নামাজের সময়

মোট হাদিস ১৪৩

রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর নির্দেশিত নামাজের সঠিক সময় ও গুরুত্ব

ইসলামে সঠিক সময়ে সালাত আদায়ের গুরুত্ব অপরিসীম, বিশেষ করে আসরের নামাজের ক্ষেত্রে সময়ের প্রতি বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত বিশুদ্ধ হাদিসগুলোর আলোকে জানা যায় যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আসরের সালাত অত্যন্ত ওয়াক্তের শুরুতে আদায় করতেন। তিনি এমন এক সময়ে আসরের নামাজ পড়তেন যখন সূর্যের উজ্জ্বল কিরণ তাঁর কামরার ভেতরে থাকত এবং তা তখনও দেয়ালের উপর উঠে যেত না কিংবা ঘরের ভেতরে ছায়া পড়ত না। ইসলামি স্কলারদের মতে, এই বর্ণনাগুলো প্রমাণ করে যে আসরের নামাজ বিলম্ব না করে প্রথম ওয়াক্তেই আদায় করা উত্তম। সূর্যের আলো ও তাপ সতেজ থাকা অবস্থায় সালাত সম্পন্ন করা রাসুলুল্লাহ (সাঃ) এর নিয়মিত সুন্নাত ছিল, যা আমাদের সময়ানুবর্তিতা এবং ইবাদতের প্রতি একনিষ্ঠ হতে শিক্ষা দেয়।

حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ الْمُحَارِبِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا زَائِدَةُ، عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيلِ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ أَخَّرَ النَّبِيُّ ﷺ صَلاَةَ الْعِشَاءِ إِلَى نِصْفِ اللَّيْلِ، ثُمَّ صَلَّى ثُمَّ قَالَ «قَدْ صَلَّى النَّاسُ وَنَامُوا، أَمَا إِنَّكُمْ فِي صَلاَةٍ مَا انْتَظَرْتُمُوهَا». وَزَادَ ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ حَدَّثَنِي حُمَيْدٌ سَمِعَ أَنَسًا كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى وَبِيصِ خَاتَمِهِ لَيْلَتَئِذٍ.

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

একরাতে নবী (ﷺ) ইশার সালাত অর্ধেক রাত পর্যন্ত বিলম্ব করলেন। অতঃপর সালাত আদায় করে তিনি বললেনঃ লোকেরা নিশ্চয়ই সালাত আদায় করে ঘুমিয়ে পড়েছে। শোন! তোমরা যতক্ষণ সালাতের অপেক্ষায় ছিলে ততক্ষণ তোমরা সালাতেই ছিলে। ইবনু আবূ মারইয়াম (রহঃ)-এর বর্ণনায় আরও আছে, তিনি বলেন, ইয়াহিয়া ইবনু আইউব (রহঃ) হুমায়দ (রহঃ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি (হুমায়দ) আনাস (রাঃ)-কে বলতে শুনেছেন, সে রাতে আল্লাহর রাসূল (ﷺ) -এর আংটির উজ্জ্বলতা আমি যেন এখনও দেখতে পাচ্ছি।

وَحَدَّثَنِي أَبُو بَكْرِ بْنُ نَافِعٍ الْعَبْدِيُّ، حَدَّثَنَا بَهْزُ بْنُ أَسَدٍ الْعَمِّيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، ‏.‏ أَنَّهُمْ سَأَلُوا أَنَسًا عَنْ خَاتَمِ، رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ أَخَّرَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ الْعِشَاءَ ذَاتَ لَيْلَةٍ إِلَى شَطْرِ اللَّيْلِ أَوْ كَادَ يَذْهَبُ شَطْرُ اللَّيْلِ ثُمَّ جَاءَ فَقَالَ ‏ "‏ إِنَّ النَّاسَ قَدْ صَلَّوْا وَنَامُوا وَإِنَّكُمْ لَمْ تَزَالُوا فِي صَلاَةٍ مَا انْتَظَرْتُمُ الصَّلاَةَ ‏"‏ ‏.‏ قَالَ أَنَسٌ كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى وَبِيصِ خَاتَمِهِ مِنْ فِضَّةٍ وَرَفَعَ إِصْبَعَهُ الْيُسْرَى بِالْخِنْصَرِ.

