৪২/১৮. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৯১৩ - কুরআনশূন্য হৃদয় বিরান ঘরের মতো
(কুরআন পাঠকারীর অবস্থান)
অন্তরে কুরআন রাখা: বিরান ঘরের উপমা থেকে শিক্ষা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৯১৩
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৯১৩
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ قَابُوسِ بْنِ أَبِي ظَبْيَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " إِنَّ الَّذِي لَيْسَ فِي جَوْفِهِ شَيْءٌ مِنَ الْقُرْآنِ كَالْبَيْتِ الْخَرِبِ» . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) বলেনঃ যার হৃদয়ে কোরআনের কিছুই নেই সে বর্জিত ঘরের মত।
আবূ ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৯১৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم এমন ব্যক্তির হৃদয় বা অন্তরকে বিরান ঘরের সঙ্গে তুলনা করেছেন, যার ভেতরে কুরআনের কিছুই নেই। উপমাটি খুব সহজ কিন্তু গভীর। একটি পরিত্যক্ত ও ভাঙা ঘর যেমন প্রাণহীন অবস্থায় পড়ে থাকে, তেমনি কুরআনের কোনো অংশ ধারণ না করা অন্তরের অভাবও এতে বোঝানো হয়েছে। হাদিসটি অন্তরে কুরআন রাখার গুরুত্ব তুলে ধরে। এর মধ্যে কুরআনের কিছু অংশ শেখা, মনে রাখা এবং নিয়মিত পাঠের প্রতি উৎসাহ পাওয়া যায়। তবে হাদিসে কত সূরা বা কত আয়াত মুখস্থ করতে হবে, তার নির্দিষ্ট সংখ্যা বলা হয়নি। তাই সামর্থ্য অনুযায়ী অল্প থেকে শুরু করা যায়। শেখা অংশ নিয়মিত পড়া এবং স্মরণে রাখার চেষ্টা কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ককে জীবন্ত রাখতে সাহায্য করে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- অন্তরে কুরআনের কোনো অংশ না থাকাকে বিরান ঘরের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
- সামর্থ্য অনুযায়ী কুরআনের কিছু অংশ শেখা ও মনে রাখার চেষ্টা করা উচিত।
- হাদিসে মুখস্থের কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়নি।
- শেখা অংশ নিয়মিত পাঠ করলে তা স্মরণে রাখার চেষ্টা সহজ হয়।
