১১/৮৬. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২০০৪ - ঋতুর পর বিদায়ী তাওয়াফের প্রশ্ন
বিদায়ী তাওয়াফ
তাওয়াফের পর ঋতু হলে বিদায়ী তাওয়াফের আলোচনা
সুনানে আবূ দাউদ : ২০০৪
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২০০৪
حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عَوْنٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ يَعْلَى بْنِ عَطَاءٍ، عَنِ الْوَلِيدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنِ الْحَارِثِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَوْسٍ، قَالَ أَتَيْتُ عُمَرَ بْنَ الْخَطَّابِ فَسَأَلْتُهُ عَنِ الْمَرْأَةِ، تَطُوفُ بِالْبَيْتِ يَوْمَ النَّحْرِ ثُمَّ تَحِيضُ قَالَ لِيَكُنْ آخِرُ عَهْدِهَا بِالْبَيْتِ . قَالَ فَقَالَ الْحَارِثُ كَذَلِكَ أَفْتَانِي رَسُولُ اللَّهِ ﷺ . قَالَ فَقَالَ عُمَرُ أَرِبْتَ عَنْ يَدَيْكَ سَأَلْتَنِي عَنْ شَىْءٍ سَأَلْتَ عَنْهُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ لِكَيْمَا أُخَالِفَ .
আল-হারিস ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আওস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি ‘উমর ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর নিকট এসে জনৈক মহিলা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করি যে, সে কুরবানীর দিন বায়তুল্লাহ তাওয়াফের পর ঋতুবর্তী হয়েছে। ‘উমর (রাঃ) বললেন, তার সর্বশেষ কাজ হওয়া চাই বায়তুল্লাহ তাওয়াফ। বর্ণনাকারী (ওয়ালীদ) বলেন, তখন আল-হারিস (রাঃ) ‘উমর (রাঃ)-কে বললেন, রাসূলুল্লাহ (ﷺ)-ও আমাকে এরূপ ফাতাওয়াহ দিয়েছেন। ‘উমর (রাঃ) বললেন, তোমার ব্যবহারে আমি দুঃখ পেলাম। তুমি আমাকে (না জানার ভান করে) এমন কথা জিজ্ঞেস করেছো যা তুমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ) থেকে আগেই জিজ্ঞেস করে জ্ঞাত আছো। যাতে আমি তার বিপরীত কিছু বলি।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২০০৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক নারীর বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে, যিনি কুরবানির দিন বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করার পর ঋতুবর্তী হয়েছেন। উমর ইবনু খাত্তাব (রাঃ) বললেন, তার সর্বশেষ কাজ হওয়া উচিত বায়তুল্লাহ তাওয়াফ। এরপর আল-হারিস (রাঃ) জানালেন, রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-ও তাকে এ রকম ফাতওয়া দিয়েছেন। তখন উমর (রাঃ) তার প্রশ্ন করার ধরন নিয়ে অস্বস্তি প্রকাশ করেন, কারণ তিনি আগেই নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর উত্তর জানতেন। এই হাদিসে বিদায়ী তাওয়াফ, তাওয়াফের পর ঋতু এবং জ্ঞান নিয়ে সৎ আচরণের শিক্ষা একসাথে এসেছে। মূল বক্তব্য হলো, জানা বিষয় গোপন রেখে আলেম বা দায়িত্বশীলকে পরীক্ষায় ফেলা ভালো আচরণ নয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- জানা বিষয় লুকিয়ে প্রশ্ন করা শোভন নয়।
- বিদায়ী তাওয়াফের বিষয়ে সাহাবীরা নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর ফাতওয়ার দিকে ফিরে গেছেন।
- ধর্মীয় প্রশ্নে সততা ও পরিষ্কার উদ্দেশ্য থাকা উচিত।