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, লোকেরা আনাসকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) - এর আংটি (বা সিল-মোহর) সম্পর্কে জানার জন্য জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ এক রাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ইশার সালাত আদায় করতে দেরি করলেন। এত দেরি করলেন যে, রাতের অর্ধেক অতিবাহিত হয়ে গেল অথবা প্রায় অর্ধেক অতিবাহিত হওয়ার উপক্রম হল। তখন তিনি আসলেন এবং বললেনঃ অনেক লোক সালাত আদায় করে ঘুমিয়ে পড়েছে। (কিন্তু তোমরা সালাতের জন্য অপেক্ষা করছ) যে সময় থেকে তোমরা সালাতের জন্য অপেক্ষা করছ সে সময় থেকে তোমরা সালাতরত আছ।আনাস বলেছেন, আমি যেন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর রৌপ্য নির্মিত আংটির চাকচিক্য বা উজ্জ্বলতা এখনও দেখতে পাচ্ছি। এ কথা বলে আনাস তাঁর বাঁ হাতের কনিষ্ঠ অঙ্গুলি উঠিয়ে ইশারা করলেন (অর্থাৎ- এর দ্বারা তিনি বুঝালেন যে, আংটিটি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) - এর ঐ আঙ্গুলেই পরিহিত ছিল)।

ই.ফা.১৩২১,ই.সে.১৩৩৩

أَخْبَرَنَا كَثِيرُ بْنُ عُبَيْدٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حَرْبٍ، عَنِ الزُّبَيْدِيِّ، عَنِ الزُّهْرِيِّ قَالَ: أَخْبَرَنِي أَنَسٌ، «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ حِينَ زَاغَتِ الشَّمْسُ فَصَلَّى بِهِمْ صَلَاةَ الظُّهْرِ»

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

যুহরী (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আনাস (রাঃ) আমার কাছে বর্ণনা করেন যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একবার সূর্য ঢলে পড়লে বের হলেন এবং তাঁদেরকে নিয়ে যুহরের সালাত আদায় করলেন।

أَخْبَرَنَا سُوَيْدُ بْنُ نَصْرٍ قَالَ: أَنْبَأَنَا عَبْدُ اللَّهِ، عَنْ مَالِكٍ قَالَ: حَدَّثَنِي الزُّهْرِيُّ وَإِسْحَاقُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَنَسٍ، «أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُصَلِّي الْعَصْرَ، ثُمَّ يَذْهَبُ الذَّاهِبُ إِلَى قُبَاءٍ» فَقَالَ أَحَدُهُمَا: «فَيَأْتِيهِمْ وَهُمْ يُصَلُّونَ». وَقَالَ الْآخَرُ: «وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ»

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রসূলুল্লাহ (ﷺ) আসরের সলাত এমন সময় আদায় করতেন যে, সলাত আদায়ের পর কোন গমনকারী 'কুবা' পর্যন্ত যেতেন। (বর্ণনাকারী) যুহরী অথবা ইসহাক্ব-এর মধ্যে একজন বললেন, গমনকারী এসে 'কুবা'বাসীদেরকে (আসরের) সলাত আদায় করতে দেখতে পেতেন। অন্যজন বলেন, সূর্য তখনো উপরে (উজ্জ্বল) থাকত।

[১] মদিনা থেকে প্রায় তিন মাইল দূরে অবস্থিত।

أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ قَالَ: حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ قَالَ: حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ: أَنَّ رَجُلًا أَتَى النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَسَأَلَهُ عَنْ وَقْتِ صَلَاةِ الْغَدَاةِ، فَلَمَّا أَصْبَحْنَا مِنَ الْغَدِ أَمَرَ حِينَ انْشَقَّ الْفَجْرُ أَنْ تُقَامَ الصَّلَاةُ فَصَلَّى بِنَا، فَلَمَّا كَانَ مِنَ الْغَدِ أَسْفَرَ، ثُمَّ أَمَرَ فَأُقِيمَتِ الصَّلَاةُ فَصَلَّى بِنَا، ثُمَّ قَالَ: «أَيْنَ السَّائِلُ عَنْ وَقْتِ الصَّلَاةِ؟ مَا بَيْنَ هَذَيْنِ وَقْتٌ»

