৪৪/৫০. অধ্যায়ঃ

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩২৭০ - মানবসমতা ও তাকওয়া

সূরা আল-হুজুরাত

ইসলামে মানবসমতা: বংশ নয়, তাকওয়াই মর্যাদার মানদণ্ড

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩২৭০

حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ خَطَبَ النَّاسَ يَوْمَ فَتْحِ مَكَّةَ فَقَالَ " يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَذْهَبَ عَنْكُمْ عُبِّيَّةَ الْجَاهِلِيَّةِ وَتَعَاظُمَهَا بِآبَائِهَا فَالنَّاسُ رَجُلاَنِ رَجُلٌ بَرٌّ تَقِيٌّ كَرِيمٌ عَلَى اللَّهِ وَفَاجِرٌ شَقِيٌّ هَيِّنٌ عَلَى اللَّهِ وَالنَّاسُ بَنُو آدَمَ وَخَلَقَ اللَّهُ آدَمَ مِنْ تُرَابٍ " . قَالَ اللَّهُ : ﴾ يا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُمْ مِنْ ذَكَرٍ وَأُنْثَى وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوبًا وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِنْدَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ ﴿ .قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ لاَ نَعْرِفُهُ مِنْ حَدِيثِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ عَنِ ابْنِ عُمَرَ إِلاَّ مِنْ هَذَا الْوَجْهِ . وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ يُضَعَّفُ ضَعَّفَهُ يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ وَغَيْرُهُ وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ هُوَ وَالِدُ عَلِيِّ بْنِ الْمَدِينِيِّ .قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبَّاسٍ .

ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

মক্কা বিজয়ের দিন রাসুলুল্লাহ (ﷺ) উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন এবং বলেনঃ হে জনমন্ডলী! তোমাদের হতে আল্লাহ তা’আলা জাহিলিয়াত যুগের দম্ভ ও অহংকার এবং পূর্বপুরুষের গৌরবগাথা বাতিল করেছেন। এখন মানুষ দুই অংশে বিভক্তঃ এক দল মানুষ নেককার, পরহেজগার, আল্লাহ তা’আলার নিকট প্রিয় ও সম্মানিত এবং অন্য দল পাপিষ্ঠ, দুর্ভাগা, আল্লাহ তা’আলার নিকট অত্যন্ত নিকৃষ্ট, নিচু ও ঘৃণিত। সকল মানুষই আদমের সন্তান। আল্লাহ তা’আলা আদম (আঃ)- কে মাটি দিয়ে তৈরী করেছেন।মহান আল্লাহ তা’আলা বলেছেনঃ “হে লোক সকল! তোমাদেরকে আমি একজন পুরুষ ও একজন নারী হতে তৈরী করেছি, তারপর বিভিন্ন বংশ ও গোত্রে তোমাদেরকে বিভক্ত করেছি, তোমরা যাতে একে অন্যকে চিনতে পার। যে লোক তোমাদের মাঝে বেশি পরহেজগার সেই আল্লাহ তা’আলার নিকট বেশি মর্যাদার অধিকারী। আল্লাহ তা’আলা সবকিছু সম্পর্কে জ্ঞাত, সব খবর রাখেন”-(সূরা ফাতহ ১৩)।

আবূ ঈসা বলেন, এ হাদিসটি গারীব। এ হাদিসটি আমরা শুধুমাত্র আবদুল্লাহ ইবনু দীনার হতে, তিনি ইবনু উমার(রাঃ) হতে, এ সনদেই জেনেছি। আবদুল্লাহ ইবনু জা’ফর হাদিস শাস্ত্রে অত্যন্ত দুর্বল। তাঁকে ইয়াহইয়া ইবনু মা’ঈন প্রমুখ দুর্বল বলে আখ্যায়িত করেছেন। আবদুল্লাহ ইবনু জা’ফর হলেন আলী ইবনু মাদীনীর বাবা। এ অনুচ্ছেদে আবূ হুরাইরাহ ও ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতেও হাদিস উল্লেখিত।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩২৭০-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসের মূল বিষয় মানবসমতা, অহংকার বর্জন এবং তাকওয়া। মক্কা বিজয়ের দিন রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) জানান, আল্লাহ জাহিলি যুগের দম্ভ, বংশের গর্ব এবং পূর্বপুরুষ নিয়ে বড়াই বাতিল করেছেন। সব মানুষ আদম (আঃ)-এর সন্তান, আর আদম (আঃ)-কে মাটি থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। এরপর সূরা হুজুরাতের আয়াত পড়ে বলা হয়, মানুষকে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে করা হয়েছে যেন তারা একে অন্যকে চিনতে পারে। আল্লাহর কাছে মর্যাদার মানদণ্ড বংশ, জাতি বা সম্পদ নয়; তাকওয়া। হাদিসে মানুষকে নেককার ও তাকওয়াবান অথবা পাপী ও দুর্ভাগা হিসেবে কাজের ভিত্তিতে আলাদা করা হয়েছে। “ইসলামে মানবসমতা”, “বংশের অহংকার” এবং “তাকওয়ার মর্যাদা” এই বর্ণনার মূল কীওয়ার্ড। এই মানদণ্ড মানুষকে বাহ্যিক পরিচয়ের বদলে নেক আমল ও আল্লাহভীতির দিকে ফিরিয়ে দেয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • সব মানুষ আদম (আঃ)-এর সন্তান; জন্মগত বংশ নিয়ে অহংকারের ভিত্তি নেই।
  • জাতি ও গোত্র পরিচয়ের জন্য, বড়াই করার জন্য নয়।
  • আল্লাহর কাছে মর্যাদার মানদণ্ড হলো তাকওয়া।
  • জাহিলি যুগের বংশগৌরব ও দম্ভ বাতিল করা হয়েছে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন