১/৩. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৮/৩৩ - প্রিয়জন হারিয়ে সবর
সবর (ধৈর্যের) বিবরণ
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱصۡبِرُواْ وَصَابِرُواْ ﴿ [ال عمران: ٢٠٠]অর্থাৎ “হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা ধৈর্য ধারণ কর এবং ধৈর্য ধারণে প্রতিযোগিতা কর।” (সূরা আলে ইমরান ২০০ আয়াত)তিনি আরও বলেন,﴾وَلَنَبۡلُوَنَّكُم بِشَيۡءٖ مِّنَ ٱلۡخَوۡفِ وَٱلۡجُوعِ وَنَقۡصٖ مِّنَ ٱلۡأَمۡوَٰلِ وَٱلۡأَنفُسِ وَٱلثَّمَرَٰتِۗ وَبَشِّرِ ٱلصَّٰبِرِينَ ١٥٥﴿ [البقرة: ١٥٥]অর্থাৎ “নিশ্চয়ই আমি তোমাদেরকে কিছু ভয় ও ক্ষুধা দ্বারা এবং কিছু ধনপ্রাণ এবং ফলের (ফসলের) নোকসান দ্বারা পরীক্ষা করব; আর তুমি ধৈর্যশীলদেরকে সুসংবাদ দাও।” (সূরা বাকারাহ ১৫৫ আয়াত)তিনি আরও বলেন,﴾ إِنَّمَا يُوَفَّى ٱلصَّٰبِرُونَ أَجۡرَهُم بِغَيۡرِ حِسَابٖ﴿ [الزمر: ١٠]অর্থাৎ “ধৈর্যশীলদেরকে তো অপরিমিত পুরস্কার দেওয়া হবে।” (সূরা যুমার ১০ আয়াত)তিনি অন্যত্র বলেন,﴾ وَلَمَن صَبَرَ وَغَفَرَ إِنَّ ذَٰلِكَ لَمِنۡ عَزۡمِ ٱلۡأُمُورِ ٤٣ ﴿ [الشورا: ٤٣]অর্থাৎ “অবশ্যই যে ধৈর্য ধারণ করে এবং ক্ষমা করে, নিশ্চয় তা দৃঢ়-সংকল্পের কাজ।” (সূরা শুরা ৪৩ আয়াত)﴾ يَٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُواْ ٱسۡتَعِينُواْ بِٱلصَّبۡرِ وَٱلصَّلَوٰةِۚ إِنَّ ٱللَّهَ مَعَ ٱلصَّٰبِرِينَ ١٥٣ ﴿ [البقرة: ١٥٣]অর্থাৎ “হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা ধৈর্য ও নামাযের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে থাকেন।” (সূরা বাকারাহ ১৫৩ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ وَلَنَبۡلُوَنَّكُمۡ حَتَّىٰ نَعۡلَمَ ٱلۡمُجَٰهِدِينَ مِنكُمۡ وَٱلصَّٰبِرِينَ وَنَبۡلُوَاْ أَخۡبَارَكُمۡ ٣١ ﴿ [محمد: ٣١]অর্থাৎ “আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব যতক্ষণ না আমি তোমাদের মধ্যে মুজাহিদ ও ধৈর্যশীলদেরকে জেনে নই এবং আমি তোমাদের অবস্থা পরীক্ষা করি।” (সূরা মুহাম্মাদ ৩১ আয়াত)আয়াতসমূহে ধৈর্যের আদেশ এবং তার মাহাত্ম্য বর্ণনা করা হয়েছে তার সংখ্যা অনেক ও প্রসিদ্ধ।
প্রিয়জন হারিয়ে সবর: সওয়াবের আশায় ধৈর্যের মর্যাদা
রিয়াদুস সালেহীন : ৮/৩৩
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৮/৩৩
وَعَنْ أبي هَرَيرَةَ رَضي اللَّه عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّه صَلّى االلهُ عَلَيْهِ وسَلَّم قالَ : «يَقولُ اللَّهُ تَعَالَى: مَا لِعَبْدِيالمُؤْمِنِ عِنْدِي جَزَاءٌ إِذَا قَبضْتُ صَفِيَّهُ مِنْ أَهْلِ الدُّنْيَا ثُمَّ احْتَسَبهُ إِلاَّ الجَنَّة» رواه البخاري
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আল্লাহর রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ’’আল্লাহ তা’আলা বলেন, ’আমার মু’মিন বান্দার জন্য আমার নিকট জান্নাত ব্যতীত অন্য কোন পুরস্কার নেই, যখন আমি তার দুনিয়ার প্রিয়তম কাউকে কেড়ে নই এবং সে সওয়াবের নিয়তে সবর করে।’’
সহীহুল বুখারী ১২৮৩, ১২৫২, ১৩০২, ৭১৫৪, মুসলিম ৯২৬, তিরমিযী ৯৮৮, নাসায়ী ১৮৬৯, আবূ দাউদ ৩১২৪, ইবনু মাজাহ ১৫৯৬, আহমাদ ১১৯০৮, ১২০৪৯, ১২৮৬০।
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৮/৩৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আল্লাহ তা’আলা মুমিন বান্দার এক গভীর কষ্টের কথা বলেছেন—দুনিয়ার প্রিয়তম কাউকে হারানো। প্রিয়জনের মৃত্যু মানুষের হৃদয়ে বড় আঘাত দেয়। কিন্তু হাদিসে বলা হয়েছে, যখন আল্লাহ তাঁর মুমিন বান্দার প্রিয় কাউকে নিয়ে নেন এবং সে সওয়াবের আশায় সবর করে, তখন তার জন্য জান্নাত ছাড়া অন্য পুরস্কার নেই। এখানে সবর মানে কষ্ট না পাওয়া নয়। বরং কষ্টের মধ্যেও আল্লাহর ফয়সালা মেনে নেওয়া এবং প্রতিদান আল্লাহর কাছে আশা করা। এই হাদিস শোকের সময় মুমিনকে আশা দেয়, তার কান্না ও বেদনার ভেতরেও আল্লাহর কাছে বড় প্রতিদানের দরজা খুলে থাকতে পারে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- প্রিয়জন হারানো বড় পরীক্ষা হতে পারে।
- সওয়াবের আশা নিয়ে ধৈর্য ধরা মুমিনের গুণ।
- শোকের সময় আল্লাহর ফয়সালা মেনে নেওয়া দরকার।
- হাদিসে এমন ধৈর্যের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ এসেছে।