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

এক ব্যক্তি নাবী (ﷺ)-এর নিকটে উপস্থিত হয়ে তাঁকে ফজরের সালাতের ওয়াক্ত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলো, পরবর্তী দিন ভোর হওয়ার পরেই তিনি ফজরের প্রথম ওয়াক্তে ইক্বামাত দেয়ার জন্যে আদেশ করলেন এবং আমাদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন। পরেরদিন ভোর ফর্সা হওয়ার পর সালাতের ইক্বামাত বলার জন্যে তিনি (ﷺ) আদেশ করলেন। সালাতের ইক্বামাত বলা হল এবং তিনি (ﷺ) আমাদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করলেন। তারপর বললেন, সালাতের সময় সম্পর্কে প্রশ্নকারী কোথায়? এ দু' ওয়াক্তের মাঝখানেই সালাতের সময়।

أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ قَالَ: أَنْبَأَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ قَالَ: حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ قَالَ: صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ خَيْبَرَ صَلَاةَ الصُّبْحِ بِغَلَسٍ وَهُوَ قَرِيبٌ مِنْهُمْ، فَأَغَارَ عَلَيْهِمْ، وَقَالَ: «اللَّهُ أَكْبَرُ خَرِبَتْ خَيْبَرُ مَرَّتَيْنِ، إِنَّا إِذَا نَزَلْنَا بِسَاحَةِ قَوْمٍ فَسَاءَ صَبَاحُ الْمُنْذَرِينَ»

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) খায়বার দিবসে অন্ধকারে ফজরের সালাত আদায় করলেন আর তখন তিনি (রাসূলুল্লাহ (ﷺ)) খায়বারবাসীদের নিকটবর্তী ছিলেন। ফজরের পরে তাদের ওপর আক্রমণ করলেন এবং বললেন, 'আল্ল-হু আকবার' খায়বার ধ্বংস হোক, এভাবে দু'বার বললেন, "যখন আমরা কোন কওমের আঙ্গিনায় অবতরণ করি তখন সতর্কীকৃতদের ভোর মন্দই হয়!"

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، قَالَ قُلْتُ لِعَطَاءٍ أَىُّ حِينٍ أَحَبُّ إِلَيْكَ أَنْ أُصَلِّيَ الْعِشَاءَ الَّتِي يَقُولُهَا النَّاسُ الْعَتَمَةَ إِمَامًا وَخِلْوًا قَالَ سَمِعْتُ ابْنَ عَبَّاسٍ يَقُولُ أَعْتَمَ نَبِيُّ اللَّهِ ﷺ ذَاتَ لَيْلَةٍ الْعِشَاءَ - قَالَ - حَتَّى رَقَدَ نَاسٌ وَاسْتَيْقَظُوا وَرَقَدُوا وَاسْتَيْقَظُوا فَقَامَ عُمَرُ بْنُ الْخَطَّابِ فَقَالَ الصَّلاَةَ .فَقَالَ عَطَاءٌ قَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ فَخَرَجَ نَبِيُّ اللَّهِ ﷺ كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَيْهِ الآنَ يَقْطُرُ رَأْسُهُ مَاءً وَاضِعًا يَدَهُ عَلَى شِقِّ رَأْسِهِ قَالَ " لَوْلاَ أَنْ يَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لأَمَرْتُهُمْ أَنْ يُصَلُّوهَا كَذَلِكَ " . قَالَ فَاسْتَثْبَتُّ عَطَاءً كَيْفَ وَضَعَ النَّبِيُّ ﷺ يَدَهُ عَلَى رَأْسِهِ كَمَا أَنْبَأَهُ ابْنُ عَبَّاسٍ فَبَدَّدَ لِي عَطَاءٌ بَيْنَ أَصَابِعِهِ شَيْئًا مِنْ تَبْدِيدٍ ثُمَّ وَضَعَ أَطْرَافَ أَصَابِعِهِ عَلَى قَرْنِ الرَّأْسِ ثُمَّ صَبَّهَا يُمِرُّهَا كَذَلِكَ عَلَى الرَّأْسِ حَتَّى مَسَّتْ إِبْهَامُهُ طَرَفَ الأُذُنِ مِمَّا يَلِي الْوَجْهَ ثُمَّ عَلَى الصُّدْغِ وَنَاحِيَةِ اللِّحْيَةِ لاَ يُقَصِّرُ وَلاَ يَبْطِشُ بِشَىْءٍ إِلاَّ كَذَلِكَ .قُلْتُ لِعَطَاءٍ كَمْ ذُكِرَ لَكَ أَخَّرَهَا النَّبِيُّ ﷺ لَيْلَتَئِذٍ قَالَ لاَ أَدْرِي . قَالَ عَطَاءٌ أَحَبُّ إِلَىَّ أَنْ أُصَلِّيَهَا إِمَامًا وَخِلْوًا مُؤَخَّرَةً كَمَا صَلاَّهَا النَّبِيُّ ﷺ لَيْلَتَئِذٍ فَإِنْ شَقَّ عَلَيْكَ ذَلِكَ خِلْوًا أَوْ عَلَى النَّاسِ فِي الْجَمَاعَةِ وَأَنْتَ إِمَامُهُمْ فَصَلِّهَا وَسَطًا لاَ مُعَجَّلَةً وَلاَ مُؤَخَّرَةً .

