কোরআন তিলাওয়াতের ধরন
মোট হাদিস ০৫
সহজ ও সঠিক নিয়মে কোরআন তিলাওয়াতের ধরন সম্পর্কিত হাদিস
পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের বিভিন্ন ধরন ও ক্বিরাআত সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসগুলো থেকে স্পষ্ট জানা যায় যে, এই কিতাব অত্যন্ত সহজ ও নমনীয় পদ্ধতিতে অবতীর্ণ করা হয়েছে। জিবরীল (আঃ) প্রথমে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-কে একভাবে কুরআন শিক্ষা দিয়েছিলেন, কিন্তু উম্মতের সহজকরণের জন্য বারবার অনুরোধের পর তা বাড়িয়ে সর্বমোট সাতটি অক্ষরে বা উপভাষায় তিলাওয়াত করার অনুমতি দেওয়া হয়। হিশাম ইবন হাকীম (রাঃ) এবং উমর (রাঃ) ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে সূরা ফুরকান পাঠ করলে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) উভয়ের পাঠকেই সঠিক বলে স্বীকৃতি দেন এবং উম্মতের জন্য যার যেটি সহজ, সেই পদ্ধতিতে পড়ার নির্দেশ দেন। অন্য একটি হাদিসে এসেছে, ভিন্নভাবে তিলাওয়াত করার কারণে সাহাবিদের মাঝে মতভেদ তৈরি হলে নবী (ﷺ) তাদের উভয়কেই সঠিক আখ্যা দিয়ে বলেন যে, পূর্ববর্তী জাতিসমূহ পারস্পরিক মতভেদের কারণেই ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল। এছাড়া ওহী নাযিলের প্রাথমিক সময়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দ্রুত আয়ত্ত করার জন্য কষ্ট করে ঠোঁট ও জিহ্বা নাড়াতেন। পরবর্তীতে আল্লাহ তাআলা ওহী নাযিলের সময় মনোযোগ দিয়ে শুনতে এবং জিবরীল (আঃ) চলে যাওয়ার পর শান্তভাবে তিলাওয়াত করার স্থায়ী নিয়ম নির্ধারণ করে দেন।
سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مَيْسَرَةَ عَنْ النَّزَّالِ بْنِ سَبْرَةَ عَنْ عَبْدِ اللهِ أَنَّهُ سَمِعَ رَجُلًا يَقْرَأُ آيَةً سَمِعَ النَّبِيَّ ﷺ خِلَافَهَا فَأَخَذْتُ بِيَدِهِ فَانْطَلَقْتُ بِهِ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ كِلَاكُمَا مُحْسِنٌ فَاقْرَأَا أَكْبَرُ عِلْمِيْ قَالَ فَإِنَّ مَنْ كَانَ قَبْلَكُمْ اخْتَلَفُوْا فَأُهْلَكَهُمْ.
‘আবদুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি এক ব্যক্তিকে আয়াত পড়তে শুনলেন। নবী (ﷺ)- কে যেভাবে পড়তে শুনতেন, তার থেকে সে অন্য রকম করে পড়ছিল। তখন ঐ ব্যক্তিকে তিনি নবী (ﷺ)- এর নিকট নিয়ে গেলেন। তখন নবী (ﷺ) বললেন, তোমরা উভয়ই সঠিকভাবে পাঠ করেছ। সুতরাং এভাবে কোরআন পাঠ করতে থাক। নবী (ﷺ) আরও বললেন, তোমাদের পূর্বেকার জাতিগুলো তাদের পারস্পরিক বিভেদের জন্যই ধ্বংস হয়ে গেছে।
سَعِيْدُ بْنُ عُفَيْرٍ قَالَ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ قَالَ حَدَّثَنِيْ عُقَيْلٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ حَدَّثَنِيْ عُبَيْدُ اللهِ بْنُ عَبْدِ اللهِ أَنَّ عَبْدَ اللهِ بْنَ عَبَّاسٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا حَدَّثَهُ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَالَ أَقْرَأَنِيْ جِبْرِيْلُ عَلَى حَرْفٍ فَرَاجَعْتُهُ فَلَمْ أَزَلْ أَسْتَزِيْدُهُ وَيَزِيْدُنِيْ حَتَّى انْتَهَى إِلَى سَبْعَةِ أَحْرُفٍ
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূল (ﷺ) বলেছেন, জিব্রীল (আঃ) আমাকে একভাবে কোরআন শিক্ষা দিয়েছেন। এরপর আমি তাঁকে অন্যভাবে পাঠ করার জন্য অনুরোধ করতে লাগলাম এবং বার বার অন্যভাবে পাঠ করার জন্য ক্রমাগত অনুরোধ করতে থাকলে তিনি আমার জন্য তিলাওয়াতের পদ্ধতি বাড়িয়ে যেতে লাগলেন। অবশেষে তিনি সাত আঞ্চলিক ভাষায় তিলাওয়াত করে সমাপ্ত করলেন।
سَعِيْدُ بْنُ عُفَيْرٍ قَالَ حَدَّثَنِي اللَّيْثُ قَالَ حَدَّثَنِيْ عُقَيْلٌ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ قَالَ حَدَّثَنِيْ عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ أَنَّ الْمِسْوَرَ بْنَ مَخْرَمَةَ وَعَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ عَبْدٍ الْقَارِيَّ حَدَّثَاهُ أَنَّهُمَا سَمِعَا عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ يَقُوْلُسَمِعْتُ هِشَامَ بْنَ حَكِيْمِ بْنِ حِزَامٍ يَقْرَأُ سُوْرَةَ الْفُرْقَانِ فِيْ حَيَاةِ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ فَاسْتَمَعْتُ لِقِرَاءَتِهِ فَإِذَا هُوَ يَقْرَأُ عَلَى حُرُوْفٍ كَثِيْرَةٍ لَمْ يُقْرِئْنِيْهَا رَسُوْلُ اللهِ ﷺ فَكِدْتُ أُسَاوِرُهُ فِي الصَّلَاةِ فَتَصَبَّرْتُ حَتَّى سَلَّمَ فَلَبَّبْتُهُ بِرِدَائِهِ فَقُلْتُ مَنْ أَقْرَأَكَ هَذِهِ السُّوْرَةَ الَّتِيْ سَمِعْتُكَ تَقْرَأُ قَالَ أَقْرَأَنِيْهَا رَسُوْلُ اللهِ ﷺ فَقُلْتُ كَذَبْتَ فَإِنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ قَدْ أَقْرَأَنِيْهَا عَلَى غَيْرِ مَا قَرَأْتَفَانْطَلَقْتُ بِهِ أَقُوْدُهُ إِلَى رَسُوْلِ اللهِ ﷺفَقُلْتُ إِنِّيْ سَمِعْتُ هَذَا يَقْرَأُ بِسُوْرَةِ الْفُرْقَانِ عَلَى حُرُوْفٍ لَمْ تُقْرِئْنِيْهَا فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ أَرْسِلْهُ اقْرَأْ يَا هِشَامُ فَقَرَأَ عَلَيْهِ الْقِرَاءَةَ الَّتِيْ سَمِعْتُهُ يَقْرَأُ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ كَذَلِكَ أُنْزِلَتْ ثُمَّ قَالَ اقْرَأْ يَا عُمَرُ فَقَرَأْتُ الْقِرَاءَةَ الَّتِيْ أَقْرَأَنِيْ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ كَذَلِكَ أُنْزِلَتْ إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ أُنْزِلَ عَلَى سَبْعَةِ أَحْرُفٍ فَاقْرَءُوْا مَا تَيَسَّرَ مِنْهُ.
উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি হিশাম ইব্নু হাকীম (রাঃ)- কে রাসূল (ﷺ)– এর জীবদ্দশায় সূরা ফুরকান তিলাওয়াত করতে শুনেছি এবং গভীর মনোযোগ দিয়ে আমি তাঁর কিরাআত শুনেছি। তিনি বিভিন্নভাবে কিরায়াত পাঠ করেছেন; অথচ রাসূল (ﷺ) আমাকে এভাবে শিক্ষা দেননি। এ কারণে সালাতের মাঝে আমি তাঁর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ার জন্য আমি উদ্যত হয়ে পড়েছিলাম, কিন্তু বড় কষ্টে নিজেকে সামলে নিলাম।তারপর সে সালাম ফিরালে আমি চাদর দিয়ে তাঁর গলা পেঁচিয়ে ধরলাম এবং জিজ্ঞেস করলাম, তোমাকে এ সূরা যেভাবে পাঠ করতে শুনলাম, এভাবে তোমাকে কে শিক্ষা দিয়েছে? সে বলল, রাসূল (ﷺ)– ই আমাকে এভাবে শিক্ষা দিয়েছেন। আমি বললাম, তুমি মিথ্যা বলছ। কারণ, তুমি যেভাবে পাঠ করেছ, এর থেকে ভিন্ন ভাবে রাসূল (ﷺ) আমাকে শিক্ষা দিয়েছেন।এরপর আমি তাঁকে জোর করে টেনে রাসূল (ﷺ)– এর কাছে নিয়ে গেলাম এবং বললাম, আপনি আমাকে সূরা ফুরকান যেভাবে পাঠ করতে শিখিয়েছেন এ লোককে আমি এর থেকে ভিন্নভাবে তা পাঠ করতে শুনেছি। এ কথা শুনে রাসূল (ﷺ) বললেন, তাঁকে ছেড়ে দাও। হিশাম, তুমি পাঠ করে শোনাও। তারপর সে সেভাবে পাঠ করে শোনাল, যেভাবে আমি তাঁকে পাঠ করতে শুনেছি। তখন আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ) বললেন, এভাবেই অবতীর্ণ করা হয়েছে।এরপর বললেন, হে ‘উমর! তুমিও পড়। সুতরাং আমাকে তিনি যেভাবে শিক্ষা দিয়েছেন, সেভাবেই আমি পাঠ করলাম। এবারও রাসূল (ﷺ) বললেন, এভাবেও কোরআন অবতীর্ণ করা হয়েছে। এ কোরআন সাত আঞ্চলিক ভাষায় অবতীর্ণ করা হয়েছে। সুতরাং তোমাদের জন্য যা বেশি সহজ, সেভাবেই তোমরা পাঠ কর।
أَبُو الْيَمَانِ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ عَنْ الزُّهْرِيِّ قَالَ أَخْبَرَنِيْ عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ عَنْ حَدِيْثِ الْمِسْوَرِ بْنِ مَخْرَمَةَ وَعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَبْدٍ الْقَارِيِّ أَنَّهُمَا سَمِعَا عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ يَقُوْلُسَمِعْتُ هِشَامَ بْنَ حَكِيْمِ بْنِ حِزَامٍ يَقْرَأُ سُوْرَةَ الْفُرْقَانِ فِيْ حَيَاةِ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ فَاسْتَمَعْتُ لِقِرَاءَتِهِ فَإِذَا هُوَ يَقْرَؤُهَا عَلَى حُرُوْفٍ كَثِيْرَةٍ لَمْ يُقْرِئْنِيْهَا رَسُوْلُ اللهِ ﷺ فَكِدْتُ أُسَاوِرُهُ فِي الصَّلَاةِ فَانْتَظَرْتُهُ حَتَّى سَلَّمَ فَلَبَبْتُهُ فَقُلْتُ مَنْ أَقْرَأَكَ هَذِهِ السُّوْرَةَ الَّتِيْ سَمِعْتُكَ تَقْرَأُ قَالَ أَقْرَأَنِيْهَا رَسُوْلُ اللهِ ﷺ فَقُلْتُ لَهُ كَذَبْتَ فَوَاللهِ إِنَّ رَسُوْلَ اللهِ ﷺ لَهُوَ أَقْرَأَنِيْ هَذِهِ السُّوْرَةَ الَّتِيْ سَمِعْتُكَفَانْطَلَقْتُ بِهِ إِلَى رَسُوْلِ اللهِ ﷺ أَقُوْدُهُ فَقُلْتُ يَا رَسُوْلَ اللهِ إِنِّيْ سَمِعْتُ هَذَا يَقْرَأُ سُوْرَةَ الْفُرْقَانِ عَلَى حُرُوْفٍ لَمْ تُقْرِئْنِيْهَا وَإِنَّكَ أَقْرَأْتَنِيْ سُوْرَةَ الْفُرْقَانِ فَقَالَ يَا هِشَامُ اقْرَأْهَا فَقَرَأَهَا الْقِرَاءَةَ الَّتِيْ سَمِعْتُهُ فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ هَكَذَا أُنْزِلَتْ ثُمَّ قَالَ اقْرَأْ يَا عُمَرُ فَقَرَأْتُهَا الَّتِيْ أَقْرَأَنِيْهَا فَقَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ هَكَذَا أُنْزِلَتْ ثُمَّ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنَّ الْقُرْآنَ أُنْزِلَ عَلَى سَبْعَةِ أَحْرُفٍ فَاقْرَءُوْا مَا تَيَسَّرَ مِنْهُ.
উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি হিশাম ইব্নু হাকীম ইব্নু হিযামকে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)- এর জীবদ্দশায় ‘সূরা ফুরকান’ তিলাওয়াত করতে শুনলাম। আমি লক্ষ্য করলাম যে, সে বিভিন্ন কিরাআতে তা পাঠ করছে, যা আল্লাহ্র রাসূল আমাকে শিখাননি। যার ফলে তাকে সালাতের মধ্যেই ধরতে উদ্যত হলাম। অবশ্য আমি তার সালাত শেষে সালাম ফিরানো পর্যন্ত অপেক্ষা করলাম।সালাত শেষ হতেই তার গলায় রুমাল পেঁচিয়ে ধরলাম এবং তাকে জিজ্ঞেস করলাম, এইমাত্র আমি তোমাকে যা পাঠ করতে শুনলাম, তা তোমাকে কে শিখিয়েছে? সে উত্তর করল, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমাকে এরূপ শিখিয়েছেন। আমি বললাম, তুমি মিথ্যা বলছো! আল্লাহ্র কসম, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে ভিন্ন ভাবে তিলাওয়াত করা শিখিয়েছেন, যা তোমাকে তিলাওয়াত করতে শুনেছি।এরপর আমি তাকে টেনে নিয়ে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)- এর কাছে উপস্থিত হলাম এবং বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমি এই ব্যক্তিকে ভিন্ন ভাবে ‘সূরা ফুরকান’ পাঠ করতে শুনেছি, যে পদ্ধতি আপনি আমাকে তিলাওয়াত করতে শিখাননি। অথচ আপনি আমাকে সূরা ফুরকান তিলাওয়াত শিখিয়েছেন। এরপর তিনি বললেন, হে হিশাম! পাঠ করো! সুতরাং আমি যেভাবে পাঠ করতে শুনেছি, সে সেই ভাবেই পাঠ করল। এরপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, এভাবে কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে।এরপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেন, হে ‘উমর। তুমি পাঠ করো, সুতরাং রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে যেভাবে শিখিয়েছিলেন, সেভাবে আমি পাঠ করলাম। এরপর তিনি বললেন, কোরআন এভাবেই অবতীর্ণ হয়েছে। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আরও বললেন, সাত কিরাআত বা পদ্ধতিতে পাঠ করার জন্য কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে। সুতরাং এর মধ্যে যে পদ্ধতি তোমার জন্য সহজ, সে পদ্ধতিতে পড়।
قَالَ أَبُو عَبْد اللهِ وَقَالَ اللَّيْثُ حَدَّثَنِي يُونُسُ عَنْ ابْنِ شِهَابٍ أَخْبَرَنِي عُرْوَةُ بْنُ الزُّبَيْرِ أَنَّ الْمِسْوَرَ بْنَ مَخْرَمَةَ وَعَبْدَ الرَّحْمٰنِ بْنَ عَبْدٍ الْقَارِيَّ أَخْبَرَاهُ أَنَّهُمَا سَمِعَا عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ يَقُولُ سَمِعْتُ هِشَامَ بْنَ حَكِيمٍ يَقْرَأُ سُورَةَ الْفُرْقَانِ فِي حَيَاةِ رَسُولِ اللهِ ﷺ فَاسْتَمَعْتُ لِقِرَاءَتِهِ فَإِذَا هُوَ يَقْرَؤُهَا عَلَى حُرُوفٍ كَثِيرَةٍ لَمْ يُقْرِئْنِيهَا رَسُولُ اللهِ ﷺ كَذَلِكَ فَكِدْتُ أُسَاوِرُهُ فِي الصَّلاَةِ فَانْتَظَرْتُهُ حَتَّى سَلَّمَ ثُمَّ لَبَّبْتُهُ بِرِدَائِهِ أَوْ بِرِدَائِي فَقُلْتُ مَنْ أَقْرَأَكَ هَذِهِ السُّورَةَ قَالَ أَقْرَأَنِيهَا رَسُولُ اللهِ ﷺ قُلْتُ لَهُ كَذَبْتَ فَوَاللهِ إِنَّ رَسُولَ اللهِ ﷺ أَقْرَأَنِي هَذِهِ السُّورَةَ الَّتِي سَمِعْتُكَ تَقْرَؤُهَا