১২/১. অধ্যায়ঃ

ঊপদেশ হাদিস ১৬৮ - জান্নাতের আহ্বান ও নবীর অনুসরণ

বিদ‘আত

জান্নাতের আহ্বান: মুহাম্মাদের আনুগত্যই আল্লাহর আনুগত্য

ঊপদেশহাদিস নম্বর ১৬৮

عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللهِ يَقُوْلُ جَاءَتْ مَلاَئِكَةٌ إِلَى النَّبِىِّ ﷺ وَهْوَ نَائِمٌ فَقَالَ بَعْضُهُمْ إِنَّهُ نَائِمٌ. وَقَالَ بَعْضُهُمْ إِنَّ الْعَيْنَ نَائِمَةٌ وَالْقَلْبَ يَقْظَانُ. فَقَالُوْا إِنَّ لِصَاحِبِكُمْ هَذَا مَثَلاً فَاضْرِبُوْا لَهُ مَثَلاً. فَقَالَ بَعْضُهُمْ إِنَّهُ نَائِمٌ. وَقَالَ بَعْضُهُمْ إِنَّ الْعَيْنَ نَائِمَةٌ وَالْقَلْبَ يَقْظَانُ.فَقَالُوْا مَثَلُهُ كَمَثَلِ رَجُلٍ بَنَى دَارًا، وَجَعَلَ فِيْهَا مَأْدُبَةً وَبَعَثَ دَاعِيًا، فَمَنْ أَجَابَ الدَّاعِىَ دَخَلَ الدَّارَ وَأَكَلَ مِنَ الْمَأْدُبَةِ، وَمَنْ لَمْ يُجِبِ الدَّاعِىَ لَمْ يَدْخُلِ الدَّارَ وَلَمْ يَأْكُلْ مِنَ الْمَأْدُبَةِ. فَقَالُوْا أَوِّلُوْهَا لَهُ يَفْقَهْهَا فَقَالَ بَعْضُهُمْ إِنَّهُ نَائِمٌ. وَقَالَ بَعْضُهُمْ إِنَّ الْعَيْنَ نَائِمَةٌ وَالْقَلْبَ يَقْظَانُ. فَقَالُوْا فَالدَّارُ الْجَنَّةُ، وَالدَّاعِى مُحَمَّدٌ ﷺ فَمَنْ أَطَاعَ مُحَمَّدًا ﷺ فَقَدْ أَطَاعَ اللهَ، وَمَنْ عَصَى مُحَمَّدًا ﷺ فَقَدْ عَصَى اللهَ، وَمُحَمَّدٌ ﷺ فَرْقٌ بَيْنَ النَّاسِ.

জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

তিনি বলেন ‘একদিন একদল ফেরেশতা নবী করীম (ﷺ)-এর নিকটে আসলেন। এমতাবস্থায় তিনি ঘুমাচ্ছিলেন। ফেরেশতাগণ পরস্পরে বললেন যে, তোমাদের এই সাথীর জন্য একটি উদাহরণ রয়েছে। তাঁকে উদাহরণটি বল। তখন তাঁদের কেউ কেউ বললেন, তিনি যে নিদ্রিত। জবাবে অন্যরা বললেন, তাঁর চক্ষু নিদ্রিত কিন্তু তাঁর অন্তর জাগ্রত।তখন তাঁদের কেউ কেউ বললেন, তাঁর উদাহরণটি হল, যেমন এক ব্যক্তি একটি গৃহ নির্মাণ করেন। অতঃপর সেখানে একটি ভোজের আয়োজন করেন। অতঃপর (লোকদের আহ্বান করার জন্য) তিনি একজন আহ্বায়ক পাঠালেন। এখন যে ব্যক্তি তার আহ্বানে সাড়া দিল, সে উক্ত গৃহে প্রবেশ করতে পারল এবং খাদ্য গ্রহণ করল। আর যে ব্যক্তি তার আহ্বানে সাড়া দিল না, সে উক্ত গৃহে প্রবেশ করতে পারল না এবং খেতেও পারল না।অতঃপর তাঁরা পরস্পরকে বললেন, তাঁকে এই উদাহরণের তাৎপর্য বলে দাও, যাতে তিনি বুঝতে পারেন। এবারেও কেউ কেউ বললেন, তিনি তো নিদ্রিত। অন্যরা বললেন, তাঁর চক্ষু নিদ্রিত, কিন্তু তাঁর অন্তর জাগ্রত। তাঁরা বললেন, গৃহটি হল ‘জান্নাত’। আহ্বায়ক হলেন ‘মুহাম্মাদ’ (এবং গৃহ নির্মাণ ও খাদ্য প্রস্তুতকারী হলেন ‘আল্লাহ’)। অতএব যে ব্যক্তি মুহাম্মাদের আনুগত্য করল, সে আল্লাহর আনুগত্য করল। আর যে ব্যক্তি মুহাম্মাদের অবাধ্য হল, সে আল্লাহর অবাধ্য হল। মুহাম্মাদ হলেন মানুষের মধ্যে (ঈমান ও কুফরের) পার্থক্যকারী’

(বুখারী, মিশকাত হা/১৪৪)।

ঊপদেশ হাদিস ১৬৮-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে ফেরেশতাদের কথার মাধ্যমে একটি সুন্দর উদাহরণ এসেছে। এক ব্যক্তি ঘর বানালেন, ভোজের আয়োজন করলেন এবং একজন আহ্বায়ক পাঠালেন। যে আহ্বানে সাড়া দিল, সে ঘরে ঢুকল এবং খাবার পেল; যে সাড়া দিল না, সে ঢুকতেও পারল না, খেতেও পারল না। এরপর ব্যাখ্যা করা হলো—ঘরটি জান্নাত, আহ্বায়ক হলেন মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)। তাই যে মুহাম্মাদের আনুগত্য করল, সে আল্লাহর আনুগত্য করল; আর যে তাঁর অবাধ্য হলো, সে আল্লাহর অবাধ্য হলো। এই হাদিস আমাদের শেখায়, জান্নাতের পথ কল্পনা বা নিজের বানানো নিয়মে নয়; নবীর আহ্বানে সাড়া দেওয়ার মধ্যেই সঠিক পথ।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর আহ্বানে সাড়া দেওয়া আল্লাহর আনুগত্যের অংশ।
  • জান্নাতের পথে নবীর নির্দেশনা অপরিহার্য।
  • নবীর অবাধ্যতা আল্লাহর অবাধ্যতার সাথে যুক্ত।
  • সঠিক পথ বুঝতে রাসূলের দাওয়াতকে গ্রহণ করা দরকার।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন