৬/৫৯. অধ্যায়ঃ
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৭৭৩ - আরাফা, কুরবানি ও তাশরিকের দিন
আইয়্যামে তাশরিক-এ রোজা পালন করা মাকরুহ
তাশরিকের দিন: মুসলিমদের ঈদ ও পানাহারের সময়
জামে‘ আত-তিরমিযী : ৭৭৩
জামে‘ আত-তিরমিযীহাদিস নম্বর ৭৭৩
حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُلَىٍّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ «يَوْمُ عَرَفَةَ وَيَوْمُ النَّحْرِ وَأَيَّامُ التَّشْرِيقِ عِيدُنَا أَهْلَ الإِسْلاَمِ وَهِيَ أَيَّامُ أَكْلٍ وَشُرْبٍ» .قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ عَلِيٍّ وَسَعْدٍ وَأَبِي هُرَيْرَةَ وَجَابِرٍ وَنُبَيْشَةَ وَبِشْرِ بْنِ سُحَيْمٍ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ حُذَافَةَ وَأَنَسٍ وَحَمْزَةَ بْنِ عَمْرٍو الأَسْلَمِيِّ وَكَعْبِ بْنِ مَالِكٍ وَعَائِشَةَ وَعَمْرِو بْنِ الْعَاصِ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو .قَالَ أَبُو عِيسَى وَحَدِيثُ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ . وَالْعَمَلُ عَلَى هَذَا عِنْدَ أَهْلِ الْعِلْمِ يَكْرَهُونَ الصِّيَامَ أَيَّامَ التَّشْرِيقِ إِلاَّ أَنَّ قَوْمًا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ ﷺ وَغَيْرِهِمْ رَخَّصُوا لِلْمُتَمَتِّعِ إِذَا لَمْ يَجِدْ هَدْيًا وَلَمْ يَصُمْ فِي الْعَشْرِ أَنْ يَصُومَ أَيَّامَ التَّشْرِيقِ . وَبِهِ يَقُولُ مَالِكُ بْنُ أَنَسٍ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ . قَالَ أَبُو عِيسَى وَأَهْلُ الْعِرَاقِ يَقُولُونَ مُوسَى بْنُ عَلِيِّ بْنِ رَبَاحٍ وَأَهْلُ مِصْرَ يَقُولُونَ مُوسَى بْنُ عُلَىٍّ . وَقَالَ سَمِعْتُ قُتَيْبَةُ يَقُولُ سَمِعْتُ اللَّيْثَ بْنَ سَعْدٍ يَقُولُ قَالَ مُوسَى بْنُ عَلِيٍّ لاَ أَجْعَلُ أَحَدًا فِي حِلٍّ صَغَّرَ اسْمَ أَبِي .
উক্বা ইবনু আমির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বলেছেনঃ আমাদের মুসলিম জনগণের ঈদের দিন হচ্ছে আরাফার দিন, কুরবানীর দিন ও তাশ্রীকের দিন। এ দিনগুলো হচ্ছে পানাহারের দিন।
আলী, সা’দ, আবূ হুরায়রা, জাবির, নুবাইশা, বিশ্র ইবনু সুহাইম, আবদুল্লাহ ইবনু হুযাফা, আনাস, হামযা ইবনু আমর আল-আসলামী, কা’ব ইবনু মালিক, আইশা, আমর ইবনুল আস ও আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) হতেও এই অনুচ্ছেদে হাদীস বর্ণিত আছে। আবূ ঈসা উকবা ইবনু আমির হতে বর্ণিত হাদীসটিকে হাসান সহীহ্ বলেছেন। এ হাদীস অনুযায়ী বিশেষজ্ঞ আলিমগণ আমল করেছেন। তাশ্রীকের দিনগুলোতে রোযা পালন করাকে তারা মাকরূহ্ (হারাম) মনে করেন। কিন্তু তামাত্তু হাজ্জ পালনকারীর জন্য রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-এর একদল বিশেষজ্ঞ সাহাবী ও অন্যান্য আলিম এই দিনগুলোতে রোযা পালনের সুযোগ দিয়েছেন- যদি তারা কুরবানীর জানোয়ার না পায় এবং প্রথম দশ দিনের মধ্যে রোযা পালন করতে না পেরে থাকে। এরকম মতই প্রকাশ করেছেন ইমাম মালিক, শাফিঈ, আহ্মাদ ও ইসহাক (রহঃ)। আবূ ঈসা বলেন, ইরাকবাসী মুহাদ্দিসগণ বলেন, (বর্ণনাকারী নাম) মূসা ইবনু আলী ইবনু রাবাহ্। মিসরবাসীগণ বলেন, মূসা ইবনু উলাই। আবূ ঈসা আরও বলেন, কুতাইবাকে আমি বলতে শুনেছি, তিনি বলতে শুনেছেন যে, মূসা ইবনু আলী বলেছেন, আমার পিতার নাম তাসগীররূপে (উলাই) উচ্চারণ কারো জন্য হালাল মনে করি না।
জামে‘ আত-তিরমিযী হাদিস ৭৭৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসের মূল বিষয় হলো আরাফা, কুরবানির দিন ও তাশরিকের দিনগুলোর মর্যাদা। রাসূলুল্লাহ صلى الله عليه وسلم বলেছেন, আরাফার দিন, কুরবানির দিন এবং তাশরিকের দিনগুলো মুসলিমদের ঈদের দিন। তিনি এগুলোকে পানাহারের দিন হিসেবেও উল্লেখ করেছেন। বর্ণনাটি এসব দিনকে সাধারণ রোজার দিনের মতো না দেখে আনন্দ, মিলন এবং খাবার গ্রহণের দিনের পরিচয় দেয়। এখানে বিশেষভাবে মুসলিম জনগোষ্ঠীর ঈদের কথা বলা হয়েছে। কুরবানির দিন ও তার পরের তাশরিকের দিনগুলো কুরবানির সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। হাদিসের মূল বক্তব্যে দীর্ঘ কোনো অতিরিক্ত নিয়ম নেই; সরাসরি বলা হয়েছে, এগুলো ঈদ ও পানাহারের দিন। তাই এই দিনগুলোর পরিচয় বুঝতে গিয়ে হাদিসের ভাষা অনুসরণ করাই যথেষ্ট। মুসলিমরা এসব দিনকে আল্লাহর দেওয়া আনন্দের দিন হিসেবে গ্রহণ করবে এবং পানাহার করবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- আরাফার দিনকে মুসলিমদের ঈদের দিনের অন্তর্ভুক্ত বলা হয়েছে।
- কুরবানির দিন মুসলিমদের ঈদের দিন।
- তাশরিকের দিনগুলোও ঈদের দিনের অন্তর্ভুক্ত।
- এই দিনগুলোকে পানাহারের দিন বলা হয়েছে।