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, আমি ‘আত্বাকে জিজ্ঞেস করলাম, ইশার সালাত যাকে লোকে ‘আতামাহ্ বলে থাকে- পড়ার জন্য আপনার কাছে কোন সময়টা সবচেয়ে পছন্দনীয়? (তা জানতে পারলে) ইমাম হয়ে বা একাকী থেকে আমিও সে সময় ইশার সালাত আদায় করতাম। এ কথা শুনে আত্বা বললেন, আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাসকে বলতে শুনেছি - নবী (ﷺ) একদিন ইশার সালাত আদায় করতে বেশ দেরী করে ফেললেন। এমনকি লোকজন (মসজিদে) ঘুমিয়ে পড়ল। পরে জেগে উঠে আবার ঘুমিয়ে পড়ল।এরপর তারা আবার জেগে উঠলে ‘উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) উঠে গিয়ে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) - কে বললেন, সালাতের সময় হয়েছে। আত্বা বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেছেন - অতঃপর নবী (ﷺ) আসলেন। আমি যেন এ মুহূর্তেও দেখছি নবী (ﷺ) -এর চুল থেকে পানি টপকে পড়ছে। আর তিনি মাথার একপাশে হাত দিয়ে আছেন। তিনি বললেনঃ যদি আমি আমার উম্মাতের জন্য কষ্টকর হবে বলে মনে না করতাম তাহলে আমি তাদেরকে এ রকম সময়েই (ইশার) সালাত আদায় করার আদেশ করতাম।ইবনু জুরায়জ বলেন- নবী (ﷺ) -এর মাথার উপর কীভাবে হাত রাখার কথা ‘আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) তাকে বলেছেন আমি তা আত্বাকে দেখাতে বললাম। তখন ‘আত্বা তার আঙ্গুলগুলো কিছুটা ছড়ালেন এবং আঙ্গুলের পার্শ্বদেশ মাথার পার্শ্বভাগে রাখলেন। অতঃপর আঙ্গুলগুলো মাথার উপর দিয়ে টেনে নীচের দিকে নিয়ে আসলেন। এরূপ এমনভাবে করলেন যে, বৃদ্ধাঙ্গুলি মুখমন্ডলের দিকে কানের পার্শ্ব স্পর্শ করল। অতঃপর কপালের পার্শ্বদেশ ও দাড়ির প্রান্তভাগ পর্যন্ত টেনে নিলেন। এ সময় খুব জোরে চাপ দিচ্ছিলেন না আবার আঙ্গুলগুলো খুব শিথিলও করছিলেন না, শুধু আলতোভাবে টেনে নিচ্ছিলেন।ইবনু জুরায়জ বলেন, আমি আত্বাকে জিজ্ঞেস করলাম, নবী (ﷺ) সে রাতে ইশার সালাত কত দেরী করেছিলেন বলে ‘আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাঃ) আপনার কাছে বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেনঃ আমি জানি না। আত্বা বললেন, ইশার সালাত আমি ইমাম হিসেবে কিংবা একা আদায় করি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঐ রাতে যেভাবে দেরী করে আদায় করেছেন সেভাবে দেরী করে আদায় করাই আমার কাছে সর্বাপেক্ষা পছন্দনীয়। তবে লোকের সাথে জামা’আতের ইমাম হয়ে সালাত আদায়কালে কিংবা একাকী আদায়কালে এ সময়টা যদি তোমার জন্য কষ্টকর হয় তাহলে মাঝামাঝি সময়ে আদায় করো। বেশী আগেও আদায় করোনা কিংবা বেশী বিলম্বেও আদায় করোনা।

