১/৩. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৭/৩২ - প্রথম আঘাতে সবর
সবর (ধৈর্যের) বিবরণ
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱصۡبِرُواْ وَصَابِرُواْ ﴿ [ال عمران: ٢٠٠]অর্থাৎ “হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা ধৈর্য ধারণ কর এবং ধৈর্য ধারণে প্রতিযোগিতা কর।” (সূরা আলে ইমরান ২০০ আয়াত)তিনি আরও বলেন,﴾وَلَنَبۡلُوَنَّكُم بِشَيۡءٖ مِّنَ ٱلۡخَوۡفِ وَٱلۡجُوعِ وَنَقۡصٖ مِّنَ ٱلۡأَمۡوَٰلِ وَٱلۡأَنفُسِ وَٱلثَّمَرَٰتِۗ وَبَشِّرِ ٱلصَّٰبِرِينَ ١٥٥﴿ [البقرة: ١٥٥]অর্থাৎ “নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে কিছু ভয় ও ক্ষুধা দ্বারা এবং কিছু ধনপ্রাণ এবং ফলের (ফসলের) নোকসান দ্বারা পরীক্ষা করব; আর তুমি ধৈর্যশীলদেরকে সুসংবাদ দাও।” (সূরা বাকারাহ ১৫৫ আয়াত)তিনি আরও বলেন,﴾ إِنَّمَا يُوَفَّى ٱلصَّٰبِرُونَ أَجۡرَهُم بِغَيۡرِ حِسَابٖ﴿ [الزمر: ١٠]অর্থাৎ “ধৈর্যশীলদেরকে তো অপরিমিত পুরস্কার দেওয়া হবে।” (সূরা যুমার ১০ আয়াত)তিনি অন্যত্র বলেন,﴾ وَلَمَن صَبَرَ وَغَفَرَ إِنَّ ذَٰلِكَ لَمِنۡ عَزۡمِ ٱلۡأُمُورِ ٤٣ ﴿ [الشورا: ٤٣]অর্থাৎ “অবশ্যই যে ধৈর্য ধারণ করে এবং ক্ষমা করে, নিশ্চয় তা দৃঢ়-সংকল্পের কাজ।” (সূরা শুরা ৪৩ আয়াত)﴾ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱسۡتَعِينُواْ بِٱلصَّبۡرِ وَٱلصَّلَوٰةِۚ إِنَّ ٱللَّهَ مَعَ ٱلصَّٰبِرِينَ ١٥٣ ﴿ [البقرة: ١٥٣]অর্থাৎ “হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা ধৈর্য ও নামাযের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে থাকেন।” (সূরা বাকারাহ ১৫৩ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ وَلَنَبۡلُوَنَّكُمۡ حَتَّىٰ نَعۡلَمَ ٱلۡمُجَٰهِدِينَ مِنكُمۡ وَٱلصَّٰبِرِينَ وَنَبۡلُوَاْ أَخۡبَارَكُمۡ ٣١ ﴿ [محمد: ٣١]অর্থাৎ “আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব যতক্ষণ না আমি তোমাদের মধ্যে মুজাহিদ ও ধৈর্যশীলদেরকে জেনে নই এবং আমি তোমাদের অবস্থা পরীক্ষা করি।” (সূরা মুহাম্মাদ ৩১ আয়াত)আয়াতসমূহে ধৈর্যের আদেশ এবং তার মাহাত্ম্য বর্ণনা করা হয়েছে তার সংখ্যা অনেক ও প্রসিদ্ধ।
প্রথম আঘাতে সবর: বিপদের শুরুতেই নিজেকে সামলানোর শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ৭/৩২
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৭/৩২
وَعَنْ أَنَسٍ رَضِي اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : مَرَّ النَّبِيُّ صَلّى االلهُ عَلَيْهِ وسَلَّم بِامْرَأَةٍ تَبْكِي عِنْدَ قَبْرٍ فَقَال : «اتَّقِي االلهوَاصْبِرِي» فَقَالَتْ : إِلَيْكَ عَنِّي، فَإِنِّكَ لَمْ تُصَبْ بمُصِيبتى، وَلَمْ تعْرفْهُ، فَقيلَ لَها : إِنَّه النَّبِيُّ صَلّى االلهُ عَلَيْهِوسَلَّم، فَأَتتْ بَابَ النَّبِّي صَلّى االلهُ عَلَيْهِ وسَلَّم، فلَمْ تَجِد عِنْدَهُ بَوَّابينَ، فَقالتْ : لَمْ أَعْرِفْكَ، فقالَ : «إِنَّماالصَّبْرُ عِنْدَ الصَّدْمَةِ الأولَى» متفقٌ عليه. وفي رواية لمُسْلمٍ : «تَبْكِي عَلَى صَبيٍّ لَهَا»
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) একটি মহিলার পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন। সে একটি কবরের পাশে বসে কাঁদছিল। তিনি বললেন, ’’তুমি আল্লাহকে ভয় কর এবং ধৈর্য ধারণ কর।’’ সে বলল, ’আপনি আমার নিকট হতে দূরে সরে যান। কারণ, আমি যে বিপদে পড়েছি আপনি তাতে পড়েননি।’ সে তাঁকে চিনতে পারেনি (তাই সে চরম শোকে তাঁকে অসঙ্গত কথা বলে ফেলল)। অতঃপর তাকে বলা হল যে, ’তিনি নবী (ﷺ) ছিলেন।’ সুতরাং (এ কথা শুনে) সে নবী (ﷺ)-এর দুয়ারের কাছে এল। সেখানে সে দারোয়ানদেরকে পেল না। অতঃপর সে (সরাসরি প্রবেশ করে) বলল, ’আমি আপনাকে চিনতে পারিনি।’ তিনি (ﷺ) বললেন, ’’আঘাতের শুরুতে সবর করাটাই হল প্রকৃত সবর।’’ মুসলিমের একটি বর্ণনায় আছে, সে (মহিলাটি) তার মৃত শিশুর জন্য কাঁদছিল।
সহীহুল বুখারী ১২৫২, ১২৮৩, ১৩০২, ৭১৫৪, মুসলিম ৯২৬, তিরমিযী ৯৮৮, নাসায়ী ১৮৬৯, আবূ দাউদ ৩১২৪, ইবনুূু মাজাহ ১৫৯৬, আহমাদ ১১৯০৮, ১২০৪৯, ১২৮৬০।
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৭/৩২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক নারী কবরের পাশে বসে কাঁদছিল। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাকে আল্লাহকে ভয় করতে এবং ধৈর্য ধরতে বললেন। সে শোকের কারণে নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে চিনতে পারেনি এবং কঠিন কথা বলে ফেলল। পরে জানতে পারল, তিনি নবী (صلى الله عليه وسلم)। তখন সে তাঁর দরজায় এসে বলল, সে তাঁকে চিনতে পারেনি। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) তখন বললেন, প্রকৃত সবর হলো আঘাতের প্রথম মুহূর্তে। এই হাদিস খুব বাস্তব শিক্ষা দেয়। বিপদ এলে কষ্ট হবে, কান্নাও আসতে পারে। কিন্তু প্রথম ধাক্কায় মুখ, আচরণ ও অন্তরকে আল্লাহর ভয়ের মধ্যে রাখা—এটাই বড় পরীক্ষা। তাই সবর শুধু পরে শান্ত হওয়া নয়; বিপদের শুরুতেই নিজেকে সামলানোর চেষ্টা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- বিপদের প্রথম মুহূর্তে ধৈর্য ধরা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
- শোকের সময়ও আল্লাহভীতি ভুলে যাওয়া উচিত নয়।
- কষ্টের কারণে ভুল কথা হলে তা বুঝে ফিরে আসা দরকার।
- নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর দরজায় দারোয়ান না থাকা তাঁর সহজ আচরণের ইঙ্গিত দেয়।
