৪/৭. অধ্যায়ঃ
সহীহ আত-তারগিব ওয়াত তাহরিব হাদিস ১৮৩ - নবীজির মতো ওযু ও দুই রাকাআত সালাত
ওযু করা এবং তা পরিপূর্ণ করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করণঃ
নবীজির মতো ওযু করে দুই রাকাআত সালাতের ফজিলত
সহীহ আত-তারগিব ওয়াত তাহরিব : ১৮৩
সহীহ আত-তারগিব ওয়াত তাহরিবহাদিস নম্বর ১৮৩
(صحيح) وَعَنْه رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ (أتي بِطَهُورٍ وَهُوَ جَالِسٌ عَلَى الْمَقَاعِدِ فَتَوَضَّأَ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ ثُمَّ قَالَ رَأَيْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَوَضَّأَ وَهُوَ فِي هَذَا الْمَجْلِسِ فَأَحْسَنَ الْوُضُوءَ ثُمَّ قَالَ مَنْ تَوَضَّأَ مِثْلَ هَذَا الْوُضُوءِ ثُمَّ أَتَى الْمَسْجِدَ فَرَكَعَ رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ جَلَسَ غُفِرَ لَهُ مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِهِ قَالَ وَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لَا تَغْتَرُّوا. رواه البخاري وغيره
উছমান (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি তথা উছমান (রাঃ) থেকে আরো বর্ণিত। তিনি মসজিদে নববীর পার্শ্বে এক স্থানে বসেছিলেন, তাঁর কাছে পানি নিয়ে আসা হল। তিনি ওজু করলেন, এবং সুন্দরভাবে তা সম্পাদন করলেন। অতঃপর বললেনঃ আমি দেখেছি, রাসুলুল্লাহ (ﷺ) এই স্থানে বসে ওজু করেছেন, এবং সুন্দরভাবে ওজুকে সম্পন্ন করেছেন। অতঃপর বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি আমার এই ওজুর মত করে ওজু সম্পাদন করে, অতঃপর মসজিদে এসে দু’রাকাআত সালাত আদায় করে, তারপর বসে, তবে পূর্বের পাপরাশি তাকে ক্ষমা করে দেয়া হয়।” তিনি বলেনঃ রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আরো বলেনঃ “তোমরা ধোঁকায় পড় না।” [১]
[১] অর্থাৎ পাপরাশি ক্ষমা হয়ে যাবে এই আশায় বেশি বেশি অন্যায়ে জড়াবে না। কেননা যে নামায আল্লাহর কাছে কবুল হয় তার মাধ্যমেই পাপরাশি ক্ষমা হয়। আর বান্দা কি জানে তার নামায আল্লাহর কাছে কবুল হয়ে গেছে? [দ্রঃ ফাতহুল বারী হা/১৫৫] (বুখারী ও অন্যরা হাদীসটি বর্ণনা করেছেন)
সহীহ আত-তারগিব ওয়াত তাহরিব হাদিস ১৮৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে উসমান (রাঃ) নিজের দেখা একটি আমল শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি মসজিদে নববীর পাশে বসে পানি নিয়ে সুন্দরভাবে ওযু করেন। এরপর বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে একই স্থানে এভাবে ওযু করতে দেখেছেন। নবীজি বলেছেন, যে ব্যক্তি এ ধরনের ওযু করে, তারপর মসজিদে এসে দুই রাকাআত সালাত পড়ে এবং বসে, তার পূর্বের পাপ ক্ষমা করা হয়। এখানে ওযু, মসজিদে আসা এবং সালাত—তিনটি বিষয় একসাথে এসেছে। তবে শেষে “তোমরা ধোকায় পড় না” বলা হয়েছে। তাই এই ফজিলত শুনে অবহেলা নয়; বরং সতর্কতা, আন্তরিকতা ও নিয়ম মেনে আমল করা দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবীজির মতো ওযু করার চেষ্টা করা একটি উত্তম আমল।
- ওযুর পর দুই রাকাআত সালাত আদায়ের ফজিলত আছে।
- মসজিদে গিয়ে সালাত আদায় করা এই বর্ণনায় বিশেষভাবে এসেছে।
- ফজিলতের ওপর ভর করে পাপে ঢিলে হওয়া ঠিক নয়।
