৬/৫৮. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৭৭২ - দুই ঈদের দিনে রোজা পালনে নিষেধাজ্ঞা
দুই ঈদের দিন রোজা পালন করা মাকরুহ
ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহার দিনে রোজা রাখা যাবে না
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৭৭২
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৭৭২
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ مُحَمَّدٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ ﷺ عَنْ صِيَامَيْنِ يَوْمِ الأَضْحَى وَيَوْمِ الْفِطْرِ .قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عُمَرَ وَعَلِيٍّ وَعَائِشَةَ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَعُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ وَأَنَسٍ . قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي سَعِيدٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَيْهِ عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَعَمْرُو بْنُ يَحْيَى هُوَ ابْنُ عُمَارَةَ بْنِ أَبِي الْحَسَنِ الْمَازِنِيُّ الْمَدَنِيُّ وَهُوَ ثِقَةٌ رَوَى عَنْهُ سُفْيَانُ الثَّوْرِيُّ وَشُعْبَةُ وَمَالِكُ بْنُ أَنَسٍ .
আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) দু’দিন রোজা পালন করতে বারণ করেছেনঃ ঈদুল আযহা এবং ঈদুল ফিতরের দিন।
উমার, আলী, আইশা, আবূ হুরায়রা, উক্বা ইবনু আমির ও আনাস (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা আবূ সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান সহীহ্ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ আলিমগণ আমল করেছেন। আবূ ঈসা বলেন, আমর ইবনু ইয়াহ্ইয়া হলেন ইবনু উমারা ইবনু আবূল হাসান আল-মাযিনী আল-মাদানী। তিনি একজন বিশ্বস্ত ও নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারী। সুফিয়ান সাওরী, শুবা ও মালিক ইবনু আনাস তাঁর সূত্রে হাদীস বর্ণনা করেছেন।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৭৭২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো দুই ঈদের দিনে রোজা রাখা নিষেধ। আবু সাঈদ খুদরি রাঃ বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم দুই ধরনের রোজা থেকে নিষেধ করেছেন—ঈদুল আযহার দিনের রোজা এবং ঈদুল ফিতরের দিনের রোজা। হাদিসটি খুব সংক্ষিপ্ত, তবে নির্দেশটি একেবারে স্পষ্ট। ইসলামে রোজা গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলেও সব দিনে রোজা রাখা অনুমোদিত নয়। দুই ঈদের দিন রোজা না রাখাই নবী صلى الله عليه وسلم-এর নির্দেশ মেনে চলা। এখানে নফল, মানত বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে রোজার আলাদা আলোচনা করা হয়নি; সাধারণভাবে দুই ঈদের দিনের কথাই বলা হয়েছে। তাই এই হাদিসের সরাসরি শিক্ষা হলো, শাওয়ালের প্রথম দিন ঈদুল ফিতর এবং যিলহজের কুরবানির দিন ঈদুল আযহায় রোজা পালন করা যাবে না। এই দিনগুলো রোজা থেকে বিরত থাকার দিন।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ঈদুল ফিতরের দিনে রোজা রাখা নিষিদ্ধ।
- ঈদুল আযহার দিনেও রোজা রাখা নিষিদ্ধ।
- সব দিন নফল রোজার জন্য উপযুক্ত নয়।
- রোজার ইবাদতও রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم-এর নির্দেশিত সীমার মধ্যে করতে হয়।
