১/১. অধ্যায়ঃ
সিলসিলা সহিহা হাদিস ৫০ - শহীদের সন্তানের প্রতি নবীজির স্নেহ
উত্তম চরিত্র, অনুকম্পা ও (আত্মীয়তার) সম্পর্ক বজায় রাখা প্রসংগ
শোকের সময় সান্ত্বনা: শহীদের সন্তানের প্রতি নবীজির দয়া
সিলসিলা সহিহা : ৫০
সিলসিলা সহিহাহাদিস নম্বর ৫০
বিশর ইবনু আকরবাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেনঃ রাসুলুল্লাহ (ﷺ)-এর সাথে কোন এক যুদ্ধে (গিয়ে) আমার বাবা শাহাদাতবরণ করেন। রাসুলুল্লাহ (ﷺ) আমার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন আর আমি তখন কাঁদতে ছিলাম। (রাসুলুল্লাহ (ﷺ)) আমাকে বললেন, চুপ হও (শান্ত থাক) তুমি কি খুশি হবে না যদি আমি তোমার পিতা হই আর আয়েশা তোমার মা হন? (আস-সহীহাহ-৩২৪৯)
হাদীসটি বিশর ইবনু আকরবাহ তার পিতা থেকে রিওয়াত করেছেন। হাদীসটি ইমাম বুখারী তার (আরবী) এর (২/৭৮); ইমাম ইবনু আসাকীর তার ‘তারিখে দিমাশক’ (৩/২৬৯, ৩৮৯, ১০, ১৬০); ইমাম (আরবী) তার (আরবী) -এর হাদীস নং ৩৬৮৬২-তে রিওয়াত করেছেন। শাইখ আলবানী (রহঃ) বলেন: “এর সানাদ বা হাসানের কাছাকাছি।” হাদীসটি হাসান।
অনুবাদের উৎস
- সংকলক:
- আল্লামা নাসিরুদ্দিন আলবানী (রহঃ)
- প্রকাশক:
- আতিফা পাবলিকেশন্স
সিলসিলা সহিহা হাদিস ৫০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের দয়া ও স্নেহের একটি সুন্দর ছবি দেখা যায়। বর্ণনাকারীর বাবা এক যুদ্ধে শহীদ হন। তিনি তখন কাঁদছিলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তার পাশ দিয়ে গিয়ে তাকে শান্ত হতে বলেন এবং স্নেহভরা ভাষায় বলেন, সে কি খুশি হবে না যদি তিনি তার পিতা হন এবং আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা তার মা হন। এখানে কোনো দীর্ঘ আলোচনা নেই, কিন্তু একটি ব্যথিত শিশুকে সান্ত্বনা দেওয়ার গভীর শিক্ষা আছে। দুঃখের সময়ে কোমল কথা, কাছে দাঁড়ানো এবং হৃদয় দিয়ে সহানুভূতি দেখানো মুমিনের সুন্দর আচরণ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শোকাহত শিশুকে স্নেহ ও কোমল কথায় সান্ত্বনা দেওয়া উচিত।
- নবীজি দুঃখে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়াতেন।
- শহীদের পরিবারের প্রতি দয়া ও যত্ন দেখানো গুরুত্বপূর্ণ।
- কান্না দেখলে কঠোরতা নয়, সহানুভূতি দেখানো উত্তম।
