১/১১. অধ্যায়ঃ
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৪/৯৯ - কৃতজ্ঞ বান্দা হওয়ার জন্য রাতের কিয়াম
মুজাহাদাহ বা দ্বীনের জন্য এবং আত্মা, শয়তান ও দ্বীনের শত্রুদের বিরুদ্ধে নিরলস চেষ্টা, টানা পরিশ্রম ও আজীবন সংগ্রাম করার গুরুত্ব
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,﴾ وَٱلَّذِينَ جَٰهَدُواْ فِينَا لَنَهۡدِيَنَّهُمۡ سُبُلَنَاۚ وَإِنَّ ٱللَّهَ لَمَعَ ٱلۡمُحۡسِنِينَ ٦٩ ﴿ [العنكبوت: ٦٩]অর্থাৎ “যারা আমার উদ্দেশ্যে সংগ্রাম করে আমি অবশ্যই তাদেরকে আমার পথসমূহে পরিচালিত করব। আর আল্লাহ অবশ্যই সৎকর্মপরায়ণদের সঙ্গেই থাকেন।” (সূরা আনকাবূত ৬৯ আয়াত)তিনি অন্যত্র বলেন,﴾ وَٱعۡبُدۡ رَبَّكَ حَتَّىٰ يَأۡتِيَكَ ٱلۡيَقِينُ ٩٩ ﴿ [الحجر: ٩٩]অর্থাৎ “আর তোমার মৃত্যু উপস্থিত হওয়া পর্যন্ত তুমি তোমার প্রতিপালকের ইবাদত কর।” (সূরা হিজর ৯৯ আয়াত)তিনি আরো বলেন,﴾ وَٱذۡكُرِ ٱسۡمَ رَبِّكَ وَتَبَتَّلۡ إِلَيۡهِ تَبۡتِيلٗا ٨ ﴿ [المزمل: ٨]অর্থাৎ “সুতরাং তুমি তোমার প্রতিপালকের নাম স্মরণ কর এবং একনিষ্ঠভাবে তাতে মগ্ন হও।” (সূরা মুয্যাম্মিল ৮ আয়াত)তিনি অন্য জায়গায় বলেছেন,﴾ فَمَن يَعۡمَلۡ مِثۡقَالَ ذَرَّةٍ خَيۡرٗا يَرَهُۥ ٧ ﴿ [الزلزلة: ٧]অর্থাৎ “সুতরাং কেউ অণু পরিমাণ ভালো কাজ করলে সে তা দেখতে পাবে।” (সূরা যিলযাল ৭ আয়াত)তিনি আরো বলেছেন,﴾ وَمَا تُقَدِّمُواْ لِأَنفُسِكُم مِّنۡ خَيۡرٖ تَجِدُوهُ عِندَ ٱللَّهِ هُوَ خَيۡرٗا وَأَعۡظَمَ أَجۡرٗاۚ ﴿ [المزمل: ٢٠]অর্থাৎ “তোমরা তোমাদের আত্মার মঙ্গলের জন্য ভাল যা কিছু অগ্রিম প্রেরণ করবে তোমরা তা আল্লাহর নিকট উৎকৃষ্টতর এবং পুরস্কার হিসাবে মহত্তর পাবে।” (সূরা মুযযাম্মিল ২০ আয়াত)তিনি আরো বলেছেন,﴾ وَمَا تُنفِقُواْ مِنۡ خَيۡرٖ فَإِنَّ ٱللَّهَ بِهِۦ عَلِيمٌ ﴿ [البقرة: ٢٧٣]অর্থাৎ “আর তোমরা যা কিছু ধন-সম্পদ দান কর, আল্লাহ তা সবিশেষ অবহিত।” (সূরা বাক্বারাহ ২৭৩ আয়াত)এ বিষয়ে সুবিদিত আয়াত অনেক রয়েছে। উক্ত মর্মের হাদীসসমূহ নিম্নরূপঃ
কৃতজ্ঞ বান্দা হওয়া: নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর রাতের কিয়ামের শিক্ষা
রিয়াদুস সালেহীন : ৪/৯৯
রিয়াদুস সালেহীনহাদিস নম্বর ৪/৯৯
الرابع: عن عائشة رضي الله عنها أن النبي ﷺ كان يقوم من الليل حتى تنفطر قدماه، فقلت له: لم تصنع هذا يا رسول الله، وقد غفر الله لك ما تقدم من ذنبك وما تأخر؟! قال: «أفلا أحب أن أكون عبداً شكوراً؟» (متفق عليه. هذا لفظ البخاري، ونحوه في الصحيحين من رواية المغيرة بن شعبة).
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) রাতে (এত দীর্ঘ) কিয়াম করতেন যে, তাঁর পা দুখানি (ফুলে) ফেটে (দাগ পড়ে) যেত। একদা আমি তাঁকে বললাম, ’হে আল্লাহর রাসূল! আপনি এরূপ কাজ কেন করছেন? আল্লাহ তো আপনার আগের ও পিছের সমস্ত পাপ মোচন করে দিয়েছেন।’ তিনি বললেন, ’’আমি কি তাঁর কৃতজ্ঞ বান্দা হতে পছন্দ করব না?’’[১]
সহীহুল বুখারী ৪৮৩৭, ১১১৮, ১১১৯, ১১৪৮, ১১৬১, ১১৬২, ১১৬৮, মুসলিম ৭৩১, ২৮২০, তিরমিযী ৪১৮, নাসায়ী ১৬৪৮, ১৬৪৯, ১৬৫০, আবূ দাউদ ১২৬২, ১২৬৩, ১৬৪৯, ১৬৫০, ইবনু মাজাহ ১২২৬, ১২২৭
রিয়াদুস সালেহীন হাদিস ৪/৯৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে কৃতজ্ঞতা ও ইবাদতের গভীর শিক্ষা আছে। আয়েশা (রাঃ) বলেন, নবী (صلى الله عليه وسلم) রাতে এত দীর্ঘ কিয়াম করতেন যে তাঁর পা ফুলে বা ফেটে যেত। তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, আল্লাহ তো আপনার আগের ও পরের পাপ ক্ষমা করেছেন, তবুও আপনি কেন এত করছেন? নবী (صلى الله عليه وسلم) বললেন, আমি কি তাঁর কৃতজ্ঞ বান্দা হতে পছন্দ করব না? এখানে শিক্ষা হলো, ইবাদত শুধু পাপ মোচনের জন্য নয়; আল্লাহর দানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের পথও। নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর এই আমল আমাদের শেখায়, ক্ষমা ও মর্যাদা পাওয়া সত্ত্বেও কৃতজ্ঞতার আমল থেমে থাকে না।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইবাদত আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের বড় পথ।
- নবী (صلى الله عليه وسلم) দীর্ঘ রাতের কিয়ামের মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা দেখিয়েছেন।
- ক্ষমা পাওয়ার আশা ইবাদত ছাড়ার কারণ নয়।
- আল্লাহর দান মনে রাখলে আমলে আগ্রহ বাড়ে।
