২৩/৭. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৭৯৭ - আহলে কিতাবের পাত্র ও শিকারের নিয়ম
কাফিরদের পাত্রে খাওয়া
আহলে কিতাবের পাত্র এবং কুকুর-তীরের শিকার
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৭৯৭
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৭৯৭
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عِيسَى بْنِ يَزِيدَ الْبَغْدَادِيُّ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُحَمَّدٍ الْعَيْشِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ أَيُّوبَ، وَقَتَادَةَ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَبِي أَسْمَاءَ الرَّحَبِيِّ، عَنْ أَبِي ثَعْلَبَةَ الْخُشَنِيِّ، أَنَّهُ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا بِأَرْضِ أَهْلِ الْكِتَابِ فَنَطْبُخُ فِي قُدُورِهِمْ وَنَشْرَبُ فِي آنِيَتِهِمْ. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " إِنْ لَمْ تَجِدُوا غَيْرَهَا فَارْحَضُوهَا بِالْمَاءِ " . ثُمَّ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا بِأَرْضِ صَيْدٍ فَكَيْفَ نَصْنَعُ قَالَ " إِذَا أَرْسَلْتَ كَلْبَكَ الْمُكَلَّبَ وَذَكَرْتَ اسْمَ اللَّهِ فَقَتَلَ فَكُلْ وَإِنْ كَانَ غَيْرَ مُكَلَّبٍ فَذُكِّيَ فَكُلْ وَإِذَا رَمَيْتَ بِسَهْمِكَ وَذَكَرْتَ اسْمَ اللَّهِ فَقَتَلَ فَكُلْ " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
আবূ সা‘লাবাহ আল-খুশানী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
হে আল্লাহ্র রাসূল (ﷺ)! আমরা আহ্লে কিতাবের লোকালয়ে বাস করি, তাদের হাঁড়ি-পাতিলে রান্না করি এবং তাদের থালা-বাটি পানাহারের কাজে লাগাই। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এদেরগুলো ব্যতীত অন্য ব্যবস্থা করতে না পারলে তবে পানি দিয়ে এগুলো ধুয়ে নাও।তিনি আবার বললেন, হে আল্লাহ্র রাসূল! শিকারের পশু পাওয়া যায় এমন এলাকায় আমরা বসবাস করি, আমরা কি করব? তিনি বললেনঃ তুমি শিকারের উদ্দেশ্যে তোমার শিকারী কুকুর ছেড়ে থাকলে এবং সাথে সাথে আল্লাহ তা‘আলার নাম নিয়ে থাকলে সে শিকার ধরে হত্যা করে ফেললে তুমি তা খেতে পার। কুকুরটি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত না হলে তবে এর শিকার যবেহ করার সুযোগ পাওয়া গেলে তা খাও। তুমি তোমার তীর নিক্ষেপ করলে এবং সাথে সাথে আল্লাহ্ তা‘আলার নাম নিলে তা শিকারকে মেরে ফেললেও তা খেতে পার।
এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা হাসান সহীহ্ বলেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৭৯৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে দৈনন্দিন জীবনের দুটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর এসেছে। প্রথম প্রশ্ন আহলে কিতাবের পাত্র নিয়ে। অন্য পাত্র না পাওয়া গেলে তাদের পাত্র পানি দিয়ে ধুয়ে ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। দ্বিতীয় প্রশ্ন শিকার নিয়ে। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কুকুর আল্লাহর নাম নিয়ে ছাড়লে এবং সে শিকার হত্যা করলে তা খাওয়া যাবে। কুকুর প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত না হলে জীবিত পাওয়া অবস্থায় যবেহ করতে পারলে খাওয়া যাবে। তীর ছোড়ার সময় আল্লাহর নাম নিলে এবং তাতে শিকার মারা গেলেও খাওয়া যাবে। তাই হাদিসটির মূল শিক্ষা হলো পরিচ্ছন্ন পাত্র ব্যবহার, আল্লাহর নাম নেওয়া এবং শিকারের ধরন অনুযায়ী করণীয় জানা। ব্যাখ্যায় প্রশিক্ষিত ও অপ্রশিক্ষিত কুকুরের শর্ত গুলিয়ে ফেলা যাবে না। একইভাবে পাত্র ব্যবহারের শর্তও ‘অন্য পাত্র না পাওয়া’র সঙ্গে যুক্ত।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অন্য পাত্র না পেলে আহলে কিতাবের পাত্র ধুয়ে ব্যবহার করতে বলা হয়েছে
- প্রশিক্ষিত কুকুর ছাড়ার সময় আল্লাহর নাম নিতে বলা হয়েছে
- তীর ছোড়ার সময় আল্লাহর নাম নিলে শিকার খাওয়ার অনুমতি আছে
