৪৪/৪. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩০০৪ - তাওবার দরজা ও আল্লাহর ফয়সালা
সূরা আলে ইমরান
তাওবার দরজা খোলা: শত্রু থেকেও উত্তম মুসলিম হওয়ার ঘটনা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩০০৪
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩০০৪
حَدَّثَنَا أَبُو السَّائِبِ، سَلْمُ بْنُ جُنَادَةَ بْنِ سَلْمٍ الْكُوفِيُّ حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ بَشِيرٍ، عَنْ عُمَرَ بْنِ حَمْزَةَ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَوْمَ أُحُدٍ " اللَّهُمَّ الْعَنْ أَبَا سُفْيَانَ اللَّهُمَّ الْعَنِ الْحَارِثَ بْنَ هِشَامٍ اللَّهُمَّ الْعَنْ صَفْوَانَ بْنَ أُمَيَّةَ " .قَالَ فَنَزَلَتْ : ﴾لَيْسَ لَكَ مِنَ الأَمْرِ شَيْءٌ أَوْ يَتُوبَ عَلَيْهِمْ أَوْ يُعَذِّبَهُمْ ) فَتَابَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ فَأَسْلَمُوا فَحَسُنَ إِسْلاَمُهُمْ . قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ يُسْتَغْرَبُ مِنْ حَدِيثِ عُمَرَ بْنِ حَمْزَةَ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ . وَقَدْ رَوَاهُ الزُّهْرِيُّ عَنْ سَالِمٍ عَنْ أَبِيهِ لَمْ يَعْرِفْهُ مُحَمَّدُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ مِنْ حَدِيثِ عُمَرَ بْنِ حَمْزَةَ وَعَرَفَهُ مِنْ حَدِيثِ الزُّهْرِيِّ .
সালিম ইবনু আবদুল্লাহ (রহঃ) হতে তার বাবা হতে বর্ণিতঃ
উহূদের দিন রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেনঃ “হে আল্লাহ! আবূ সুফইয়ানের প্রতি অভিশাপ বর্ষণ করুন। হে আল্লাহ! আল –হারিস ইবনু হিশামের প্রতি অভিশাপ বর্ষণ করুন। হে আল্লাহ! সাফওয়ান ইবনু উমাইয়্যার প্রতি অভিশাপ বর্ষণ করুন”।বর্ণনাকারী বলেন, তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয় : “তিনি তাদের প্রতি ক্ষমাশীল হবেন অথবা তাদেরকে শাস্তি দিবেন এ বিষয়ে তোমার করণীয় কিছু নেই….” – (সূরা আ-লি ‘ইমরান ১২৮)।অতঃপর আল্লাহ তা’আলা তাদের তাওবাহ কবুল করেন এবং তারা ইসলাম গ্রহণ করে উত্তম মুসলিম হন।
আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। ‘উমার ইবনু হামযা কর্তৃক সালিম (রহঃ) হতে তার বাবার সূত্রে বর্ণিত হাদীস হিসেবে এটিকে গারীব গণ্য করা হয়। যুহরী ও সালিম হতে, তার পিতার সূত্রে এটি বর্ণনা করেছেন। মুহাম্মদ ইবনু ইসমাঈল (আল -বুখারী) এটি উমার ইবনু হামযাহ কর্তৃক বর্ণিত হাদীস হিসেবে অবহিত নন। তিনি এটি যুহরী কর্তৃক বর্ণিত হাদীস হিসেবে অবহিত আছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩০০৪-এর সারসংক্ষেপ
উহুদের দিন রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) আবু সুফিয়ান, হারিস ইবন হিশাম এবং সফওয়ান ইবন উমাইয়ার বিরুদ্ধে বদদোয়া করেছিলেন। তখন সূরা আলে ইমরান ১২৮ নাজিল হয়। এতে জানানো হয়, এ বিষয়ে নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর হাতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেই; আল্লাহ চাইলে তাদের তাওবা কবুল করবেন, আবার চাইলে শাস্তি দেবেন। হাদিসের পরের অংশে দেখা যায়, আল্লাহ তাদের তাওবা কবুল করেন। তারা ইসলাম গ্রহণ করেন এবং তাদের ইসলাম সুন্দর হয়। এই হাদিস তাওবার দরজা সম্পর্কে আশাব্যঞ্জক শিক্ষা দেয়। যে ব্যক্তি আজ ইসলামের বিরোধিতা করছে, তার ভবিষ্যৎ অবস্থা সম্পর্কে মানুষ নিশ্চিত নয়। আল্লাহ চাইলে তাকে হিদায়াত দিতে পারেন। তাই আল্লাহর ফয়সালা আসার আগে কারও শেষ পরিণতি স্থির ধরে নেওয়া ঠিক নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ক্ষমা, শাস্তি ও তাওবা কবুলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আল্লাহর হাতে।
- একজন বিরোধী মানুষও পরে ইসলাম গ্রহণ করে উত্তম মুসলিম হতে পারে।
- মানুষের বর্তমান অবস্থা দেখে তার ভবিষ্যৎ সম্পর্কে চূড়ান্ত রায় দেওয়া ঠিক নয়।
