষণাবেক্ষণ

আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ ۞أَلَمۡ يَأۡنِ لِلَّذِينَ ءَامَنُوٓاْ أَن تَخۡشَعَ قُلُوبُهُمۡ لِذِكۡرِ ٱللَّهِ وَمَا نَزَلَ مِنَ ٱلۡحَقِّ وَلَا يَكُونُواْ كَٱلَّذِينَ أُوتُواْ ٱلۡكِتَٰبَ مِن قَبۡلُ فَطَالَ عَلَيۡهِمُ ٱلۡأَمَدُ فَقَسَتۡ قُلُوبُهُمۡۖ ﴿ [الحديد: ١٦]অর্থাৎ “যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে তাদের সময় কি আসেনি যে, আল্লাহর স্মরণে এবং যে সত্য অবতীর্ণ হয়েছে তাতে তাদের হৃদয় ভক্তি-বিগলিত হবে? এবং পূর্বে যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছিল তাদের মত তারা হবে না? বহুকাল অতিক্রান্ত হয়ে গেলে যাদের অন্তর কঠিন হয়ে পড়েছিল।” (সূরা হাদীদ ১৬ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ وَقَفَّيۡنَا بِعِيسَى ٱبۡنِ مَرۡيَمَ وَءَاتَيۡنَٰهُ ٱلۡإِنجِيلَۖ وَجَعَلۡنَا فِي قُلُوبِ ٱلَّذِينَ ٱتَّبَعُوهُ رَأۡفَةٗ وَرَحۡمَةٗۚ وَرَهۡبَانِيَّةً ٱبۡتَدَعُوهَا مَا كَتَبۡنَٰهَا عَلَيۡهِمۡ إِلَّا ٱبۡتِغَآءَ رِضۡوَٰنِ ٱللَّهِ فَمَا رَعَوۡهَا حَقَّ رِعَايَتِهَاۖ ﴿ [الحديد: ٢٧]অর্থাৎ “অতঃপর আমি তাদের অনুগামী করেছিলাম আমার রাসূলগণকে এবং অনুগামী করেছিলাম মারয়্যাম তনয় ঈসাকে আর তাকে দিয়েছিলাম ইঞ্জীল এবং তার অনুসারীদের অন্তরে দিয়েছিলাম করুণা ও দয়া; কিন্তু সন্ন্যাসবাদ এটা তো তারা নিজেরা প্রবর্তন করেছিল, আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের বিধান ছাড়া আমি তাদেরকে এ (সন্ন্যাসবাদে)র বিধান দিইনি; অথচ এটাও তারা যথাযথভাবে পালন করেনি।” (সূরা হাদীদ ২৭ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ وَلَا تَكُونُواْ كَٱلَّتِي نَقَضَتۡ غَزۡلَهَا مِنۢ بَعۡدِ قُوَّةٍ أَنكَٰثٗا ﴿ [النحل: ٩٢]অর্থাৎ “তোমরা সে নারীর মত হয়ো না, যে তার সুতা মজবুত করে পাকাবার পর ওর পাক খুলে নষ্ট করে দেয়।” (সূরা নাহ্‌ল ৯২ আয়াত)তিনি অন্যত্রে বলেছেন,﴾ وَٱعۡبُدۡ رَبَّكَ حَتَّىٰ يَأۡتِيَكَ ٱلۡيَقِينُ ٩٩ ﴿ [الحجر: ٩٩]অর্থাৎ “আর তোমার মৃত্যু উপস্থিত হওয়া পর্যন্ত তুমি তোমার রবের ইবাদত কর।” (সূরা হিজর ৯৯ আয়াত)এ মর্মের অন্যতম হাদীস আয়েশা রাদিয়াল্লাহু _x0091_আনহ-র হাদীস, ’‘সেই আমল তাঁর নিকট প্রিয়তম ছিল, যা তার আমলকারী লাগাতার করে থাকে।’’ যা পূর্ববর্তী পরিচ্ছেদে গত হয়েছে।

রাতের অযীফা ছুটে গেলে ফজর থেকে যোহরের মাঝে পড়ে নিন

রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১/১৫৭

وعن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال: قال رسول الله ﷺ: «من نام عن حزبه من الليل، أو عن شيء منه فقرأه ما بين صلاة الفجر وصلاة الظهر، كتب له كأنما قرأه من الليل» (رواه مسلم).

উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেন, ’’যে ব্যক্তি তার রাতের অযীফা (নামাজ বা তেলাওয়াত ইত্যাদি) রেখে ঘুমিয়ে যায়, অতঃপর সে তা ফজর ও যোহরের মধ্য সময়ে পড়ে নেয়, তাহলে তার জন্য রাতে পড়ার মতই (সওয়াব) লেখা হয়।’’[১]

মুসলিম ৭৪৭, তিরমিযী ৪০৩, নাসায়ী ১৭৯০, ১৭৯১, ১৭৯২, আবূ দাউদ ১৩১৩, ইবনু মাজাহ ১৩৪৩, আহমাদ ২২০, ৩৭৯, ৪৫, মুওয়াত্তা মালেক -৪৭০, দারেমী ১৪৭৭

রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/১৫৭-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, যে ব্যক্তি তার রাতের অযীফা বা এর কোনো অংশ রেখে ঘুমিয়ে যায়, তারপর ফজর ও যোহরের মাঝের সময়ে তা পড়ে নেয়, তার জন্য রাতে পড়ার মতোই লেখা হয়। এখানে রাতের অযীফা বলতে নামাজ, তেলাওয়াত বা নির্দিষ্ট ইবাদতের অংশ বোঝানো হয়েছে, যা ব্যক্তি নিয়মিত করত। হাদিসটি মানুষকে হতাশ না হতে শেখায়। কখনো ঘুম, ক্লান্তি বা অন্য কারণে রাতের আমল ছুটে যেতে পারে। কিন্তু সুযোগ থাকলে দিনের নির্দিষ্ট সময়ে তা আদায় করে নেওয়া ভালো। এতে নিয়মিত আমলের প্রতি যত্ন থাকে এবং বাদ পড়ে যাওয়া অংশ পূরণ করার অভ্যাস তৈরি হয়। এই শিক্ষা ধারাবাহিক ইবাদতের জন্য খুব উপকারী।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • রাতের নিয়মিত আমল ছুটে গেলে তা পূরণ করার সুযোগ আছে।
  • ফজর থেকে যোহরের মাঝের সময়ে অযীফা পড়ে নেওয়া ভালো।
  • নিয়মিত ইবাদত ধরে রাখতে ছুটে যাওয়া আমল পূরণ করা সহায়ক।

এই সম্পর্কিত হাদিসসমূহ

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন