২৫/৬২. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১৬১৩ - হাজরে আসওয়াদের দিকে ইঙ্গিত ও তাকবীর
হাজরে আসওয়াদ-এর নিকটে তাকবীর পাঠ করা।
তাওয়াফে হাজরে আসওয়াদের দিকে ইঙ্গিত ও তাকবীর
সহীহ বুখারী : ১৬১৩
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৬১৩
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللهِ حَدَّثَنَا خَالِدٌ الْحَذَّاءُ عَنْ عِكْرِمَةَ عَنْ ابْنِ عَبَّاسٍ قَالَ طَافَ النَّبِيُّ ﷺ بِالْبَيْتِ عَلَى بَعِيرٍ كُلَّمَا أَتَى الرُّكْنَ أَشَارَ إِلَيْهِ بِشَيْءٍ كَانَ عِنْدَهُ وَكَبَّرَتَابَعَهُ إِبْرَاهِيمُ بْنُ طَهْمَانَ عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (ﷺ) উটের পিঠে আরোহণ করে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করেন, যখনই তিনি হাজ্রে আসওয়াদের কাছে আসতেন তখনই কোন কিছুর দ্বারা তার ইঙ্গিত করতেন এবং তাকবির বলতেন [৫৯]। ইব্রাহীম ইব্নু তাহমান (রহঃ) খালিদ হায্যা (রহঃ) হতে হাদীস বর্ণনায় তার (খালিদ ইব্নু ‘আবদুল্লাহ) অনুসরণ করেছেন।
[১] হাজারে আসওয়াদকে যদি হাত দ্বারা বা ছড়ি দ্বারা স্পর্শ করা সম্ভব না হয়, তবে কেবলমাত্র হাজারে আসওয়াদের প্রতি নিজ হাতে ইশারা করে “আল্লাহু আকবার” বলবে। কিন্তু ইশারাকৃত হাত চুম্বন করবে না।(আধুনিক প্রকাশনী প্রকাশিত বুখারী ২য় খন্ড ১০৪ পৃষ্ঠার টীকায় হাত চুম্বন করার কথা বলা হয়েছে যা হাদীস সম্মত নয়, দ্রষ্টব্য বুখারী হাদীস ১৫০৭-১৫০৮)
সহীহ বুখারী হাদিস ১৬১৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিস আগের বর্ণনার মতো হলেও এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ যোগ হয়েছে—তাকবীর। নবী صلى الله عليه وسلم উটের পিঠে বসে বায়তুল্লাহ তাওয়াফ করতেন। তিনি হাজরে আসওয়াদের কাছে এলে তাঁর কাছে থাকা কোনো কিছুর মাধ্যমে ইঙ্গিত করতেন এবং তাকবীর বলতেন। এতে বোঝা যায়, তাওয়াফে হাজরে আসওয়াদের কাছে পৌঁছালে ইশারার সঙ্গে আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা করার আমলও এসেছে। হাদিসে বাহনে তাওয়াফ, ইঙ্গিত এবং তাকবীর—এই তিনটি বিষয় স্পষ্ট। তবে হাদিসের বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত কথা যোগ না করাই নিরাপদ। মূল শিক্ষা হলো, তাওয়াফেও আল্লাহর স্মরণ ও নবী صلى الله عليه وسلم-এর অনুসরণ একসঙ্গে থাকে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হাজরে আসওয়াদের কাছে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
- ইঙ্গিতের সঙ্গে তাকবীর বলা হয়েছে।
- নবী صلى الله عليه وسلم বাহনে তাওয়াফ করেছেন।
- তাওয়াফে আল্লাহর স্মরণ গুরুত্বপূর্ণভাবে এসেছে।
