১৯/১৮. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৫৬৮ - মুসলিম বন্দী বিনিময়ের দৃষ্টান্ত
বন্দীদের মেরে ফেলা বা মুক্তিপণের বিনিময়ে মুক্ত করে দেওয়া (বা বিনিময় আদায় করা)
দুই মুসলিম বন্দীর বিনিময়ে এক বন্দী: নববী দৃষ্টান্ত
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৫৬৮
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৫৬৮
حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ عَمِّهِ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ فَدَى رَجُلَيْنِ مِنَ الْمُسْلِمِينَ بِرَجُلٍ مِنَ الْمُشْرِكِينَ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَعَمُّ أَبِي قِلاَبَةَ هُوَ أَبُو الْمُهَلَّبِ وَاسْمُهُ عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ عَمْرٍو وَيُقَالُ مُعَاوِيَةُ بْنُ عَمْرٍو وَأَبُو قِلاَبَةَ اسْمُهُ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ زَيْدٍ الْجَرْمِيُّ .وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَكْثَرِ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ وَغَيْرِهِمْ أَنَّ لِلإِمَامِ أَنْ يَمُنَّ عَلَى مَنْ شَاءَ مِنَ الأُسَارَى وَيَقْتُلَ مَنْ شَاءَ مِنْهُمْ وَيَفْدِيَ مَنْ شَاءَ . وَاخْتَارَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ الْقَتْلَ عَلَى الْفِدَاءِ . وَقَالَ الأَوْزَاعِيُّ بَلَغَنِي أَنَّ هَذِهِ الآيَةَ مَنْسُوخَةٌ قَوْلُهُ تَعَالَى: (فَإِِمَّا مَنًّا بَعْدُ وَإِمَّا فِدَاءً﴿ نَسَخَتْهَا: ﴾وَاقْتُلُوهُمْ حَيْثُ ثَقِفْتُمُوهُمْ﴿ حَدَّثَنَا بِذَلِكَ هَنَّادٌ حَدَّثَنَا ابْنُ الْمُبَارَكِ عَنِ الأَوْزَاعِيِّ .قَالَ إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ قُلْتُ لأَحْمَدَ إِذَا أُسِرَ الأَسِيرُ يُقْتَلُ أَوْ يُفَادَى أَحَبُّ إِلَيْكَ قَالَ إِنْ قَدَرُوا أَنْ يُفَادُوا فَلَيْسَ بِهِ بَأْسٌ وَإِنْ قُتِلَ فَمَا أَعْلَمُ بِهِ بَأْسًا . قَالَ إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الإِثْخَانُ أَحَبُّ إِلَىَّ إِلاَّ أَنْ يَكُونَ مَعْرُوفًا فَأَطْمَعُ بِهِ الْكَثِيرَ .
‘ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
দু’জন মুসলমান বন্দীকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) একজন মুশ্রিক বন্দীর সাথে বিনিময় করেছেন।
এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন। আবূ কিলাবার চাচার নাম আবুল মুহাল্লাব আবদুর রাহমান ইবনু আমর, মতান্তরে তার নাম মুআবিয়া ইবনু আমর। আর আবূ কিলাবার নাম আবদুল্লাহ ইবনু যাইদ আল-জারমী। এ হাদীস মোতাবিক রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও তাবিঈগণ আমল করেছেন। তাদের মতে নেতা চাইলে কোন বন্দীকে অনুগ্রহ প্রদর্শনপূর্বক মুক্তি দিতে পারেন, মেরে ফেলতে পারেন অথবা বিনিময় গ্রহণ করে ছেড়েও দিতে পারেন। বিনিময় নিয়ে মুক্তি দেওয়ার পরিবর্তে মেরে ফেলাকেই কিছু অভিজ্ঞ আলিম উত্তম মনে করেন।আওযাঈ বলেন, আমি জানতে পেরেছি, নিম্নলিখিত আয়াত মানসূখ (বাতিল) হয়ে গেছেঃ “তারপর হয় অনুগ্রহ করবে অথবা বিনিময় গ্রহণ করে মুক্ত করে দিবে” (সূরাঃ মুহাম্মাদ- ৪)।নাসিখ (বাতিলকারী) আয়াত হলঃ “তাদেরকে যে জায়গাতেই পাও সেখানেই মেরে ফেল’’ (সূরাঃ বাকারা- ১৯১, সূরাঃ নিসা- ৯১)।ইবনুল মুবারাক আওযাঈ হতে এই উক্তি বর্ণনা করেছেন। ইসহাক ইবনু মানসুর বলেন, আহ্মাদকে আমি প্রশ্ন করলাম, কাফির যোদ্ধা বন্দী অবস্থায় এলে আপনি তাকে মেরে ফেলা পছন্দ করেন না বিনিময় নিয়ে মুক্তি দেওয়া পছন্দ করেন? তিনি উত্তরে বললেন, বিনিময় দিতে রাযি হলে তা নিয়ে তাকে মুক্তি দেওয়াতেও কোন সমস্যা নেই অথবা মেরে ফেলতেও কোন আপত্তি নেই। ইসহাক বলেন, তাকে মেরে ফেলাটাই আমি উত্তম বলে মনে করি। তবে সে প্রসিদ্ধি লাভ করলে এবং তার ব্যাপারে নানাবিধ আশা করার সুযোগ থাকলে (তাকে মুক্তি দেওয়াই উচিত)।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৫৬৮-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বন্দী বিনিময়ের একটি সংক্ষিপ্ত কিন্তু স্পষ্ট ঘটনা বর্ণিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) একজন মুশরিক বন্দীর বিনিময়ে দুইজন মুসলিম বন্দীকে মুক্ত করেছেন। এখানে বিনিময়ের অনুপাতও পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে—একজনের বদলে দুইজন। বর্ণনায় আলোচনার শর্ত, সময়, স্থান বা অন্য কোনো বিস্তারিত নেই। তাই মূল শিক্ষা হলো, মুসলিম বন্দীদের মুক্ত করার জন্য বন্দী বিনিময়ের পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল। এই হাদিসকে নিজের মতো করে সব পরিস্থিতির স্থায়ী অনুপাত বানানো ঠিক নয়; কারণ পাঠে শুধু একটি নির্দিষ্ট ঘটনার কথা এসেছে। তবে এতটুকু স্পষ্ট যে বন্দীদের জীবন ও মুক্তি গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা ছিল এবং বাস্তবসম্মত বিনিময়ের মাধ্যমে তাদের ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বন্দীমুক্তির জন্য আলোচনাভিত্তিক একটি বাস্তব উপায় গ্রহণের নজিরও এতে দেখা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মুসলিম বন্দীদের মুক্ত করতে বন্দী বিনিময় করা হয়েছে।
- একজন মুশরিক বন্দীর বিনিময়ে দুই মুসলিম বন্দী মুক্ত হন।
- বর্ণনাটি একটি নির্দিষ্ট বিনিময়ের ঘটনা; সব ক্ষেত্রে একই অনুপাত বলা হয়নি।
