৪৬/৪০. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৮১৪ - পিতৃপরিচয়ে ডাকার ইসলামী শিক্ষা
যাইদ ইবনু হারিসাহ (রাঃ)-এর মর্যাদা
পিতৃপরিচয়ে ডাকা: যায়দ ইবন হারিসা রাঃ-এর ঘটনা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৩৮১৪
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৩৮১৪
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ سَالِمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ مَا كُنَّا نَدْعُو زَيْدَ بْنَ حَارِثَةَ إِلاَّ زَيْدَ بْنَ مُحَمَّدٍ حَتَّى نَزَلَتْ : ﴾ ادعُوهُمْ لآبَائِهِمْ هُوَ أَقْسَطُ عِنْدَ اللَّهِ ﴿ . قَالَ هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحٌ .
সালিম ইবনু 'আবদুল্লাহ ইবনু 'উমর (রহঃ) হতে তাঁর বাবা হতে বর্ণিতঃ
আমরা যাইদ (রাঃ)-কে যাইদ ইবনু হারিসাহ্ না বলে বরং যাইদ ইবনু মুহাম্মাদ (ﷺ) বলে সম্বোধন করতাম।অবশেষে এ আয়াত অবতীর্ণ হয় (অনুবাদে): "তোমরা তাদের কে তাদের পিতৃ-পরিচয়ে ডাকো, এটাই আল্লাহ তা'আলার দৃষ্টিতে বেশি ন্যায়সঙ্গত"-(সূরা আহ্যাব ৫)।
আবূ 'ঈসা বলেন, এ হাদীসটি সহীহ।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৩৮১৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে বলা হয়েছে, সাহাবীরা যায়দ ইবনু হারিসা (রাঃ)-কে আগে যায়দ ইবনু মুহাম্মদ বলে ডাকতেন। পরে কুরআনের আয়াত নাজিল হয়: তোমরা তাদেরকে তাদের পিতৃপরিচয়ে ডাকো, এটাই আল্লাহর দৃষ্টিতে বেশি ন্যায়সঙ্গত। এরপর তাঁর সঠিক পিতৃপরিচয় যায়দ ইবনু হারিসা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। হাদিসের মূল শিক্ষা হলো পরিচয়ের ক্ষেত্রে সত্য ও ন্যায় রক্ষা করা। ভালোবাসা, ঘনিষ্ঠতা বা লালন-পালনের সম্পর্ক থাকলেও বংশপরিচয় বদলে দেওয়া ঠিক নয়—এই শিক্ষা আয়াতের অনুবাদ থেকেই বোঝা যায়। এখানে দত্তক সম্পর্কের সব আইন আলোচনা করা হয়নি; তাই ব্যাখ্যা শুধু দেওয়া পাঠের সীমার মধ্যে রাখা হয়েছে। যারা পিতৃপরিচয়, দত্তক সন্তান বা যায়দ ইবন হারিসা সম্পর্কে হাদিস খোঁজেন, তাদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ বর্ণনা।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মানুষকে তার প্রকৃত পিতৃপরিচয়ে ডাকা ন্যায়ের কাছাকাছি।
- ভালোবাসার সম্পর্ক থাকলেও পরিচয়ের সত্যতা বদলানো যায় না।
- কুরআনের নির্দেশ এলে সাহাবীরা তা মেনে নিতেন।
- পরিচয় ও বংশের বিষয়ে সততা রাখা দরকার।
