৭/১৫৭. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/৯৪০ - জানাযার দোয়া ও মৃতের জন্য মাগফিরাত
জানাযার নামাযে যে সব দো‘আ পড়া হয়
জানাযার নামাযে চার তকবীর বলবে। প্রথম তকবীরের পর ‘আউযু বিল্লাহ’ পড়ে সূরা ফাতিহা পড়বে। অতঃপর দ্বিতীয় তকবীর বলে নবী (ﷺ)-এর প্রতি দরূদ পড়বে। বলবে, ‘আল্লাহুম্মা স্বাল্লি আলা মুহাম্মাদ, অআলা আ-লি মুহাম্মাদ।’ উত্তম হল ‘কামা স্বাল্লাইতা আলা ইবরা-হীমা অ আলা আ-লি ইবরা-হীম, ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ’ পর্যন্ত পুরো পড়া। অধিকাংশ সাধারণ লোকের মত শুধু (সূরা আহযাবের ৫৬নং) এই আয়াতটি ‘ইন্নাল্লাহা অমালাইকাতাহু ইউস্বাল্লূনা আলান নবী’ যেন না পড়ে। কারণ, এইটুকু পড়েই যথেষ্ট করলে নামায শুদ্ধ হবে না।অতঃপর তৃতীয় তকবীর বলে মৃতের এবং সকল মুসলিমের জন্য যে সমস্ত দো‘আ পড়বে সে সম্পর্কিত একাধিক হাদীস আমি পরবর্তীতে বর্ণনা করব—ইন-শাআল্লাহু তা‘আলা। পুনরায় চতুর্থ তকবীর বলবে এবং দো‘আ করবে। এখানে সর্বোত্তম দো‘আর মধ্যে এটি একটি, ‘আল্লা-হুম্মা লা তাহরিমনা আজরাহু অলা তাফতিন্না বা‘দাহ, অগফির লানা অ লাহ।’চতুর্থ তকবীরের পর লম্বা দো‘আ করা পছন্দনীয়, অথচ অধিকাংশ লোকের এর বিপরীত অভ্যাস রয়েছে। এ ব্যাপারে ইবনে আবী আওফা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে প্রমাণিত আছে, যা পরবর্তীতে উল্লেখ করব---ইন-শাআল্লাহু তা‘আলা।পক্ষান্তরে তৃতীয় তকবীরের পর যে দো‘আগুলি প্রমাণিত আছে তার মধ্যে কিছু নিম্নরূপঃ-
জানাযার দোয়া: মৃতের জন্য ক্ষমা, রহমত ও জান্নাতের প্রার্থনা
রিয়াদুস সালেহীন : ১/৯৪০
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ১/৯৪০
عَن أَبي عَبدِ الرَّحمَانِ عَوفِ بنِ مَالِكٍ رضي الله عنه، قَالَ: صَلَّى رَسُولُ اللهِ ﷺ ﷺ عَلَى جَنازَةٍ، فَحَفِظْتُ مِنْ دُعَائِهِ، وَهُوَ يَقُولُ: « اَللّٰهُمَّ اغْفِرْ لَهُ وَارْحَمْهُ، وَعَافِهِ وَاعْفُ عَنْهُ، وَأكْرِمْ نُزُلَهُ، وَوَسِّعْ مُدْخَلَهُ، وَاغْسِلْهُ بِالمَاءِ وَالثَّلْجِ وَالبَرَدِ، وَنَقِّهِ مِن الخَطَايَا كَمَا نَقَّيْتَ الثَّوْبَ الأَبْيَضَ مِنَ الدَّنَس، وَأَبدِلْهُ دَاراً خَيْراً مِنْ دَارِهِ، وَأَهْلاً خَيراً مِنْ أَهْلِهِ، وَزَوْجَاً خَيْراً مِنْ زَوْجِهِ، وَأَدْخِلهُ الجَنَّةَ، وَأَعِذْهُ مِنْ عَذَابِ القَبْرِ، وَمِنْ عَذَابِ النَّارِ ». حَتَّى تَمَنَّيتُ أَنْ أَكُونَ أنَا ذَلِكَ الْمَيِّت. رواه مسلم
