১২/৫৩. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১২৮৬ - দায় বহনকারীর উপার্জনের অধিকার
গোলাম কিনে তাকে কাজে নিযুক্ত করার পর দোষ-ত্রুটি ধরা পড়লে
দায় বহনকারীর উপকার ও আয়ের অধিকার
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১২৮৬
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১২৮৬
حَدَّثَنَا أَبُو سَلَمَةَ، يَحْيَى بْنُ خَلَفٍ أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ عَلِيٍّ الْمُقَدَّمِيُّ، عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ قَضَى أَنَّ الْخَرَاجَ بِالضَّمَانِ . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ مِنْ حَدِيثِ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ . قَالَ أَبُو عِيسَى اسْتَغْرَبَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ هَذَا الْحَدِيثَ مِنْ حَدِيثِ عُمَرَ بْنِ عَلِيٍّ . قُلْتُ تَرَاهُ تَدْلِيسًا قَالَ لاَ .قَالَ أَبُو عِيسَى وَقَدْ رَوَى مُسْلِمُ بْنُ خَالِدٍ الزَّنْجِيُّ هَذَا الْحَدِيثَ عَنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ وَرَوَاهُ جَرِيرٌ عَنْ هِشَامٍ أَيْضًا . وَحَدِيثُ جَرِيرٍ يُقَالُ تَدْلِيسٌ دَلَّسَ فِيهِ جَرِيرٌ . لَمْ يَسْمَعْهُ مِنْ هِشَامِ بْنِ عُرْوَةَ . وَتَفْسِيرُ الْخَرَاجِ بِالضَّمَانِ هُوَ الرَّجُلُ يَشْتَرِي الْعَبْدَ فَيَسْتَغِلُّهُ ثُمَّ يَجِدُ بِهِ عَيْبًا فَيَرُدُّهُ عَلَى الْبَائِعِ فَالْغَلَّةُ لِلْمُشْتَرِي لأَنَّ الْعَبْدَ لَوْ هَلَكَ هَلَكَ مِنْ مَالِ الْمُشْتَرِي . وَنَحْوُ هَذَا مِنَ الْمَسَائِلِ يَكُونُ فِيهِ الْخَرَاجُ بِالضَّمَانِ .قَالَ أَبُو عِيسَى اسْتَغْرَبَ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَعِيلَ هَذَا الْحَدِيثَ مِنْ حَدِيثِ عُمَرَ بْنِ عَلِيٍّ قُلْتُ تَرَاهُ تَدْلِيسًا قَالَ لَا
আইশা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) ফায়সালা করেছেনঃ ক্ষতির দায় বহনের শর্তেই উপকারিতা ভোগের অধিকার সৃষ্টি হয়।
এ হাদীসটি হিশাম ইবনু উরওয়ার সনদসূত্রে হাসান সহীহ্ গারীব। হিশাম ইবনু উরওয়া হতে মুসলিম ইবনু খালিদ এ হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। জারীরও হিশাম হতে বর্ণনা করেছেন। জারীরের বর্ণনায় তাদলীস আছে। জারীর তাদলীস করেছেন। সরাসরি হিশাম হতে তিনি তা শুনতে পাননি। “আল-খারাজ বিয-যামান”-এর ব্যাখ্যা হলঃ যেমন এক লোক একটি গোলাম কিনলো। সে তাকে দিয়ে কাজও করাল। তারপর তার নিকট এর দোষ ধরা পড়ল। বিক্রেতাকে গোলামটি ফেরত প্রদান করতে হবে, তবে তাকে দিয়ে কাজ করানোর আয় ক্রয়কারীই ভোগ করবে। কারণ, গোলামটি তার নিকট ফেরতের পূর্বে মৃত্যু বরণ করলে এই আর্থিক ক্ষতি ক্রেতাকেই বহন করতে হত, বিক্রেতার কোন রকম ক্ষতি হত না। এজন্যই তাকে দিয়ে সুবিধা ভোগের অধিকার অর্জিত হয়েছে। অনুরূপ ক্ষেত্রসমূহে “আল-খারাজ বিয যামান” নীতি প্রযোজ্য। আবূ ঈসা বলেন, মুহাম্মাদ ইবনু ইসমাঈল এই হাদীসটিকে উমার ইবনু আলীর হাদীস হিসেবে গারীব মনে করেন, আমি বললাম, আপনি কি হাদীসটিকে তাদলীস মনে করেন, তিনি বললেন, না।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১২৮৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ক্ষতির দায় ও সম্পদের উপকার ভোগের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ফয়সালা করেছেন, ক্ষতির দায় বহনের কারণেই উপকার বা আয় ভোগের অধিকার তৈরি হয়। বর্ণনার শেষে এর একটি উদাহরণও দেওয়া হয়েছে। একজন ব্যক্তি কোনো দাস কিনে তার কাজ বা সেবা থেকে আয় পেলেন। পরে ত্রুটি দেখতে পেয়ে তাকে বিক্রেতার কাছে ফেরত দিলেন। এ অবস্থায় আগের আয় ক্রেতার হবে, কারণ ক্রেতার মালিকানায় থাকা অবস্থায় দাসটি মারা গেলে ক্ষতিও ক্রেতাকেই বহন করতে হতো। অর্থাৎ লাভ ও ঝুঁকি একই পক্ষের সঙ্গে যুক্ত রাখা হয়েছে। এই ব্যাখ্যা হাদিসের পাঠের মধ্যেই রয়েছে। তাই নীতিটি শুধু লাভের অনুমতি নয়; বরং দায়িত্ব ও সম্ভাব্য ক্ষতির কথাও মনে করিয়ে দেয়। ন্যায্য লেনদেনে কে ঝুঁকি বহন করছে এবং কে উপকার পাচ্ছে, তা পরিষ্কার হওয়া দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সম্পদের ক্ষতির ঝুঁকি যার, ওই সময়ের উপকারও তার হতে পারে।
- লাভের সঙ্গে দায় ও লোকসানের সম্ভাবনাও যুক্ত রাখতে হবে।
- ত্রুটিপূর্ণ পণ্য ফেরত দিলেও আগের বৈধ উপকারের হিসাব দায়ের ভিত্তিতে হবে।
- লেনদেনে মালিকানা ও ঝুঁকির সময়সীমা পরিষ্কার করা দরকার।
