৪৪/৪৭. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩২৫৭ - মেঘ দেখলে নবীজির ভয়
সূরা আল-আহক্বাফ
মেঘ দেখলে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর ভয় ও সতর্কতা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩২৫৭
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩২৫৭
حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ الأَسْوَدِ أَبُو عَمْرٍو الْبَصْرِيُّ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَبِيعَةَ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، عَنْ عَطَاءٍ، عَنْ عَائِشَةَ، رضى الله عنها قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ ﷺ إِذَا رَأَى مَخِيلَةً أَقْبَلَ وَأَدْبَرَ فَإِذَا مَطَرَتْ سُرِّيَ عَنْهُ. قَالَتْ فَقُلْتُ لَهُ. فَقَالَ " وَمَا أَدْرِي لَعَلَّهُ كَمَا قَالَ اللَّهُ تَعَالَى : (فلمَّا رَأَوْهُ عَارِضًا مُسْتَقْبِلَ أَوْدِيَتِهِمْ قَالُوا هَذَا عَارِضٌ مُمْطِرُنَا ) " .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ.
'আয়িশাহ্ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) যখন আকাশ মেঘাচ্ছন্ন দেখতেন তখন (অস্থির হয়ে) একবার সামনে যেতেন আবার পেছনে যেতেন। তারপর বৃষ্টি বর্ষিত হলে তাঁর অস্থিরতা দূর হত। তিনি (‘আয়িশাহ) বলেন, আমি তাঁকে এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করলে তিনি বলেনঃ আমি জানি না, এটা সেই আযাব কিনা যে প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা’আলা বলেছেনঃ “তারপর তারা যখন তাদের উপত্যকার দিকে মেঘ আসতে দেখল তখন বলতে লাগল, এ তো মেঘ, আমাদেরকে বৃষ্টি দান করবে”- (সূরা আহক্বাফ ২৪)
আবূ ‘ঈসা বলেন, এ হাদীসটি হাসান।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩২৫৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় আল্লাহর আযাবের ভয় ও মেঘ দেখার সময় নবীজির সতর্কতা। আয়িশা (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) আকাশে মেঘ দেখলে অস্থির হয়ে সামনে-পেছনে চলতেন। বৃষ্টি শুরু হলে তাঁর অস্থিরতা কমে যেত। কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, তিনি জানেন না এটি সেই আযাব কি না, যার কথা কুরআনে এসেছে—এক জাতি মেঘ দেখে ভেবেছিল এটি বৃষ্টি আনবে, অথচ তা আযাব ছিল। হাদিসটি দেখায়, নবীজি (صلى الله عليه وسلم) প্রাকৃতিক দৃশ্যকে শুধু স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখতেন না; আল্লাহর শক্তি ও আগের জাতির পরিণতিও স্মরণ করতেন। তবে তিনি নিশ্চিতভাবে মেঘকে আযাব বলেননি; বরং “আমি জানি না” বলেছেন। এতে ভয়, সতর্কতা এবং নিশ্চিত জ্ঞান ছাড়া চূড়ান্ত দাবি না করার সুন্দর শিক্ষা রয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মেঘ দেখলে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) আল্লাহর আযাবের আশঙ্কা করতেন।
- বৃষ্টি নামলে তাঁর অস্থিরতা দূর হতো।
- আগের জাতির পরিণতি স্মরণ করে সতর্ক থাকা উচিত।
- নিশ্চিত জ্ঞান ছাড়া কোনো ঘটনাকে আযাব বলে দেওয়া উচিত নয়।
