৪৪/৪. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩০০২ - উহুদের আঘাত ও আল্লাহর সিদ্ধান্ত
সূরা আলে ইমরান
উহুদের যুদ্ধ ও আল্লাহর সিদ্ধান্ত: সূরা আলে ইমরান ১২৮
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩০০২
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩০০২
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ مَنِيعٍ، حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ كُسِرَتْ رَبَاعِيَتُهُ يَوْمَ أُحُدٍ وَشُجَّ وَجْهُهُ شَجَّةً فِي جَبْهَتِهِ حَتَّى سَالَ الدَّمُ عَلَى وَجْهِهِ فَقَالَ «كَيْفَ يُفْلِحُ قَوْمٌ فَعَلُوا هَذَا بِنَبِيِّهِمْ وَهُوَ يَدْعُوهُمْ إِلَى اللَّهِ " . فَنَزَلَتْ : ﴾ لَيْسَ لَكَ مِنَ الأَمْرِ شَيْءٌ أَوْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ أَوْ يُعَذِّبَهُمْ ) إِلَى آخِرِهَا . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ .
আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
উহূদের যুদ্ধের দিন নবী (ﷺ) এর সামনের মাড়ির দাঁত ভেঙ্গে যায়। তাঁর চেহারা জখম হয়, এমনকি কপালে জখম হওয়ার কারণে মুখমণ্ডলে রক্ত ঝরে পড়ে। তখন তিনি বললেনঃ কিভাবে ঐ জাতি সফলকাম হবে, যারা তাদের নবীর সাথে এহেন আচরণ করেছে, অথচ তিনি তাদেরকে আল্লাহ তা’আলার পথে আহবান করেছেন।তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয় : “তিনি তাদের প্রতি ক্ষমাশীল হবেন অথবা তাদেরকে শাস্তি দিবেন এ বিষয়ে তোমার করণীয় কিছু নেই। কারণ তারা যালিম” – (সূরা আ-লি ‘ইমরান ১২৮)।
আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩০০২-এর সারসংক্ষেপ
উহুদের যুদ্ধের দিন রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর সামনের মাড়ির দাঁত ভেঙে যায়, কপাল ও মুখমণ্ডল আহত হয় এবং তাঁর চেহারা বেয়ে রক্ত ঝরে। তিনি মানুষকে আল্লাহর পথে ডাকছিলেন, অথচ তাঁর জাতির লোকেরা তাঁকে এভাবে আঘাত করেছিল। এই কষ্টের মুহূর্তে তিনি প্রশ্ন করেন, যারা নিজেদের নবীর সঙ্গে এমন আচরণ করে তারা কীভাবে সফল হবে। এরপর সূরা আলে ইমরান ১২৮ নম্বর আয়াত নাজিল হয়। আয়াতে জানানো হয়, তাদের তাওবা কবুল করা হবে নাকি শাস্তি দেওয়া হবে—এই সিদ্ধান্ত নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর হাতে নয়। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আল্লাহর। হাদিসটি নবীজির শারীরিক কষ্ট এবং আল্লাহর ফয়সালার বিষয়টি একসঙ্গে তুলে ধরে। মানুষের বর্তমান অন্যায় দেখেও তার শেষ পরিণতি সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া মানুষের কাজ নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- উহুদের যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) গুরুতরভাবে আহত হয়েছিলেন।
- মানুষকে ক্ষমা করা বা শাস্তি দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আল্লাহর হাতে।
- কারও বর্তমান অন্যায় দেখে তার শেষ পরিণতি নিশ্চিতভাবে ঘোষণা করা ঠিক নয়।