ই.ফা.১৩২৫, ই.সে.১৩৩৭

أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَنْصُورٍ الْمَكِّيُّ قَالَ: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ، وَعَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ: أَخَّرَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْعِشَاء ذَاتَ لَيْلَةٍ حَتَّى ذَهَبَ مِنَ اللَّيْلِ، فَقَامَ عُمَرُ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ فَنَادَى: الصَّلَاةَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، رَقَدَ النِّسَاءُ وَالْوِلْدَانُ، فَخَرَجَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالْمَاءُ يَقْطُرُ مِنْ رَأْسِهِ وَهُوَ يَقُولُ: «إِنَّهُ الْوَقْتُ، لَوْلَا أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي»

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

একবার রাতে নাবী (ﷺ) ইশার সালাতে বিলম্ব করলেন। রাতের এক অংশ চলে গেলে 'উমর (রাঃ) দাঁড়িয়ে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সালাতে আসুন। মহিলা ও ছেলে মেয়েরা সকলে ঘুমিয়ে পড়েছে। তিনি এমতাবস্থায় বের হলেন যে, তাঁর মাথা হতে পানির ফোঁটা পড়ছিল এবং তিনি বলছিলেন, যদি আমি আমার উম্মাতের পক্ষে কষ্টকর হবে বলে মনে না করতাম তাহলে এটাই ইশার ওয়াক্ত গণ্য হত।

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، قَالَ حَفِظْنَاهُ مِنَ الزُّهْرِيِّ عَنْ سَعِيدِ بْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ " إِذَا اشْتَدَّ الْحَرُّ فَأَبْرِدُوا بِالصَّلاَةِ، فَإِنَّ شِدَّةَ الْحَرِّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ ". " وَاشْتَكَتِ النَّارُ إِلَى رَبِّهَا فَقَالَتْ يَا رَبِّ أَكَلَ بَعْضِي بَعْضًا. فَأَذِنَ لَهَا بِنَفَسَيْنِ نَفَسٍ فِي الشِّتَاءِ، وَنَفَسٍ فِي الصَّيْفِ، فَهُوَ أَشَدُّ مَا تَجِدُونَ مِنَ الْحَرِّ، وَأَشَدُّ مَا تَجِدُونَ مِنَ الزَّمْهَرِيرِ ".

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যখন গরম বেড়ে যাবে তখন তোমরা তা কমে এলে যুহরের সালাত আদায় করো। কেননা, গরমের প্রচণ্ডতা জাহান্নামের উত্তাপের অংশ।

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رُمْحٍ، أَخ ْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنِ ابْنِ الْمُسَيَّبِ، وَأَبِي، سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ قَالَ إِنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ قَالَ " إِذَا اشْتَدَّ الْحَرُّ فَأَبْرِدُوا بِالصَّلاَةِ فَإِنَّ شِدَّةَ الْحَرِّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ " .

আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ গরমের প্রচণ্ডতা দেখা দিলে (যুহরের) সালাত দেরি করে গরমের প্রচণ্ডতা কমলে আদায় করো। গরমের তীব্রতা জাহান্নামের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়া থেকেই হয়ে থাকে।

ই.ফা.১২৬৯, ই.সে.১২৮২

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন