৬/৫৬. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৭৬৭ - সারা বছর একটানা রোজা সম্পর্কে সতর্কতা
সারা বছর রোজা পালন করা প্রসঙ্গে
সারা বছর একটানা রোজা: হাদিসের ভারসাম্যপূর্ণ সতর্কবার্তা
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৭৬৭
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৭৬৭
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، وَأَحْمَدُ بْنُ عَبْدَةَ الضَّبِّيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ غَيْلاَنَ بْنِ جَرِيرٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْبَدٍ، عَنْ أَبِي قَتَادَةَ، قَالَ قِيلَ يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ بِمَنْ صَامَ الدَّهْرَ قَالَ «لاَ صَامَ وَلاَ أَفْطَرَ» . أَوْ «لَمْ يَصُمْ وَلَمْ يُفْطِرْ» .وَفِي الْبَابِ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ الشِّخِّيرِ وَعِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ وَأَبِي مُوسَى . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي قَتَادَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ . وَقَدْ كَرِهَ قَوْمٌ مِنْ أَهْلِ الْعِلْمِ صِيَامَ الدَّهْرِ وَأَجَازَهُ قَوْمٌ آخَرُونَ وَقَالُوا إِنَّمَا يَكُونُ صِيَامُ الدَّهْرِ إِذَا لَمْ يُفْطِرْ يَوْمَ الْفِطْرِ وَيَوْمَ الأَضْحَى وَأَيَّامِ التَّشْرِيقِ فَمَنْ أَفْطَرَ هَذِهِ الأَيَّامَ فَقَدْ خَرَجَ مِنْ حَدِّ الْكَرَاهِيَةِ وَلاَ يَكُونُ قَدْ صَامَ الدَّهْرَ كُلَّهُ . هَكَذَا رُوِيَ عَنْ مَالِكِ بْنِ أَنَسٍ وَهُوَ قَوْلُ الشَّافِعِيِّ . وَقَالَ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ نَحْوًا مِنْ هَذَا وَقَالاَ لاَ يَجِبُ أَنْ يُفْطِرَ أَيَّامًا غَيْرَ هَذِهِ الْخَمْسَةِ الأَيَّامِ الَّتِي نَهَى رَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَنْهَا يَوْمِ الْفِطْرِ وَيَوْمِ الأَضْحَى وَأَيَّامَ التَّشْرِيقِ .
আবূ ক্বাতাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
প্রশ্ন করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! সে সব লোকের কাজগুলো কেমন যে সব লোক সারা বছর রোজা পালন করে? তিনি বললেনঃ তার রোজা পালনও হল না, ইফতারও হলো না।
আবদুল্লাহ ইবনু আমর, আবদুল্লাহ ইবনু শিখ্খীর, ইমরান ইবনু হুসাইন ও আবূ মূসা (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা আবূ কাতাদা (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। সারা বছর রোজা পালন করাকে আলিমগণের একদল মাকরূহ্ মনে করেন। আরেক দল আলিম সারা বছর রোজা পালন করা জায়িয মনে করেন। তারা বলেন, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা ও আইয়্যামে তাশ্রীকের দিনও (কুরবানীর দিনের পরবর্তী তিন দিন) যদি কোন লোক রোজা পালন করে তবে সেটা হবে সারা বছর রোজা (যা মাকরূহ্)। যেসব লোক এই দিনগুলোতে রোজা পালন করবে না সে উপরোক্ত মাকরূহ-এর মধ্যে পড়বে না এবং সে সারা বছর রোজাদার হবে না। একইরকম অভিমত ইমাম মালিক ইবনু আনাস (রহঃ) হতেও বর্ণিত আছে। ইমাম শাফিঈ, আহ্মাদ ও ইসহাক (রহঃ)-এর বক্তব্যও এটাই। তারা বলেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ) ঈদুল ফিতর, ঈদুল আযহা, আইয়্যামে তাশ্রীক এই পাঁচ দিন রোজা পালন করতে নিষেধ করেছেন। সেই পাঁচটি দিন ছাড়া অন্য কোন দিনের রোজা ত্যাগ করা ওয়াজিব নয়।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৭৬৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো সারা বছর একটানা রোজা পালন। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, যে ব্যক্তি সব সময় বা সারা বছর রোজা রাখে তার অবস্থা কী? উত্তরে তিনি বলেন, তার রোজা পালনও হলো না, ইফতারও হলো না। এই সংক্ষিপ্ত উত্তরটির মাধ্যমে টানা রোজার একটি অসামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থার কথা বোঝানো হয়েছে। মানুষ রোজা রাখে, আবার নির্ধারিত সময়ে ইফতারও করে। কিন্তু বিরতি ছাড়াই সব দিনকে রোজার দিন বানালে রোজা ও ইফতারের স্বাভাবিক পালাক্রম থাকে না। হাদিসটি নিজের ওপর অতিরিক্ত কঠোরতা চাপানোর ব্যাপারে সতর্ক করে। এতে নির্দিষ্ট নিষিদ্ধ দিন বা আলাদা মাসআলার বিস্তারিত আলোচনা নেই। তাই মূল বক্তব্যের মধ্যেই থাকা নিরাপদ: ইবাদতে এমন পদ্ধতি গ্রহণ করা ঠিক নয়, যার ফলে রোজা ও বিরতির স্বাভাবিক ভারসাম্য হারিয়ে যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- সারা বছর বিরতিহীন রোজা পালনের ব্যাপারে সতর্ক করা হয়েছে।
- রোজা ও ইফতারের মধ্যে স্বাভাবিক পালাক্রম থাকা দরকার।
- ইবাদতে নিজের ওপর সীমাহীন কঠোরতা চাপানো উচিত নয়।
- নফল আমলে ভারসাম্য বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
