১৪/১৩. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৪০৭ - হত্যার ইচ্ছা যাচাই ও ক্ষমার গুরুত্ব
নিহত ব্যক্তির অভিভাবক কিসাস গ্রহণ করতে পারে, ক্ষমাও করতে পারে
অনিচ্ছাকৃত হত্যার দাবি, যাচাই ও ক্ষমার শিক্ষা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৪০৭
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৪০৭
حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قُتِلَ رَجُلٌ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَدُفِعَ الْقَاتِلُ إِلَى وَلِيِّهِ فَقَالَ الْقَاتِلُ يَا رَسُولَ اللَّهِ وَاللَّهِ مَا أَرَدْتُ قَتْلَهُ . فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «أَمَا إِنَّهُ إِنْ كَانَ صَادِقًا فَقَتَلْتَهُ دَخَلْتَ النَّارَ " . فَخَلَّى عَنْهُ الرَّجُلُ . قَالَ وَكَانَ مَكْتُوفًا بِنِسْعَةٍ . قَالَ فَخَرَجَ يَجُرُّ نِسْعَتَهُ . قَالَ فَكَانَ يُسَمَّى ذَا النِّسْعَةِ .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالنِّسْعَةُ حَبْلٌ .
আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর আমলে এক লোক নিহত হল। তিনি খুনীকে মৃত ব্যক্তির অভিভাবকদের নিকট সোপর্দ করে দিলেন। খুনী ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহর শপথ! তাকে মেরে ফেলার কোন ইচ্ছাই আমার ছিল না। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (মৃত ব্যক্তির অভিভাবকদের) বললেনঃ যদি সে সত্য কথা বলে থাকে এবং এ অবস্থায় তুমি তাকে হত্যা কর তবে তুমি জাহান্নামে যাবে। এ কথার ফলে সে খুনীকে মুক্ত করে দিল। সে চামড়ার রশি দ্বারা পিছন দিক থেকে বাঁধা ছিল। বর্ণনাকারী বলেন, সে রশি হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে বেরিয়ে গেল। এরপর হতে তার ডাকনাম হয়ে যায় রশিওয়ালা।
এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। নিসআতুনঃ রশি
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৪০৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে একটি হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নিহতের অভিভাবকের হাতে সোপর্দ করার কথা এসেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি আল্লাহর শপথ করে বলে, তার হত্যা করার ইচ্ছা ছিল না। তখন রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) অভিভাবককে সতর্ক করেন: যদি সে সত্যবাদী হয় আর তুমি তাকে হত্যা কর, তবে তুমি জাহান্নামে যাবে। এ কথা শুনে অভিভাবক তাকে ছেড়ে দেন। হাদিসটির মূল শিক্ষা হলো, ইচ্ছাকৃত ও অনিচ্ছাকৃত কাজের পার্থক্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। শুধু ফল ঘটেছে বলেই উদ্দেশ্য যাচাই বাদ দেওয়া যায় না। শাস্তি দেওয়ার আগে সত্যতা, নিয়ত এবং ঘটনার ধরন বুঝতে হবে। একই সঙ্গে ক্ষমা ও সংযমের বড় উদাহরণও এখানে দেখা যায়। তবে এটি ব্যক্তিগতভাবে অপরাধের বিচার করার নির্দেশ নয়; বরং ভুল সিদ্ধান্তে আরেকটি অন্যায় যেন না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্কতা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হত্যার ঘটনায় উদ্দেশ্য ও নিয়ত যাচাই করা জরুরি।
- সন্দেহ থাকলে তাড়াহুড়া করে প্রাণদণ্ড দেওয়া বিপজ্জনক।
- অভিভাবক সতর্কবাণী শুনে অভিযুক্তকে মুক্ত করে দেন।
- ক্ষমা ও সংযম আরেকটি অন্যায় ঠেকাতে পারে।
