১/৩৯. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৩/৩১০ - প্রতিবেশীকে কষ্ট দেওয়ার ভয়াবহতা
প্রতিবেশীর অধিকার এবং তার সাথে সদ্ব্যবহার করার গুরুত্ব
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾وَٱعۡبُدُواْ ٱللَّهَ وَلَا تُشۡرِكُواْ بِهِۦ شَيۡٔٗاۖ وَبِٱلۡوَٰلِدَيۡنِ إِحۡسَٰنٗا وَبِذِي ٱلۡقُرۡبَىٰ وَٱلۡيَتَٰمَىٰ وَٱلۡمَسَٰكِينِ وَٱلۡجَارِ ذِي ٱلۡقُرۡبَىٰ وَٱلۡجَارِ ٱلۡجُنُبِ وَٱلصَّاحِبِ بِٱلۡجَنۢبِ وَٱبۡنِ ٱلسَّبِيلِ وَمَا مَلَكَتۡ أَيۡمَٰنُكُمۡۗ﴿ [النساء: ٣٦]অর্থাৎ তোমরা আল্লাহর উপাসনা কর ও কোন কিছুকে তাঁর অংশী করো না এবং পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, পিতৃহীন, অভাবগ্রস্ত, আত্মীয় ও অনাত্মীয় প্রতিবেশী, সঙ্গী-সাথী, পথচারী এবং তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসীদের প্রতি সদ্ব্যবহার কর। (সূরা নিসা ৩৬ আয়াত)
প্রতিবেশীকে কষ্ট দেওয়া: ঈমানের সঙ্গে সম্পর্কিত কঠিন সতর্কতা
রিয়াদুস সালেহীন : ৩/৩১০
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৩/৩১০
وَعَن أَبي هُرَيرَةَ رضي الله عنه : أَنَّ النَّبيَّ ﷺ، قَالَ: «وَاللهِ لاَ يُؤْمِنُ، وَاللهِ لاَ يُؤْمِنُ، وَاللهِ لاَ يُؤْمِنُ!» قِيلَ : مَنْ يَا رَسُولَ اللهِ ﷺ؟ قَالَ: «الَّذِي لاَ يَأمَنُ جَارُهُ بَوَائِقَهُ!». مُتَّفَقٌ عَلَيهِوفي رواية لمسلم: لا يَدْخُلُ الجَنَّةَ مَنْ لاَ يَأمَنُ جَارُهُ بَوَائِقَهُ
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) বলেছেন, ’’আল্লাহর কসম! সে ব্যক্তি মুমিন নয়। আল্লাহর কসম! সে ব্যক্তি মুমিন নয়। আল্লাহর কসম! সে ব্যক্তি মুমিন নয়।’’ জিজ্ঞেস করা হল, ’কোন ব্যক্তি? হে আল্লাহর রাসূল!’ তিনি বললেন, ’’যে লোকের প্রতিবেশী তার অনিষ্ট থেকে নিরাপদে থাকে না।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [১] মুসলিমের এক বর্ণনায় আছে, ঐ ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যার অনিষ্ট থেকে তার প্রতিবেশী নিরাপদে থাকে না।
সহীহুল বুখারী ৬০১৬, আহমাদ ১৫৯৩৫, ২৬৬২০
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- মুহিউদ্দীন আবূ যাকারিয়্যা ইয়াহইয়া বিন শারফ আন্-নাবাবী (রহ.)
- প্রকাশক:
- তাওহীদ পাবলিকেশন্স
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৩/৩১০-এর সারসংক্ষেপ
মূল বিষয়: প্রতিবেশীর নিরাপত্তা। এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم প্রতিবেশীকে কষ্ট দেওয়ার বিষয়ে অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছেন। তিনি তিনবার কসম করে বলেছেন, সে ব্যক্তি মুমিন নয়। জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, যার প্রতিবেশী তার অনিষ্ট থেকে নিরাপদে থাকে না। মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে, যার অনিষ্ট থেকে প্রতিবেশী নিরাপদ নয়, সে জান্নাতে প্রবেশ করবে না। এখানে মূল শিক্ষা হলো, ঈমান শুধু মুখের কথা নয়; মানুষের আচরণে তার প্রভাব থাকতে হবে। প্রতিবেশী যদি ভয়, ক্ষতি বা অনিরাপত্তায় থাকে, তাহলে তা বড় সমস্যা। হাদিসটি আমাদের শেখায়, ভালো মুসলিম হতে চাইলে পাশের মানুষের নিরাপত্তা ও শান্তির দিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রতিবেশীকে কষ্ট দেওয়া ঈমানের জন্য গুরুতর বিষয়।
- প্রতিবেশীর নিরাপত্তা রক্ষা করা মুসলিমের দায়িত্ব।
- মুখের দাবি নয়, আচরণেও ঈমানের ছাপ থাকা দরকার।
- নিজের ক্ষতি থেকে প্রতিবেশীকে নিরাপদ রাখা জরুরি।
