১৩/৩৯. অধ্যায়ঃ
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২২৮৪ - তিন তালাকের পর খোরাকি ও পরামর্শ
চূড়ান্ত তালাকপ্রাপ্তা মহিলার খোরাকি
তিন তালাকের পর খোরাকি ও ইদ্দতের শিক্ষা
সুনানে আবূ দাউদ : ২২৮৪
সুনানে আবূ দাউদহাদিস নম্বর ২২৮৪
حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ يَزِيدَ، مَوْلَى الأَسْوَدِ بْنِ سُفْيَانَ عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ فَاطِمَةَ بِنْتِ قَيْسٍ، أَنَّ أَبَا عَمْرِو بْنَ حَفْصٍ، طَلَّقَهَا الْبَتَّةَ وَهُوَ غَائِبٌ فَأَرْسَلَ إِلَيْهَا وَكِيلَهُ بِشَعِيرٍ فَتَسَخَّطَتْهُ فَقَالَ وَاللَّهِ مَا لَكِ عَلَيْنَا مِنْ شَىْءٍ. فَجَاءَتْ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ فَذَكَرَتْ ذَلِكَ لَهُ فَقَالَ لَهَا " لَيْسَ لَكِ عَلَيْهِ نَفَقَةٌ " . وَأَمَرَهَا أَنْ تَعْتَدَّ فِي بَيْتِ أُمِّ شَرِيكٍ ثُمَّ قَالَ " إِنَّ تِلْكَ امْرَأَةٌ يَغْشَاهَا أَصْحَابِي اعْتَدِّي فِي بَيْتِ ابْنِ أُمِّ مَكْتُومٍ فَإِنَّهُ رَجُلٌ أَعْمَى تَضَعِينَ ثِيَابَكِ وَإِذَا حَلَلْتِ فَآذِنِينِي " . قَالَتْ فَلَمَّا حَلَلْتُ ذَكَرْتُ لَهُ أَنَّ مُعَاوِيَةَ بْنَ أَبِي سُفْيَانَ وَأَبَا جَهْمٍ خَطَبَانِي فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ " أَمَّا أَبُو جَهْمٍ فَلاَ يَضَعُ عَصَاهُ عَنْ عَاتِقِهِ وَأَمَّا مُعَاوِيَةُ فَصُعْلُوكٌ لاَ مَالَ لَهُ انْكِحِي أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ " . قَالَتْ فَكَرِهْتُهُ ثُمَّ قَالَ " انْكِحِي أُسَامَةَ بْنَ زَيْدٍ. فَنَكَحْتُهُ فَجَعَلَ اللَّهُ تَعَالَى فِيهِ خَيْرًا كَثِيرًا وَاغْتَبَطْتُ بِهِ .
ফাত্বিমাহ্ বিনতু ক্বায়স (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আবূ ‘আমর ইবনু হাফস (রাঃ) অনুপস্থিত থাকা অবস্থায়ই তাঁকে চূড়ান্ত তালাক দেন। তিনি তার প্রতিনিধির মাধ্যমে তার নিকট সামান্য কিছু যব (খোরাকী) পাঠালেন। এতে ফাত্বিমাহ (রাঃ) রাগান্বিত হলেন। প্রতিনিধি লোকটি বললো, আল্লাহর শপথ! আপনার জন্য আমাদের উপর কোন পাওনা নাই।অতঃপর ফাত্বিমাহ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (ﷺ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে তাঁকে বিষয়টি জানালেন। তিনি বললেনঃ তার থেকে তুমি খোরাকী পাওয়ার অধিকারী নও। তিনি তাঁকে উম্মু শারীকের ঘরে ইদ্দত পালনের নির্দেশ দিলেন। এরপর তিনি বললেনঃ তার ঘরে তো আমার সাহাবীদের আসা-যাওয়ার একটা ভিড় থাকে। তুমি বরং ইবনু উম্মে মাকতূমের ঘরে অবস্থান করো। কারণ সে অন্ধ মানুষ। তোমার পোশাক বদলাতে অসুবিধা হবে না। তোমার ইদ্দতকাল শেষ হলে আমাকে জানাবে।ফাত্বিমাহ (রাঃ) বলেন, আমার ইদ্দতকাল শেষ হলে আমি তাঁকে জানালাম, মু’আবিয়াহ ইবনু আবূ সুফিয়ান ও আবূ জাহম উভয়ে আমার নিকট বিয়ের প্রস্তাব পাঠিয়েছে। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ এই যে আবূ জাহম, তার কাঁধ থেকে লাঠি কখনো নীচে নামে না। আর মু’আবিয়াহ! তার তো কোন সম্পদই নাই। তুমি বরং উসামাহ ইবনু যায়িদকে বিয়ে করো। ফাত্বিমাহ বলেন, প্রথমে আমি তাঁর এ প্রস্তাবকে অপছন্দ করি। কিন্তু তিনি পুনরায় বললেনঃ তুমি উসামাহ ইবনু যায়িদকে বিয়ে করো। সুতরাং আমি তাঁকে বিয়ে করলাম। মহান আল্লাহ আমাদের এ দাম্পত্য জীবনের মধ্যে যে বরকত দান করেছেন, তাতে আমি অন্যের ঈর্ষার পাত্র হয়েছি।
সুনানে আবূ দাউদ হাদিস ২২৮৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ফাতিমা বিনত কায়েস (রাঃ)-এর ঘটনা বিস্তারিতভাবে এসেছে। তাঁর স্বামী অনুপস্থিত অবস্থায় তাঁকে চূড়ান্ত তালাক দেন এবং প্রতিনিধির মাধ্যমে সামান্য যব পাঠান। ফাতিমা (রাঃ) বিষয়টি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-কে জানালে তিনি বলেন, স্বামীর কাছ থেকে তাঁর খোরাকি পাওয়ার অধিকার নেই। এরপর তাঁকে ইদ্দত পালনের জায়গা সম্পর্কে নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রথমে উম্মু শরীকের ঘরের কথা বলা হলেও, সেখানে সাহাবীদের আসা-যাওয়ার কারণে তাঁকে ইবনু উম্মে মাকতুমের ঘরে থাকতে বলা হয়। ইদ্দত শেষে তাঁর কাছে বিয়ের প্রস্তাব এলে রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বাস্তব দিক বিবেচনা করে উসামা ইবন যায়িদ (রাঃ)-কে বিয়ে করার পরামর্শ দেন। এতে তালাক, ইদ্দত, নিরাপদ অবস্থান ও বিবাহে কল্যাণকর পরামর্শের শিক্ষা আছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- চূড়ান্ত তালাকের পর খোরাকির বিষয় শরিয়তের বিধান অনুযায়ী নির্ধারিত হয়।
- ইদ্দত পালনের জায়গা নিরাপদ ও উপযুক্ত হওয়া দরকার।
- বিয়ের প্রস্তাবে চরিত্র, অবস্থা ও কল্যাণের দিক দেখা উচিত।
- নেক পরামর্শ প্রথমে কঠিন লাগলেও তাতে কল্যাণ থাকতে পারে।
