২/১১৯. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩০৯ - ইশার নামাজে সূরা শামস
‘ইশার নামাজের কেরাত
ইশার নামাজে সূরা শামস ও অনুরূপ সূরা পাঠের হাদিস
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩০৯
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩০৯
حَدَّثَنَا عَبْدَةُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الْخُزَاعِيُّ الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا زَيْدُ بْنُ الْحُبَابِ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ وَاقِدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ يَقْرَأُ فِي الْعِشَاءِ الآخِرَةِ بِالشَّمْسِ وَضُحَاهَا وَنَحْوِهَا مِنَ السُّوَرِ .قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ وَأَنَسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ بُرَيْدَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَقَدْ رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ قَرَأَ فِي الْعِشَاءِ الآخِرَةِ بِالتِّينِ وَالزَّيْتُونِ . وَرُوِيَ عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَفَّانَ أَنَّهُ كَانَ يَقْرَأُ فِي الْعِشَاءِ بِسُوَرٍ مِنْ أَوْسَاطِ الْمُفَصَّلِ نَحْوِ سُورَةِ الْمُنَافِقِينَ وَأَشْبَاهِهَا . وَرُوِيَ عَنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ وَالتَّابِعِينَ أَنَّهُمْ قَرَءُوا بِأَكْثَرَ مِنْ هَذَا وَأَقَلَّ فَكَأَنَّ الأَمْرَ عِنْدَهُمْ وَاسِعٌ فِي هَذَا . وَأَحْسَنُ شَيْءٍ فِي ذَلِكَ مَا رُوِيَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ أَنَّهُ قَرَأَ بِالشَّمْسِ وَضُحَاهَا وَالتِّينِ وَالزَّيْتُونِ .
‘আবদুল্লাহ ইবনু বুরাইদা (রহঃ) হতে তাঁর পিতা হতে বর্ণিতঃ
তিনি (বুরাইদা) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ‘ইশার নামাজে ‘ওয়াশ-শামসি ওয়া যুহাহা’ ও এ ধরনের সূরাগুলো পাঠ করতেন।
আবূ ‘ঈসা বলেনঃ বুরাইদার হাদীসটি হাসান। এ অনুচ্ছেদে বারাআ ইবনু ‘আযিব (রাঃ) হতেও হাদীস বর্ণিত আছে। বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ‘ইশার নামাজে ‘ওয়াত-তীনি ওয়ায-যাইতূন’ সূরা পাঠ করেছেন। উসমান ইবনু ‘আফফান (রাঃ) ‘ইশার নামাজে সূরা ‘আল-মুনাফিকূন’ ও অনুরূপ ধরনের আওসাতি মুফাফ্সাল সূরা পাঠ করতেন। অন্যান্য সাহাবা ও তাবিঈদের প্রসঙ্গে বর্ণিত আছে, তাঁরা কখনও উল্লেখিত পরিমাণের বেশিও পাঠ করেছেন আবার কখনও কম পাঠ করেছেন। তাঁদের মতে, সূরা পাঠের আকার-আয়তন ও পরিধি ব্যাপক। সূরা-কিরা’আত বড় বা ছোট করার সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে বারাআ ইবনু আযিব (রাঃ)-এর বর্ণনাটি সবচাইতে ভাল। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ‘ইশার নামাজে ‘ওয়াশ-শামসি ওয়া যুহাহা’ ও ‘ওয়াত-তীনি ওয়ায-যাইতূন সূরা’ পাঠ করেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩০৯-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বুরাইদা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) ইশার নামাজে ‘ওয়াশ-শামসি ওয়া যুহাহা’ এবং এ ধরনের সূরাগুলো পাঠ করতেন। এখানে মূল বিষয় হলো ইশার নামাজে কিরাআত। বর্ণনায় সরাসরি বলা হয়েছে, তিনি সূরা শামস ও অনুরূপ সূরা পড়তেন। তাই ইশার নামাজে মাঝারি বা কাছাকাছি ধরনের সূরা পড়ার একটি উদাহরণ এখানে পাওয়া যায়। তবে এই হাদিস থেকে এটুকুই বলা উচিত—নবী (صلى الله عليه وسلم) এমন পাঠ করেছেন। এটিকে সব সময়ের জন্য বাধ্যতামূলক সূরা বলা ঠিক নয়। ইশার নামাজ, সূরা শামস, কুরআন তিলাওয়াত এবং নবীজির কিরাআত খুঁজলে এই হাদিস খুব প্রাসঙ্গিক।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইশার নামাজে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) সূরা শামস পাঠ করেছেন।
- একই ধরনের সূরা পড়ার দৃষ্টান্তও এই বর্ণনায় আছে।
- নামাজে কিরাআত সম্পর্কে সাহাবীদের স্মরণ শক্তি ও যত্ন দেখা যায়।
- নির্দিষ্ট বর্ণনাকে অতিরিক্ত কঠোর নিয়ম বানানো উচিত নয়।
