৪৪/৩. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৯৭৩ - ইহরামে অসুস্থতার ফিদিয়া
সূরা আল-বাক্বারাহ
ইহরাম অবস্থায় মাথা মুণ্ডনের ফিদিয়া: কাব ইবনু উজরা রাঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী : ২৯৭৩
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৯৭৩
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَخْبَرَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا مُغِيرَةُ، عَنْ مُجَاهِدٍ، قَالَ قَالَ كَعْبُ بْنُ عُجْرَةَ وَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ لَفِيَّ أُنْزِلَتْ هَذِهِ الآيَةُ وَإِيَّاىَ عَنَى بِهَا : ﴾فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَرِيضًا أَوْ بِهِ أَذًى مِنْ رَأْسِهِ فَفِدْيَةٌ مِنْ صِيَامٍ أَوْ صَدَقَةٍ أَوْ نُسُكٍ ﴿ قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ ﷺ بِالْحُدَيْبِيَةِ وَنَحْنُ مُحْرِمُونَ وَقَدْ حَصَرَنَا الْمُشْرِكُونَ وَكَانَتْ لِي وَفْرَةٌ فَجَعَلَتِ الْهَوَامُّ تَسَاقَطُ عَلَى وَجْهِي فَمَرَّ بِيَ النَّبِيُّ ﷺ فَقَالَ " كَأَنَّ هَوَامَّ رَأْسِكَ تُؤْذِيكَ " . قَالَ قُلْتُ نَعَمْ . قَالَ «فَاحْلِقْ» . وَنَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ . قَالَ مُجَاهِدٌ الصِّيَامُ ثَلاَثَةُ أَيَّامٍ وَالطَّعَامُ سِتَّةُ مَسَاكِينَ وَالنُّسُكُ شَاةٌ فَصَاعِدًا .
কা‘ব ইবনু ‘উজরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
যে মহান সত্তার হাতে আমার প্রাণ নিবদ্ধ তাঁর শপথ! আমার সম্পর্কেই নিম্নোক্ত আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে এবং তাতে আমার প্রতিই ইঙ্গিত করা হয়েছে : “তোমাদের মধ্যে যদি কেউ পীড়িত হয়, বা মাথায় ক্লেশ থাকে, তবে রোযা অথবা দান-খাইরাত অথবা কুরবানীর দ্বারা তারা ফিদিয়া দিবে” (সূরা আল –বাক্বারাহ ১৯৬)।কা’ব ইবনু উজরাহ (রাঃ) বলেন, আমরা নবী (ﷺ) এর সাথে হুদাইবিয়াতে ইহ্রাম অবস্থায় ছিলাম। মুশরিকরা আমাদেরকে (হজ্জ বা উমরার উদ্দেশ্যে মক্কায় যেতে) বাধা দিল। আমার মাথায় বাবরী চুল ছিল। উকুন আমার মুখমন্ডলে পতিত হচ্ছিল। নবী (ﷺ) আমার নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি বললেনঃ তোমার মাথার কীটগুলো কি তোমাকে কষ্ট দিচ্ছে? আমি বললাম, হ্যাঁ। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ তুমি তোমার মাথার চুল মুন্ডন করে ফেল। এ প্রসঙ্গেই এ আয়াত অবতীর্ণ হয়। মুজাহিদ (রহঃ) বলেন, এক্ষেত্রে তিনটি রোযা রাখতে হবে অথবা খাদ্য দান করতে হবে ছয়জন মিসকীনকে অথবা এক বা একাধিক ছাগল যবেহ করতে হবে।
‘আলী ইবনু হুজর-হুশাইম হতে, তিনি আশ’আস ইবনু সাওওয়ার হতে, তিনি শা’বী হতে, তিনি ‘আবদুল্লাহ ইবনু মা’কিল হতে, তিনি কা’ব ইবনু উজরাহ (রাঃ) হতে, তিনি নবী (ﷺ) হতে এই সূত্রে উপরোক্ত হাদীসের একই রকম বর্ণনা করেছেন। আবূ ‘‘ঈসা বলেনঃ এ হাদীসটি হাসান সহীহ। ‘আবদুর রহমান ইবনুল আসবাহানী (রহঃ) ‘আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফফালের সূত্রে একই রকম হাদীস বর্ণনা করেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৯৭৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইহরাম অবস্থায় অসুস্থতা বা মাথার কষ্টের কারণে চুল মুণ্ডন করার সুযোগ এবং তার ফিদিয়া বর্ণিত হয়েছে। হুদাইবিয়ার সময় কাব ইবনু উজরা রাঃ ইহরাম অবস্থায় ছিলেন। তাঁর মাথায় লম্বা চুল ছিল এবং এত উকুন হয়েছিল যে সেগুলো মুখে পড়ছিল। নবী صلى الله عليه وسلم তাঁর কষ্ট দেখে জিজ্ঞেস করেন, মাথার কীটগুলো তাঁকে কষ্ট দিচ্ছে কি না। তিনি হ্যাঁ বললে তাঁকে চুল মুণ্ডন করতে বলেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে অসুস্থতা বা মাথার কষ্ট থাকলে রোজা, দান অথবা পশু জবাইয়ের মাধ্যমে ফিদিয়া দেওয়ার আয়াত নাজিল হয়। বর্ণনায় মুজাহিদ রহ. তিন দিন রোজা, ছয়জন মিসকিনকে খাদ্য দেওয়া অথবা এক বা একাধিক ছাগল জবাইয়ের কথা বলেছেন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- গুরুতর মাথার কষ্ট হলে ইহরাম অবস্থায় চুল মুণ্ডনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
- চুল মুণ্ডনের পরিবর্তে নির্ধারিত ফিদিয়া দিতে হয়।
- বর্ণনায় তিন দিন রোজা বা ছয়জন মিসকিনকে খাদ্য দেওয়ার কথা এসেছে।
- পশু জবাই করাও উল্লেখিত ফিদিয়ার একটি বিকল্প।
