৪৪/৪৭. অধ্যায়ঃ

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩২৫৬ - উসমান (রাঃ)-কে হত্যার বিরুদ্ধে সতর্কতা

সূরা আল-আহক্বাফ

উসমান (রাঃ)-এর জীবন রক্ষায় আবদুল্লাহ ইবনু সালামের সতর্কবার্তা

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩২৫৬

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ سَعِيدٍ الْكِنْدِيُّ، حَدَّثَنَا أَبُو مُحَيَّاةَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنِ ابْنِ أَخِي عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلاَمٍ، لَمَّا أُرِيدَ عُثْمَانُ جَاءَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ سَلاَمٍ فَقَالَ لَهُ عُثْمَانُ مَا جَاءَ بِكَ قَالَ جِئْتُ فِي نَصْرِكَ قَالَ اخْرُجْ إِلَى النَّاسِ فَاطْرُدْهُمْ عَنِّي فَإِنَّكَ خَارِجٌ خَيْرٌ لِي مِنْكَ دَاخِلٌ. فَخَرَجَ عَبْدُ اللَّهِ إِلَى النَّاسِ فَقَالَ أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّهُ كَانَ اسْمِي فِي الْجَاهِلِيَّةِ فُلاَنٌ فَسَمَّانِي رَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَبْدَ اللَّهِ وَنَزَلَ فِيَّ آيَاتٌ مِنْ كِتَابِ اللَّهِ نَزَلَتْ فِيَّ : ( وشَهِدَ شَاهِدٌ مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ عَلَى مِثْلِهِ فَآمَنَ وَاسْتَكْبَرْتُمْ إِنَّ اللَّهَ لاَ يَهْدِي الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ ) وَنَزَلَتْ فِيَّ : (قلْ كَفَى بِاللَّهِ شَهِيدًا بَيْنِي وَبَيْنَكُمْ وَمَنْ عِنْدَهُ عِلْمُ الْكِتَابِ ) إِنَّ لِلَّهِ سَيْفًا مَغْمُودًا عَنْكُمْ وَإِنَّ الْمَلاَئِكَةَ قَدْ جَاوَرَتْكُمْ فِي بَلَدِكُمْ هَذَا الَّذِي نَزَلَ فِيهِ نَبِيُّكُمْ فَاللَّهَ اللَّهَ فِي هَذَا الرَّجُلِ أَنْ تَقْتُلُوهُ فَوَاللَّهِ إِنْ قَتَلْتُمُوهُ لَتَطْرُدُنَّ جِيرَانَكُمُ الْمَلاَئِكَةَ وَلَتَسُلُّنَّ سَيْفَ اللَّهِ الْمَغْمُودَ عَنْكُمْ فَلاَ يُغْمَدُ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ قَالَ فَقَالُوا اقْتُلُوا الْيَهُودِيَّ وَاقْتُلُوا عُثْمَانَ.قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ. وَقَدْ رَوَاهُ شُعَيْبُ بْنُ صَفْوَانَ عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ عَنِ ابْنِ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلاَمٍ عَنْ جَدِّهِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ سَلاَمٍ.>

আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ)-এর ভাতিজা বলেনঃ লোকেরা যখন উসমান (রাঃ)-কে (খুনের) ইচ্ছা করল তখন আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) তার নিকটে আসলেন। উসমান (রাঃ) বললেন, আপনি কেন এসেছেন? তিনি বললেন, আপনার সাহায্যের জন্য। তিনি বলেন, আপনি ঘেরাওকারীদের নিকটে গিয়ে তাদেরকে আমার থেকে দূরে সরিয়ে দিন এবং আপনার ভেতরে থাকার চাইতে বাইরে থাকা আমার জন্য বেশি উপকারী। রাবী বলেন, তারপর আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) লোকদের নিকটে এসে বললেন, হে জনমণ্ডলী জাহিলিয়া যুগে আমার অমুক নাম (হোসাইন) ছিল। তারপর রাসূলুল্লাহ (ﷺ) আমার নাম রাখেন আবদুল্লাহ। আর আমার সম্পর্কে আল্লাহ তা’আলার কিতাবে কয়েকটি আয়াত অবতীর্ণ হয়।তার মধ্যে আমার সম্পর্কে এ আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ আর বানু ইসরাঈলের একজন এর মতই কিতাব প্রসঙ্গে সাক্ষ্য দিয়েছে এবং এর প্রতি ঈমান এনেছে। অথচ তোমরা অহংকার প্রকাশ কর। আল্লাহ তা’আলা যালিমদেরকে হিদায়াত করেন না" (সূরাঃ আল-আহুকাফ- ১০)।তিনি আরো বলেন, আমার সম্পর্কে এ আয়াতও অবতীর্ণ হয়েছেঃ “আমার ও তোমাদের মাঝে সাক্ষী হিসেবে আল্লাহ তা’আলাই যথেষ্ট এবং সেই ব্যক্তি যার নিকটে কিতাবের জ্ঞান আছে" (সূরাঃ আর-রা’দ- ৪৩)।আল্লাহ্ তা’আলার একটি তরবারি আছে যা তোমাদের হতে গোপন আছে। আর এ শহরেই ফেরেশতারা তোমাদের প্রতিবেশী যেখানে তোমাদের রাসূল (ﷺ) এসেছেন। অতএব এ লোকটিকে হত্যা সংঘটনে তোমরা আল্লাহ তা’আলাকে ভয় কর। আল্লাহ্ তা’আলার শপথ! তোমরা তাকে মেরে ফেললে তোমাদের প্রতিবেশী ফেরেশতারা এখান হতে দূরে চলে যাবে এবং আল্লাহ্ তা’আলার যে তরবারি তোমাদের হতে লুকায়িত আছে তা তোমাদের উপর আঘাত হানবে, তারপর কেয়ামত পর্যন্ত আর কোষবদ্ধ হবে না। রাবী বলেনঃ তার এ কথা শুনে ঘেরাওকারীদের একজন বলল, এই ইয়াহুদীকেও (আবদুল্লাহ ইবনু সালাম) মেরে ফেল এবং উসমানকেও মেরে ফেল।

আবূ ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান গারীব। শুআইব ইবনু সফওয়ান-আবদুল মালিক ইবনু উমাইর হতে তিনি, ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু সালাম হতে তিনি নিজ দাদা আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) সূত্রেও এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩২৫৬-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসের মূল বিষয় ফিতনা, জুলুম থেকে বিরত থাকা এবং উসমান (রাঃ)-এর জীবন রক্ষা। লোকেরা উসমান (রাঃ)-কে হত্যা করতে চাইলে আবদুল্লাহ ইবনু সালাম (রাঃ) তাঁর সাহায্যে আসেন। উসমান (রাঃ) তাকে বাইরে গিয়ে ঘেরাওকারীদের বোঝাতে বলেন। তিনি নিজের ইসলাম গ্রহণ, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর দেওয়া নাম এবং তাঁর সম্পর্কে নাজিল হওয়া আয়াতের কথা তুলে ধরেন। এরপর তিনি মানুষকে আল্লাহকে ভয় করতে এবং উসমান (রাঃ)-কে হত্যা না করতে সতর্ক করেন। তাঁর ভাষায়, এ হত্যা ফেরেশতাদের প্রতিবেশিতা দূর করবে এবং এমন সংঘাতের দরজা খুলবে যা সহজে বন্ধ হবে না। কিন্তু ঘেরাওকারীরা তাঁর কথাও প্রত্যাখ্যান করে। বর্ণনাটি দেখায়, ফিতনার সময় সত্য কথা বলা কঠিন হলেও জুলুম ও হত্যার বিরুদ্ধে দাঁড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে উত্তেজিত জনতার অন্ধতা কত দূর যেতে পারে, তাও স্পষ্ট হয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • অন্যায় হত্যা থেকে মানুষকে বিরত রাখা জরুরি।
  • ফিতনার সময় সত্য ও শান্তির পক্ষে কথা বলা দরকার।
  • উসমান (রাঃ)-কে হত্যার পরিণতি সম্পর্কে কঠিন সতর্কতা দেওয়া হয়েছিল।
  • উত্তেজিত জনতা কখনো জ্ঞানী উপদেশও প্রত্যাখ্যান করতে পারে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন