৪৬/১৯. অধ্যায়ঃ

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৭০৬ - উসমান রাঃ সম্পর্কে ভুল ধারণার জবাব

উসমান ইবনু আফ্ফান (রাঃ)-এর মর্যাদা

উসমান রাঃ সম্পর্কে অভিযোগের জবাব ও সঠিক ব্যাখ্যা

জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৭০৬

حَدَّثَنَا صَالِحُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ عُثْمَانَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَوْهَبٍ، أَنَّ رَجُلاً، مِنْ أَهْلِ مِصْرَ حَجَّ الْبَيْتَ فَرَأَى قَوْمًا جُلُوسًا فَقَالَ مَنْ هَؤُلاَءِ قَالُوا قُرَيْشٌ. قَالَ فَمَنْ هَذَا الشَّيْخُ قَالُوا ابْنُ عُمَرَ. فَأَتَاهُ فَقَالَ إِنِّي سَائِلُكَ عَنْ شَيْءٍ فَحَدِّثْنِي أَنْشُدُكَ اللَّهَ بِحُرْمَةِ هَذَا الْبَيْتِ أَتَعْلَمُ أَنَّ عُثْمَانَ فَرَّ يَوْمَ أُحُدٍ قَالَ نَعَمْ. قَالَ أَتَعْلَمُ أَنَّهُ تَغَيَّبَ عَنْ بَيْعَةِ الرِّضْوَانِ فَلَمْ يَشْهَدْهَا قَالَ نَعَمْ ‏.‏ قَالَ أَتَعْلَمُ أَنَّهُ تَغَيَّبَ يَوْمَ بَدْرٍ فَلَمْ يَشْهَدْ قَالَ نَعَمْ. قَالَ اللَّهُ أَكْبَرُ ‏.‏فَقَالَ لَهُ ابْنُ عُمَرَ تَعَالَ أُبَيِّنْ لَكَ مَا سَأَلْتَ عَنْهُ أَمَّا فِرَارُهُ يَوْمَ أُحُدٍ فَأَشْهَدُ أَنَّ اللَّهَ قَدْ عَفَا عَنْهُ وَغَفَرَ لَهُ وَأَمَّا تَغَيُّبُهُ يَوْمَ بَدْرٍ فَإِنَّهُ كَانَتْ عِنْدَهُ - أَوْ تَحْتَهُ - ابْنَةُ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ فَقَالَ لَهُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «لَكَ أَجْرُ رَجُلٍ شَهِدَ بَدْرًا وَسَهْمُهُ». وَأَمَرَهُ أَنْ يَخْلُفَ عَلَيْهَا وَكَانَتْ عَلِيلَةً وَأَمَّا تَغَيُّبُهُ عَنْ بَيْعَةِ الرِّضْوَانِ فَلَوْ كَانَ أَحَدٌ أَعَزَّ بِبَطْنِ مَكَّةَ مِنْ عُثْمَانَ لَبَعَثَهُ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مَكَانَ عُثْمَانَ بَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ عُثْمَانَ إِلَى مَكَّةَ وَكَانَتْ بَيْعَةُ الرِّضْوَانِ بَعْدَ مَا ذَهَبَ عُثْمَانُ إِلَى مَكَّةَ قَالَ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ بِيَدِهِ الْيُمْنَى «هَذِهِ يَدُ عُثْمَانَ». وَضَرَبَ بِهَا عَلَى يَدِهِ فَقَالَ «هَذِهِ لِعُثْمَانَ». قَالَ لَهُ اذْهَبْ بِهَذَا الآنَ مَعَكَ. قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ.

‘উসমান ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাওহাব (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ

