১৮/৩৫০. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/১৭৭৯ - শাস্তি প্রয়োগে পক্ষপাত নয়
ইসলামী দণ্ড বিধান প্রয়োগ না করার জন্য সুপারিশ করা হারাম
মহান আল্লাহ বলেছেন,﴾الزَّانِيَةُ وَالزَّانِي فَاجْلِدُوا كُلَّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا مِائَةَ جَلْدَةٍ ۖ وَلَا تَأْخُذْكُمْ بِهِمَا رَأْفَةٌ فِي دِينِ اللَّهِ إِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ﴿ [النور : ٢]অর্থাৎ ব্যভিচারিণী ও ব্যভিচারী, এদের প্রত্যেককে একশো করে বেত্রাঘাত কর। আল্লাহর বিধান প্রয়োগ করার সময় তাদের প্রতি কোন দয়া যেন তোমাদেরকে অভিভূত না করে; যদি [সত্যিকারে] তোমরা আল্লাহর প্রতি ও কিয়ামতের দিনের প্রতি ঈমান এনে থাক।(সূরা নূর ২ আয়াত)
ন্যায়বিচারে পক্ষপাত নয়: মাখযূমী নারীর হাদিস
রিয়াদুস সালেহীন : ১/১৭৭৯
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১/১৭৭৯
وَعَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللهُ عَنهَا: أَنَّ قُرَيْشاً أَهَمَّهُمْ شَأْنُ المَرْأَةِ المَخْزُومِيَّةِ الَّتِي سَرَقَتْ، فَقَالُوا : مَنْ يُكَلِّمُ فِيهَا رَسُولَ اللهِ ﷺ؟ فَقَالُوا: وَمَنْ يَجْتَرِئُ عَلَيْهِ إِلاَّ أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ، حِبُّ رَسُولِ اللهِ ﷺ . فَكَلَّمَهُ أُسَامَةُ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ: «أَتَشْفَعُ فِي حَدٍّ مِنْ حُدُودِ اللهِ تَعَالَى؟!» ثُمَّ قَامَ فاخْتَطَبَ، ثُمَّ قَالَ: «إِنَّمَا أَهْلَكَ الَّذِينَ قَبْلَكُمْ أَنَّهُمْ كَانُوا إِذَا سَرَقَ فِيِهمُ الشَّرِيفُ تَرَكُوهُ، وَإِذَا سَرَقَ فِيهِمُ الضَّعِيفُ، أَقَامُوا عَلَيْهِ الحَدَّ، وَأَيْمُ اللهِ لَوْ أَنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ مُحَمَّدٍ سَرَقَتْ لَقَطَعْتُ يَدَهَا». متفق عَلَيْهِ.وفي روايةٍ : فَتَلوَّنَ وَجْهُ رَسُولِ اللهِ ﷺ، فَقَالَ: «أَتَشْفَعُ فِي حَدٍّ مِنْ حُدُودِ اللهِ!؟» فَقَالَ أُسَامَةُ: اسْتَغْفِرْ لِي يَا رَسُولَ اللهِ ﷺ ﷺ. قَالَ: ثُمَّ أَمَرَ بِتِلْكَ المَرْأَةِ فَقُطِعَتْ يَدُهَا
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
চুরির অপরাধে অপরাধিনী মাখযূম গোত্রের একজন মহিলার ব্যাপার কুরাইশ বংশের লোকদের খুব দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল। সাহাবীগণ বললেন, ’ওর ব্যাপারে আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর সঙ্গে কে কথা বলতে পারবে?’ তাঁরা বললেন, ’রাসূল (ﷺ)-এর প্রিয় পাত্র উসামা ইবনে যায়েদ ছাড়া কেউ এ সাহস পাবে না।’ সুতরাং উসামা রাসূল (ﷺ)-এর সঙ্গে কথা বললেন। তিনি বলে উঠলেন, ’’তুমি আল্লাহর এক দণ্ডবিধান [প্রয়োগ না করার] ব্যাপারে সুপারিশ করছ?’’পরক্ষণেই তিনি দাঁড়িয়ে খুতবা দিলেন এবং বললেন, ’’[হে লোক সকল!] নিশ্চয় তোমাদের পূর্ববর্তী সম্প্রদায়ের লোকেরা এ জন্য ধ্বংস হয়েছিল যে, যখন তাদের কোন সম্মানিত ব্যক্তি চুরি করত, তখন তারা তাকে ছেড়ে দিত। আর যখন তাদের কোন দুর্বল লোক চুরি করত, তখন তার উপর শরীয়তের শাস্তি প্রয়োগ করত। আল্লাহর কসম! যদি মুহাম্মাদের কন্যা ফাতিমাও চুরি করত, তাহলে অবশ্যই আমি তার হাতও কেটে দিতাম।’’(বুখারী ও মুসলিম)অন্য এক বর্ণনায় আছে, [উসামার সুপারিশে] আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-এর চেহারা রঙিন [লাল] হয়ে গেল। তিনি বললেন, ’’তুমি কি আল্লাহর এক দণ্ডবিধান [কায়েম না করার] ব্যাপারে সুপারিশ করছ?!’’ উসামা বললেন, ’আমার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন, হে আল্লাহর রাসূল!’ বর্ণনাকারী বলেন, ’অতঃপর নবী (ﷺ) আদেশ দিলে ঐ মহিলার হাত কেটে দেওয়া হল।’
সহীহুল বুখারী ২৬৪৮, ৩৪৭৫, ৩৭৩৩, ৪৩০৪, ৬৭৮৭, ৬৭৮৮, ৬৮০০, মুসলিম ১৬৮৮, তিরমিযী ১৪৩০, নাসায়ী ৪৮৯৫, ৪৮৯৭-৪৯০৩, আবূ দাউদ ৪৩৭৩, ইবনু মাজাহ ২৫৪৭, আহমাদ ২২৯৬৮, ২৪৭৬৯, দারেমী ২৩০২
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/১৭৭৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ন্যায়বিচারের এক শক্তিশালী শিক্ষা আছে। মাখযূম গোত্রের এক নারী চুরির অপরাধে ধরা পড়লে কুরাইশরা চিন্তিত হয় এবং উসামা ইবনে যায়েদ (রাঃ)-কে সুপারিশের জন্য পাঠায়। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) এতে কঠোরভাবে বলেন, তুমি কি আল্লাহর এক দণ্ডবিধানের ব্যাপারে সুপারিশ করছ? এরপর তিনি খুতবায় বলেন, আগের জাতিরা ধ্বংস হয়েছিল কারণ সম্মানিত লোক চুরি করলে ছাড় দিত, আর দুর্বল লোক চুরি করলে শাস্তি দিত। তিনি শপথ করে বলেন, ফাতিমা (রাঃ) চুরি করলেও তিনি শাস্তি প্রয়োগ করতেন। মূল শিক্ষা হলো—আইন ও বিচার মর্যাদা দেখে বদলানো যায় না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আল্লাহর দণ্ডবিধান প্রয়োগের বিষয়ে পক্ষপাত করা যায় না।
- সম্মানিত ও দুর্বল—সবার জন্য ন্যায় একই হওয়া দরকার।
- অপরাধের ব্যাপারে অন্যায় সুপারিশ নিন্দিত।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) ন্যায়বিচারে আত্মীয়তার ঊর্ধ্বে থাকার শিক্ষা দিয়েছেন।