فَانْطَلَقْتُ أَقُودُهُ إِلَى رَسُولِ اللهِ ﷺفَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللهِ إِنِّي سَمِعْتُ هَذَا يَقْرَأُ بِسُورَةِ الْفُرْقَانِ عَلَى حُرُوفٍ لَمْ تُقْرِئْنِيهَا وَأَنْتَ أَقْرَأْتَنِي سُورَةَ الْفُرْقَانِ فَقَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ أَرْسِلْهُ يَا عُمَرُ اقْرَأْ يَا هِشَامُ فَقَرَأَ عَلَيْهِ الْقِرَاءَةَ الَّتِي سَمِعْتُهُ يَقْرَؤُهَا قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ هَكَذَا أُنْزِلَتْ ثُمَّ قَالَ رَسُولُ اللهِ ﷺ اقْرَأْ يَا عُمَرُ فَقَرَأْتُ فَقَالَ هَكَذَا أُنْزِلَتْ ثُمَّ قَالَ إِنَّ هَذَا الْقُرْآنَ أُنْزِلَ عَلَى سَبْعَةِ أَحْرُفٍ فَاقْرَءُوا مَا تَيَسَّرَ مِنْهُ
মিসওয়ার ইব্নু মাখরামাহ (রাঃ) ও ‘আবদুর রহমান ইব্নু ‘আবদুল কারী (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি বলেন, আমি হিশাম ইব্নু হাকীম (রাঃ)-কে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর জীবিত অবস্থায় সূরা ফুরক্বান পড়তে শুনেছি। আমি তাঁর পড়ার প্রতি কর্ণপাত করলাম, (আমি লক্ষ্য করলাম) যে, তিনি এর অনেকগুলো অক্ষর এমন নিয়মে পড়ছেন, যে নিয়মে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে পড়াননি। ফলে আমি তাঁকে সালাতের মাঝেই আক্রমণ করতে প্রস্তুত হলাম। কিন্তু সালাম ফিরানো পর্যন্ত অপেক্ষা করলাম। সালাম ফিরানোর পর আমি তাঁকে তাঁর চাদর দিয়ে অথবা বললেন আমার চাদর দিয়ে জড়িয়ে ধরলাম। আর বললাম, তোমাকে এ সূরা কে পড়িয়েছে? তিনি বললেন, রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে তা পড়িয়েছেন। আমি তাঁকে বললাম, তুমি মিথ্যা বলছ। আল্লাহ্র শপথ! রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) আমাকে এ সূরা পড়িয়েছেন যা তোমাকে পড়তে শুনেছি।তারপর আমি তাঁকে রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-এর কাছে টেনে নিয়ে গেলাম। আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আমি এ লোককে সূরা ফুরক্বান এমন অক্ষর দিয়ে পড়তে শুনেছি যা আপনি আমাকে পড়াননি। আর আপনি তো আমাকে সূরা ফুরক্বান পড়িয়েছেন। তিনি বলেন, তখন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ হে ‘উমর! তাঁকে ছেড়ে দাও। (আর বললেন) হে হিশাম! তুমি পড় তো। হিশাম তাঁর কাছে সেভাবেই পড়লেন, যেভাবে তাঁকে তা পড়তে আমি শুনেছিলাম। রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ এভাবেই অবতীর্ণ করা হয়েছে।এরপর রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বললেনঃ হে ‘উমর! তুমিও পড়। আমি পড়লাম। তখন তিনি বললেনঃ এভাবেও অবতীর্ণ করা হয়েছে। অতঃপর বললেন, এ কোরআন সাত (কিরাআতে) ভাষায় অবতীর্ণ করা হয়েছে। কাজেই যে পদ্ধতিতেই সহজ হয় সে পদ্ধতিতেই তোমরা তা পাঠ কর।
যেমন আল্লাহর বাণী مَالِكِ يَوْمِ الدِّينِ)) কেউ পড়েছেন مَالِكِ। মুহাম্মাদ ইবনু সুমাইকা مَالِكَ পড়েছেন। কেউ পড়েছেন مَلْكِ, কেউ পড়েছেন مَلِيْكِ। নাফে‘ مَالِكِ এর স্থলে مَلِكِيْ পড়েছেন। (তাফসীর কুরতুবী দ্রষ্টব্য)।