আবূ আব্দুর রহমান আওফ ইবনে মালেক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এক জানাযায় নামায পড়লেন। আমি তাঁর দোয়া মুখস্থ করে ফেললাম। সে দোয়া হল এইঃ- ’আল্লা-হুম্মাগফির লাহু অরহামহু অ’আ-ফিহী অ’ফু ’আনহু অআকরিম নুযুলাহু অঅসসি’ মুদখালাহু, অগসিলহু বিলমা-ই অসসালজি অল-বারাদ। অনাক্কিহী মিনাল খাত্বায়্যা কামা নাক্কাইতাস সাউবাল আবয়্যাদা মিনাদ দানাস। অ আবদিলহু দা-রান খাইরাম মিন দা-রিহী অ আহলান খাইরাম মিন আহলিহী অযাওজান খাইরাম মিন যাওজিহ। অ আদখিলহুল জান্নাতা অ আ’ইযহু মিন ’আযা-বিল ক্বাবরি অমিন ’আযা-বিন্নার।’অর্থ-হে আল্লাহ! তুমি ওকে ক্ষমা করে দাও এবং ওকে রহম কর। ওকে নিরাপত্তা দাও এবং মার্জনা করে দাও, ওর মেহেমানী সম্মানজনক কর এবং ওর প্রবেশস্থল প্রশস্ত কর। ওকে তুমি পানি, বরফ ও শিলাবৃষ্টি দ্বারা ধৌত করে দাও এবং ওকে গোনাহ থেকে এমন পরিষ্কার কর, যেমন তুমি সাদা কাপড় ময়লা থেকে পরিষ্কার করেছ। আর ওকে তুমি ওর ঘর অপেক্ষা উৎকৃষ্ট ঘর, ওর পরিবার অপেক্ষা উত্তম পরিবার, ওর জুড়ী অপেক্ষা উৎকৃষ্ট জুড়ী দান কর। ওকে জান্নাতে প্রবেশ করাও এবং কবর ও জাহান্নামের আযাব থেকে রেহাই দাও।(বর্ণনাকারী সাহাবী আউফ ইবন মালেক (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রাসূল (ﷺ)-কে যখন এই দোয়া বলতে শুনলাম) তখন আমি এই কামনা করলাম যে, যদি আমি এই মাইয়্যেত হতাম! (মুসলিম) [১]
মুসলিম ৯৬৩, তিরমিযী ১০২৫, নাসায়ী ১৯৮৩, ১৯৮৪, ইবনু মাজাহ ১৫০০, আহমাদ ২৩৪৫৫, ২৩৪৮০
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ১/৯৪০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আউফ ইবনে মালেক (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم এক জানাযার নামাজে দোয়া করেছিলেন এবং তিনি সেই দোয়া মুখস্থ করেন। দোয়ায় মৃতের জন্য ক্ষমা, রহমত, নিরাপত্তা, মাফ, সম্মানজনক মেহমানি, প্রবেশস্থল প্রশস্ত করা, গুনাহ থেকে পরিষ্কার করা, উত্তম ঘর, উত্তম পরিবার, জান্নাতে প্রবেশ এবং কবর ও জাহান্নামের আযাব থেকে আশ্রয় চাওয়া হয়েছে। এই জানাযার দোয়ার হাদিস দেখায়, মৃতের জন্য দোয়া কত অর্থপূর্ণ হওয়া উচিত। জানাযার নামাজ শুধু দাঁড়ানো নয়; এতে মৃত মুসলিমের জন্য আন্তরিকভাবে আল্লাহর কাছে মাগফিরাত ও কল্যাণ চাওয়া হয়। বর্ণনাকারী দোয়ার সৌন্দর্যে এমন আকাঙ্ক্ষাও প্রকাশ করেন যে, যদি তিনি সেই মৃত ব্যক্তি হতেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জানাযার নামাজে মৃতের জন্য মাগফিরাত ও রহমতের দোয়া করা উচিত।
- কবর ও জাহান্নামের আযাব থেকে মুক্তি চাওয়ার দোয়া হাদিসে এসেছে।
- মৃতের জন্য দোয়া আন্তরিক, গভীর এবং কল্যাণমুখী হওয়া উচিত।
