৪/৭. অধ্যায়ঃ

সহীহ আত-তারগিব ওয়াত তাহরিব হাদিস ১৮২ - সুন্দর ওযু ও গুনাহ মাফ

ওযু করা এবং তা পরিপূর্ণ করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করণঃ

সুন্দরভাবে ওযু করলে পাপ মাফ হওয়ার ফজিলত

সহীহ আত-তারগিব ওয়াত তাহরিবহাদিস নম্বর ১৮২

(صحيح) وَعَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مَنْ تَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ خَرَجَتْ خَطَايَاهُ مِنْ جَسَدِهِ حَتَّى تَخْرُجَ مِنْ تَحْتِ أَظْفَارِهِوفي رواية أن عثمان توضأ ثُمَّ قَالَ رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَوَضَّأَ مِثْلَ وُضُوئِي هَذَا ثُمَّ قَالَ مَنْ تَوَضَّأَ هَكَذَا غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ وَكَانَتْ صَلَاتُهُ وَمَشْيُهُ إِلَى الْمَسْجِدِ نَافِلَةًرواه مسلم والنسائي مختصرا

‘উসমান ইবনু ‘আফফান (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি ওজু করে এবং সুন্দরভাবে তা সম্পন্ন করে, তার পাপ সমূহ তার শরীর থেকে বের হয়ে যায়। এমনকি তার নখের নীচে থেকেও বের হয়।”অন্য এক বর্ণনায় আছে- উছমান (রাঃ) একদা ওজু করলেন, অতঃপর বললেনঃ আমি দেখেছি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার এই ওজুর মতই ওজু করেছেন, অতঃপর বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি এইভাবে ওজু সম্পাদন করবে, তার পূর্বকৃত পাপরাশি ক্ষমা করা হবে এবং তার সালাত ও মসজিদে গমন নফল বা অতিরিক্ত হবে।" (হাদীসটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম এবং সংক্ষিপ্তভাবে নাসাঈ) তবে নাসাঈর শব্দরূপ এইভাবে- তিনি (উছমান (রাঃ) বলেনঃ আমি শুনেছি, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ مَا مِنْ امْرِئٍ يَتَوَضَّأُ فَيُحْسِنُ وُضُوءَهُ إِلَّا غُفِرَ لَهُ مَا بَيْنَهُ وَبَيْنَ الصَّلَاةِ الْأُخْرَى حَتَّى يُصَلِّيَهَا যে ব্যক্তি ওজু করে এবং সুন্দরভাবে তা সম্পন্ন করে, তবে উক্ত সালাত এবং পরবর্তী সালাত আদায় করা পর্যন্ত মধ্যবর্তী সময়ের পাপ তাকে ক্ষমা করা হয়।”(হাদীসটির সনদ শাইখাইন তথা বুখারী ও মুসলিমের শর্তনুযায়ী। আর নাসাঈর বর্ণনার ন্যায় সংক্ষিপ্তভাবে ইবনু খুযায়মা স্বীয় (সহীহ) গ্রন্থে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। ইবনু মাজাহও সংক্ষিপ্তভাবে বর্ণনা করে শেষে উল্লেখ করেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ “এবং এতে যেন কেউ ধোকা না খায়।”নাসাঈর আর এক বর্ণনায় আছে- তিনি বলেনঃ مَنْ أَتَمَّ الْوُضُوءَ كَمَا أَمَرَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ فَالصَّلَوَاتُ الْخَمْسُ كَفَّارَاتٌ لِمَا بَيْنَهُنَّ “আল্লাহ যেভাবে আদেশ করেছেন সেভাবে যে ব্যক্তি ওজু সম্পাদন করবে, তার পাঁচ ওয়াক্ত সালাত তার মধ্যবর্তী সময়ের জন্য কাফফারা স্বরূপ হবে।” [১]

[১] অর্থাৎ যে ব্যক্তি পরিপূর্ণরূপে ওয়ু সম্পন্ন করে তার এক নামায আদায় করার পর যে পাপ হবে তা পরবর্তী নামায আদায় করলেই ক্ষমা হয়ে যাবে। (শায়খ আলবানী বলেনঃ হাদীসটি এ শব্দে ইমাম মুসলিমও রেওয়ায়েত করেন।)

সহীহ আত-তারগিব ওয়াত তাহরিব হাদিস ১৮২-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে সুন্দরভাবে ওযু করার গুরুত্ব এসেছে। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যে ব্যক্তি ওযু করে এবং তা সুন্দরভাবে শেষ করে, তার পাপ শরীর থেকে বের হয়ে যায়, এমনকি নখের নিচ থেকেও। একই বিষয়ের আরেক বর্ণনায় উসমান (রাঃ) নবীজির ওযুর মতো ওযু করে জানান, এভাবে ওযু করলে পূর্বের পাপ ক্ষমা করা হয় এবং সালাত ও মসজিদে যাওয়ার আমল অতিরিক্ত সওয়াবের কারণ হয়। নাসাঈর বর্ণনায় সালাত থেকে পরবর্তী সালাত পর্যন্ত মাঝের পাপ ক্ষমার কথা এসেছে। তাই ওযু করার নিয়ম শুধু বাহ্যিক কাজ নয়; এতে মনোযোগ, সুন্দরভাবে ধোয়া এবং আল্লাহর আদেশ মেনে চলার শিক্ষা আছে।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সুন্দরভাবে ওযু করা পাপ মাফের কারণ হিসেবে এসেছে।
  • ওযুর অঙ্গগুলো ঠিকভাবে ধোয়ার প্রতি যত্ন নেওয়া উচিত।
  • সালাত ও মসজিদে গমন আলাদা নফল সওয়াবের কারণ হতে পারে।
  • হাদিসে সতর্ক করা হয়েছে—ফজিলত শুনে ধোকায় পড়া উচিত নয়।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন