৩৫/৩৭. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৪৭৮ - অতিভোজন ও কিয়ামতের দিনের ক্ষুধা
পেট পূর্ণ করে খাদ্যগ্রহণকারী ব্যক্তি কেয়ামতের দিন ক্ষুধার্ত থাকবে
অতিভোজন থেকে সতর্কতা: ঢেকুর তোলার হাদিস
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৪৭৮
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৪৭৮
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ حُمَيْدٍ الرَّازِيُّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْقُرَشِيُّ، حَدَّثَنَا يَحْيَى الْبَكَّاءُ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، قَالَ تَجَشَّأَ رَجُلٌ عِنْدَ النَّبِيِّ ﷺ فَقَالَ " كُفَّ عَنَّا جُشَاءَكَ فَإِنَّ أَكْثَرَهُمْ شِبَعًا فِي الدُّنْيَا أَطْوَلُهُمْ جُوعًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ» .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي جُحَيْفَةَ .
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
কোন একদিন এক ব্যক্তি নবী (ﷺ)-এর সামনে ঢেকুর তুললো। তিনি বললেন, আমাদের সামনে তোমার ঢেকুর তোলা বন্ধ কর। অবশ্যই যে সকল ব্যক্তি দুনিয়াতে বেশি পরিতৃপ্ত হবে তারাই কেয়ামতের দিন সবচেয়ে বেশি ক্ষুধার্ত থাকবে।
আবু ঈসা বলেন, এই হাদীসটি হাসান, এই সনদসূত্রে গারীব। আবু জুহাইফা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৪৭৮-এর সারসংক্ষেপ
এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সামনে ঢেকুর তুললে তিনি তাকে তা বন্ধ করতে বলেন। এরপর তিনি সতর্ক করেন যে, দুনিয়ায় যারা বেশি পরিতৃপ্ত হয়ে খায়, কিয়ামতের দিন তাদের ক্ষুধা দীর্ঘ হবে। হাদিসের সরাসরি বিষয় হলো অতিরিক্ত খাওয়া ও তার প্রকাশ হিসেবে সামনে ঢেকুর তোলা। এটি খাবারকে হারাম বলা বা প্রয়োজনমতো পেট ভরে খাওয়া নিষিদ্ধ করার বক্তব্য নয়। বরং সীমা ছাড়িয়ে খাওয়া এবং ভোগে ডুবে থাকার বিরুদ্ধে সতর্কতা রয়েছে। মানুষ খাবারকে আল্লাহর নিয়ামত হিসেবে গ্রহণ করবে, কিন্তু সংযম হারাবে না। এমনভাবে খাওয়া উচিত নয় যাতে শরীর অস্বস্তিতে পড়ে বা অন্যের সামনে অশোভন আচরণ প্রকাশ পায়। খাবারের সময় পরিমিতি ও শিষ্টাচার—দুই দিকেই মনোযোগ দেওয়া দরকার।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- খাবারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তৃপ্তি ও সীমাহীন ভোজন থেকে সতর্ক থাকা উচিত।
- অন্যের সামনে অস্বস্তিকর ঢেকুর তোলা থেকে বিরত থাকা শিষ্টাচারের অংশ।
- খাবার আল্লাহর নিয়ামত; তাই তা সংযমের সঙ্গে গ্রহণ করা দরকার।
- দুনিয়ার ভোগে অতিরিক্ত ডুবে থাকার পরিণতি সম্পর্কে হাদিসে সতর্ক করা হয়েছে।
