১০/১. অধ্যায়ঃ
ঊপদেশ হাদিস ১৩৪ - দায়িত্বে অতিরিক্ত গ্রহণ খিয়ানাত
সুদ ও ঘুষ
দায়িত্বে অতিরিক্ত গ্রহণ: খিয়ানাত থেকে বাঁচার শিক্ষা
ঊপদেশ : ১৩৪
ঊপদেশহাদিস নম্বর ১৩৪
عَنْ بُرَيْدَةَ عَنْ النَّبِيِّ ﷺ قَالَ مَنْ اسْتَعْمَلْنَاهُ عَلَى عَمَلٍ فَرَزَقْنَاهُ رِزْقًا فَمَا أَخَذَ بَعْدَ ذَلِكَ فَهُوَ غُلُوْلٌ.
বুরায়দাহ (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
রাসূল (ﷺ) বলেছেন, ‘আমি যাকে ভাতা দিয়ে কোন কাজের দায়িত্ব প্রদান করেছি সে যদি ভাতা ব্যতীত অন্য কিছু গ্রহণ করে তাহলে তা হবে খেয়ানত’
(আবূদাঊদ, মিশকাত হা/৩৭৪৮)।
ঊপদেশ হাদিস ১৩৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে সরকারি বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কাজের সততা নিয়ে শিক্ষা আছে। রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, যাকে ভাতা দিয়ে কোনো কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সে যদি সেই ভাতা ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণ করে, তাহলে তা খিয়ানাত। এখানে মূল বিষয় হলো দায়িত্ব, নির্ধারিত ভাতা এবং অতিরিক্ত গ্রহণ। অর্থাৎ কেউ কোনো কাজের জন্য নিয়োগ পেয়েছে এবং তার পাওনা ঠিক করা আছে; এরপর কাজের কারণে বাড়তি কিছু নেওয়া আমানতের বিপরীত। এই হাদিসকে ঘুষ, অফিসের অবৈধ সুবিধা, কমিশন বা দায়িত্বের নামে উপহার নেওয়ার সঙ্গে মানুষ খোঁজে। তবে ব্যাখ্যায় মনে রাখতে হবে, হাদিসে নির্দিষ্টভাবে ভাতা দেওয়া দায়িত্বের অতিরিক্ত গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। তাই মুসলিম কর্মী, কর্মকর্তা বা দায়িত্বশীল ব্যক্তি নিজের পাওনা ও অন্যের সম্পদের সীমা পরিষ্কার রাখবে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নির্ধারিত ভাতা পেলে দায়িত্বের কারণে বাড়তি কিছু নেওয়া থেকে বাঁচতে হবে।
- কাজের আমানত রক্ষা করা একজন দায়িত্বশীল ব্যক্তির কর্তব্য।
- অবৈধ সুবিধা খিয়ানাতের পথে নিয়ে যেতে পারে।
- পাওনা ও উপহার—দুইয়ের সীমা পরিষ্কার রাখা দরকার।
