৪৪/৪৪. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩২৫১ - আত্মীয়তার সম্পর্ক ও উত্তম আচরণ
সূরা আশ-শূরা (হা-মীম-‘আইন সীন ক্বাফ)
আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা ও রাসূলের প্রতি ভালো আচরণ
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩২৫১
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩২৫১
حَدَّثَنَا بُنْدَارٌ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ مَيْسَرَةَ، قَالَ سَمِعْتُ طَاوُسًا، قَالَ سُئِلَ ابْنُ عَبَّاسٍ عَنْ هَذِهِ الآيَةِ : ﴾قل لاَ أَسْأَلُكُمْ عَلَيْهِ أَجْرًا إِلاَّ الْمَوَدَّةَ فِي الْقُرْبَى ﴿ فَقَالَ سَعِيدُ بْنُ جُبَيْرٍ قُرْبَى آلِ مُحَمَّدٍ ﷺ . فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ أَعَلِمْتَ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ لَمْ يَكُنْ بَطْنٌ مِنْ قُرَيْشٍ إِلاَّ كَانَ لَهُ فِيهِمْ قَرَابَةٌ فَقَالَ إِلاَّ أَنْ تَصِلُوا مَا بَيْنِي وَبَيْنَكُمْ مِنَ الْقَرَابَةِ .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَقَدْ رُوِيَ مِنْ غَيْرِ وَجْهٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ .
তাউস (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
ইবনু আব্বাস (রাঃ)-কে এ আয়াত প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হল (অনুবাদ)ঃ “বলুন, আমি এর (দা’ওয়াতের) বিনিময়ে তোমাদের নিকট হতে স্বজনদের সৌহার্দ্য ছাড়া অন্য কোন প্রতিদান চাই না” –(সূরা শূরা ২৩)এ প্রসঙ্গে সা’ঈদ ইবনু যুবাইর (রহঃ) বলেন, ‘কুরবা’ (আত্মীয়) অর্থ মুহাম্মাদ (ﷺ)-এর পরিবারের লোক ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, তুমি কি জান না কুরাইশ বংশের যত শাখা-প্রশাখা আছে, তাদের সকলের সঙ্গে তাঁর আত্মীয়তার সম্পর্ক বিদ্যমান ছিল? তাই তিনি বলেছেন, তবে আমার ও তোমাদের মাঝে যে সম্পর্ক আছে তার কারণে আমার সাথে ভাল ব্যবহার কর।
আবূ ‘ঈসা (রহঃ) বলেন, এ হাদীসটি হাসান সহীহ। আরো কয়েকটি সনদসূত্রে ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে এ হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩২৫১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় আত্মীয়তার সম্পর্ক ও ভালো আচরণ। সূরা শূরার ২৩ নম্বর আয়াতে “স্বজনদের সৌহার্দ্য” কথাটির অর্থ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। সাঈদ ইবনু যুবাইর (রহঃ) এটিকে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর পরিবারের লোকদের সঙ্গে যুক্ত করেন। ইবনু আব্বাস (রাঃ) ব্যাখ্যা করেন, কুরাইশের প্রতিটি শাখার সঙ্গে নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল। তাই বক্তব্যের অর্থ হলো, তিনি দাওয়াতের বিনিময়ে পারিশ্রমিক চাননি; বরং তাদের সঙ্গে থাকা আত্মীয়তার সম্পর্কের কারণে অন্তত তাঁর সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে বলেছেন। এই হাদিস আত্মীয়তার বন্ধনকে সম্মান করার শিক্ষা দেয়। একই সঙ্গে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর দাওয়াতকে ব্যক্তিগত লাভের চেষ্টা হিসেবে দেখার সুযোগ দেয় না। সম্পর্ক থাকলে শত্রুতা নয়, ন্যায্যতা ও ভালো আচরণ দেখানো উচিত—এটাই বর্ণনার সরাসরি বার্তা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) দাওয়াতের বিনিময়ে পারিশ্রমিক চাননি।
- কুরাইশের বিভিন্ন শাখার সঙ্গে তাঁর আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিল।
- আত্মীয়তার কারণে অন্তত ভালো ব্যবহার ও সৌহার্দ্য দেখানো উচিত।
- আয়াতের অর্থ বুঝতে সাহাবিদের ব্যাখ্যা গুরুত্বপূর্ণ।
