২৩/১৪. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৮১০ - দুর্গন্ধযুক্ত খাবার ও ফেরেশতাকে কষ্ট না দেওয়া
রসুন রান্না করে খাওয়ার অনুমতি প্রসঙ্গে
পেঁয়াজ-রসুনের গন্ধ ও ফেরেশতাকে কষ্ট না দেওয়ার আদব
জামে‘ আত-তিরমিযী : ১৮১০
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ১৮১০
حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ الصَّبَّاحِ الْبَزَّارُ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي يَزِيدَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ أُمَّ أَيُّوبَ، أَخْبَرَتْهُ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ نَزَلَ عَلَيْهِمْ فَتَكَلَّفُوا لَهُ طَعَامًا فِيهِ مِنْ بَعْضِ هَذِهِ الْبُقُولِ فَكَرِهَ أَكْلَهُ فَقَالَ لأَصْحَابِهِ " كُلُوهُ فَإِنِّي لَسْتُ كَأَحَدِكُمْ إِنِّي أَخَافُ أَنْ أُوذِيَ صَاحِبِي " . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ غَرِيبٌ. وَأُمُّ أَيُّوبَ هِيَ امْرَأَةُ أَبِي أَيُّوبَ الأَنْصَارِيِّ .
উম্মু আইয়্যূব (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) তাঁদের মেহমান হলেন। তাঁরা তাঁর জন্য সুস্বাদু খাবার রান্না করেন। তার মধ্যে এই (পিয়াজ-রসুনের) সবজীরও কিছু অংশ ছিল। তিনি তা খেতে অপছন্দ করলেন। তিনি তাঁর সাহাবীদের বললেনঃ তোমরা এটা খাও। আমি তোমাদের কারো মতো নই। আমার আশংকা হচ্ছে (এটা খাওয়ার কারণে) আমার সাথীকে (ফেরেশতার) কষ্টে ফেলতে পারি
এ হাদীসটিকে আবূ ঈসা (রহঃ) হাসান সহীহ্ গারীব বলেছেন। উম্মু আইয়্যূব (রাঃ) হলেন আবূ আইয়্যূব আনসারী (রাঃ)-এর স্ত্রী।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ১৮১০-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর জন্য তৈরি খাবারে পেঁয়াজ-রসুনজাত কিছু সবজি ছিল। তিনি নিজে তা খেতে অপছন্দ করেন, কিন্তু সাহাবীদের খেতে বলেছেন। এতে বোঝা যায়, খাবারটি তাদের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়নি। তিনি নিজের অবস্থার কারণও বলেছেন—তিনি আশঙ্কা করতেন যে এর গন্ধে তাঁর সাথী ফেরেশতা কষ্ট পেতে পারেন। তাই হাদিসটির মূল বিষয় হলো দুর্গন্ধযুক্ত খাবার, ব্যক্তিগত বিরত থাকা এবং অন্যকে তা খেতে অনুমতি দেওয়া। এখানে নবী (صلى الله عليه وسلم) নিজের জন্য যে সতর্কতা নিয়েছেন, তা সবার ওপর একই ভাষায় আরোপ করা হয়নি; বরং তিনি বলেছেন, “আমি তোমাদের কারো মতো নই।” পেঁয়াজ-রসুন খাওয়ার বিধান বুঝতে এই পার্থক্য জরুরি। খাবার হালাল হওয়া সত্ত্বেও তার গন্ধের কারণে বিশেষ অবস্থায় তা এড়িয়ে চলা যেতে পারে—এই বর্ণনার সরাসরি শিক্ষা এটুকুই।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবী (صلى الله عليه وسلم) নিজে খাবারটি খাননি, কিন্তু সাহাবীদের খেতে বলেছেন।
- দুর্গন্ধের কারণে সাথী ফেরেশতাকে কষ্ট দেওয়ার আশঙ্কা উল্লেখ হয়েছে।
- খাবারটি সবার জন্য হারাম ঘোষণা করা হয়নি।