এক মিসরবাসী বাইতুল্লাহ্‌র হজ্জ আদায় করে। সে একদল লোককে বসা দেখে বলে, এরা কারা? লোকেরা বলল, এরা কুরাইশ বংশীয়। সে পুনরায় বলে, এই বয়স্ক (শায়খ) লোকটি কে? লোকেরা বলল, ইবনু ‘উমর (রাঃ)। সে সময় সে তার নিকটে এসে বলল, আপনাকে আমি কয়েকটি বিষয়ে প্রশ্ন করব। অতএব আপনি আমাকে (তা) বলুন।আমি এ বাইতুল্লাহ্‌র মর্যাদার শপথ দিয়ে আপনাকে প্রশ্ন করছি, আপনি কি অবহিত আছেন যে, ‘উসমান (রাঃ) উহূদ যুদ্ধের দিন (যুদ্ধক্ষেত্র হতে) পলায়ন করেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। সে আবার বলল, আপনি কি জানেন, তিনি (হুদাইবিয়ায় অনুষ্ঠিত) বাই’আতুর রিযওয়ানে অনুপস্থিত ছিলেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। সে পুনরায়ও বলল, আপনি কি অবহিত আছেন যে, তিনি বদ্‌রের যুদ্ধে অনুপস্থিত ছিলেন এবং তাতে উপস্থিত হননি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। সে বলল, আল্লাহু আকবার।তারপর ইবনু ‘উমর (রাঃ) তাকে বললেন, এবার এসো! যেসব বিষয়ে তুমি প্রশ্ন করেছ তা তোমাকে আমি সুস্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেই। উহূদের দিন তার পলায়নের ঘটনা প্রসঙ্গে আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, তার ঐ ব্যাপারটি ইতোমধ্যেই আল্লাহ তা’আলা ক্ষমা করে দিয়েছেন, সম্পূর্ণভাবে মাফ করেছেন।তারপর বাদ্‌রের যুদ্ধে তার অনুপস্থিতির কারণ এই যে, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর মেয়ে (রুকাইয়াহ্‌) তার সহধর্মিণী ছিলেন (এবং সে সময় তিনি মারাত্মক অসুস্থ ছিলেন)। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁকে বললেনঃ যে লোক বদ্‌রের যুদ্ধে যোগদান করেছে তার সমপরিমাণ সাওয়াব ও গানীমাত তুমি পাবে। আর তিনি রুকাইয়ার দেখাশুনা করার জন্য তাকে মাদীনাতে থাকারই নির্দেশ দিলেন। আর বাই’আতে রিদওয়ানে তার অনুপস্থিতির কারণ এই যে, মাক্কাবাসীদের কাছে ‘উসমান (রাঃ)-এর চাইতে বেশি মর্যাদাবান কোন মুসলিম লোক (হুদাইবিয়ায়) উপস্থিত থাকলে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) (তার পরিবর্তে) তাকেই প্রেরণ করতেন। তা না থাকাতে রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ‘উসমান (রাঃ)-কেই (মাক্কায়) প্রেরণ করলেন। আর ‘উসমান (রাঃ)-এর মক্কার অভিমুখে রওয়ানা হয়ে যাওয়ার পর বাই’আতুর রিযওয়ান অনুষ্ঠিত হয়।বর্ণনাকারী বলেন, (বাই’আত অনুষ্ঠানকালে) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) তাঁর ডান হাতের দিকে ইশারা করে বললেনঃ এটা ‘উসমানের হাত। তারপর তিনি ঐ হাতটি তাঁর অন্য হাতের উপর স্থাপন করে বললেনঃ এটি ‘উসমানের (বাই’আত)। তারপর ইবনু ‘উমর (রাঃ) লোকটিকে বললেন, এবার তুমি এ ব্যাখ্যা সঙ্গে নিয়ে যাও।

আবূ 'ঈসা বলেন, হাদীসটি হাসান সহীহ।

জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৭০৬-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে এক মিসরবাসী ইবনু উমর রাঃ-কে উসমান রাঃ সম্পর্কে তিনটি প্রশ্ন করে। সে জানতে চায়, উসমান রাঃ উহুদের দিন যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়েছিলেন কি না, বাইআতুর রিদওয়ানে ছিলেন কি না, এবং বদরে ছিলেন কি না। ইবনু উমর রাঃ প্রতিটি প্রশ্নে হ্যাঁ বলেন, কিন্তু এরপর তিনি ঘটনাগুলোর আসল ব্যাখ্যা দেন। উহুদের বিষয়ে বলেন, আল্লাহ তাঁর সেই বিষয় ক্ষমা করেছেন। বদরে তিনি ছিলেন না, কারণ রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর কন্যা রুকাইয়া রাঃ অসুস্থ ছিলেন এবং নবীজি তাঁকে মদিনায় থাকতে বলেন। বাইআতুর রিদওয়ানে তিনি অনুপস্থিত ছিলেন, কারণ তিনি নবীজির প্রতিনিধি হয়ে মক্কায় গিয়েছিলেন। এই হাদিস শেখায়, “উসমান রাঃ সম্পর্কে ভুল ধারণা” দূর করতে পূর্ণ ঘটনা জানা জরুরি।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • আংশিক তথ্য দিয়ে কারও মর্যাদা বিচার করা ঠিক নয়।
  • বদরে অনুপস্থিত থাকলেও উসমান রাঃ নবীজির নির্দেশ পালন করেছিলেন।
  • বাইআতুর রিদওয়ানে তাঁর অনুপস্থিতি দায়িত্ব পালনের কারণে ছিল।
  • প্রশ্নের জবাবে সত্য বলা এবং ব্যাখ্যা দেওয়া দুটিই গুরুত্বপূর্ণ।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন