৪৪/৩. অধ্যায়ঃ

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৯৭৭ - হায়েজের সময় স্ত্রীর সঙ্গে আচরণ

সূরা আল-বাক্বারাহ

হায়েজের সময় স্ত্রীর সঙ্গে স্বাভাবিক জীবন ও সহবাসের নিষেধ

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ২৯৭৭

حَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ سَلَمَةَ، عَنْ ثَابِتٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ كَانَتِ الْيَهُودُ إِذَا حَاضَتِ امْرَأَةٌ مِنْهُمْ لَمْ يُوَاكِلُوهَا وَلَمْ يُشَارِبُوهَا وَلَمْ يُجَامِعُوهَا فِي الْبُيُوتِ فَسُئِلَ النَّبِيُّ ﷺ عَنْ ذَلِكَ فَأَنْزَلَ اللَّهُ تَعَالَى: ﴾يَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ قُلْ هُوَ أَذًى﴿ فَأَمَرَهُمْ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ أَنْ يُوَاكِلُوهُنَّ وَيُشَارِبُوهُنَّ وَأَنْ يَكُونُوا مَعَهُنَّ فِي الْبُيُوتِ وَأَنْ يَفْعَلُوا كُلَّ شَيْءٍ مَا خَلاَ النِّكَاحَ فَقَالَتِ الْيَهُودُ مَا يُرِيدُ أَنْ يَدَعَ شَيْئًا مِنْ أَمْرِنَا إِلاَّ خَالَفَنَا فِيهِ. قَالَ فَجَاءَ عَبَّادُ بْنُ بِشْرٍ وَأُسَيْدُ بْنُ حُضَيْرٍ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَأَخْبَرَاهُ بِذَلِكَ وَقَالاَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَفَلاَ نَنْكِحُهُنَّ فِي الْمَحِيضِ فَتَمَعَّرَ وَجْهُ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ حَتَّى ظَنَنَّا أَنَّهُ قَدْ غَضِبَ عَلَيْهِمَا فَقَامَا فَاسْتَقْبَلَتْهُمَا هَدِيَّةٌ مِنْ لَبَنٍ فَأَرْسَلَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ فِي آثَارِهِمَا فَسَقَاهُمَا فَعَلِمْنَا أَنَّهُ لَمْ يَغْضَبْ عَلَيْهِمَا. قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

ইয়াহূদীদের এই নিয়ম ছিল যে, তাদের কোন নারীর মাসিক ঋতুস্রাব হলে তারা তার সাথে একত্রে পানাহারও করত না এবং একই ঘরে একত্রে বসবাসও করত না। এ বিষয়ে নবী (ﷺ)-কে প্রশ্ন করা হলে আল্লাহ তা’আলা অবতীর্ণ করেন :“লোকেরা আপনাকে হায়িয প্রসঙ্গে প্রশ্ন করে। বলুন, তা অশুচি” –(সূরা আল –বাক্বারাহ ২২২)।তখন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের সাথে যথারীতি একত্রে পানাহারের ও ঘরে একসাথে বসবাসের নির্দেশ দেন, শুধু সহবাস প্রসঙ্গ ব্যতীত। এতে ইয়াহূদীরা বলল, এ লোকটি আমাদের কোন একটি বিষয়েরও বিরোধিতা না করে ছাড়ছে না।বর্ণনাকারী বলেন, আব্বাদ ইবনু বিশর ও উসাইদ ইবনু হুযাইর (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট আসেন এবং বিষয়টি তাঁকে জানান। তারা বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমরা কি ঋতুস্রাব চলাকালে স্ত্রী-সহবাস করব না? এতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) -এর চেহারা রক্তিম বর্ণ হয়ে গেল। আমরা অনুমান করলাম, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের উভয়ের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়েছেন। তারা দুজনে উঠে রাওনা করলেন। তাদের সামনে দিয়েই রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর জন্যে দুধ হাদিয়া এলো। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদেরকে ডেকে পাঠান এবং তাদেরকে দুধ পান করান। এতে তারা বুঝতে পারল রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাদের প্রতি অসন্তুষ্ট হননি।

আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। মুহাম্মদ ইবনু ‘আবদুল ‘আলা-‘আবদুর রাহমান ইবনু মাহদী হতে, তিনি হাম্মাদ ইবনু সালামা হতে, তিনি সাবিত হতে, তিনি আনাস (রাঃ) হতে অনুরূপ অর্থবোধক হাদীস বর্ণনা করেছেন।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ২৯৭৭-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে ঋতুস্রাবের সময় নারীর সঙ্গে পরিবারের আচরণ কেমন হবে তা পরিষ্কার করা হয়েছে। ইয়াহুদিরা ঋতুবতী নারীর সঙ্গে একসঙ্গে খাওয়া, পান করা ও একই ঘরে থাকা বন্ধ করে দিত। বিষয়টি নবী صلى الله عليه وسلم-কে জিজ্ঞেস করা হলে হায়েজকে কষ্ট বা অশুচি বলা আয়াত নাজিল হয়। এরপর রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم মুসলিমদের নির্দেশ দেন, ঋতুবতী নারীর সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে খাওয়া, পান করা এবং একই ঘরে থাকা যাবে। শুধু যৌন সহবাস থেকে বিরত থাকতে হবে। পরে দুজন সাহাবি আরও কঠোর আচরণ করা হবে কি না জানতে চাইলে নবী صلى الله عليه وسلم-এর চেহারায় পরিবর্তন দেখা যায়। তাঁরা চলে যাওয়ার পর তিনি তাঁদের ডেকে দুধ পান করান। এতে বোঝা যায়, প্রশ্নের কারণে তাঁদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন বা কঠোর ব্যবহার করা হয়নি।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • ঋতুস্রাবের সময় নারীকে পরিবার থেকে আলাদা করা যাবে না।
  • তার সঙ্গে একসঙ্গে খাওয়া, পান করা ও একই ঘরে থাকা যায়।
  • হায়েজ চলাকালে যৌন সহবাস থেকে বিরত থাকতে হবে।
  • প্রশ্নকারীকে ভুল বোঝাবুঝির মধ্যে ফেলে না রেখে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা উচিত।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন