২৫/৭৮. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ১৬৪১ - বাইতুল্লাহ তাওয়াফ দিয়ে হজ্জ শুরু করার শিক্ষা
ওযু সহকারে তাওয়াফ করা।
বাইতুল্লাহ তাওয়াফ: হজ্জের শুরুতে নবীজির অনুসরণ
সহীহ বুখারী : ১৬৪১
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ১৬৪১
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ عِيسَى حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ قَالَ أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمٰنِ بْنِ نَوْفَلٍ الْقُرَشِيِّ أَنَّهُ سَأَلَ عُرْوَةَ بْنَ الزُّبَيْرِ فَقَالَ قَدْ حَجَّ النَّبِيُّ ﷺ فَأَخْبَرَتْنِي عَائِشَةُ أَنَّهُ أَوَّلُ شَيْءٍ بَدَأَ بِهِ حِينَ قَدِمَ أَنَّهُ تَوَضَّأَ ثُمَّ طَافَ بِالْبَيْتِ ثُمَّ لَمْ تَكُنْ عُمْرَةً ثُمَّ حَجَّ أَبُو بَكْرٍ فَكَانَ أَوَّلَ شَيْءٍ بَدَأَ بِهِ الطَّوَافُ بِالْبَيْتِ ثُمَّ لَمْ تَكُنْ عُمْرَةً ثُمَّ عُمَرُ مِثْلُ ذَلِكَ ثُمَّ حَجَّ عُثْمَانُ فَرَأَيْتُهُ أَوَّلُ شَيْءٍ بَدَأَ بِهِ الطَّوَافُ بِالْبَيْتِ ثُمَّ لَمْ تَكُنْ عُمْرَةً ثُمَّ مُعَاوِيَةُ وَعَبْدُ اللهِ بْنُ عُمَرَ ثُمَّ حَجَجْتُ مَعَ أَبِي الزُّبَيْرِ بْنِ الْعَوَّامِ فَكَانَ أَوَّلَ شَيْءٍ بَدَأَ بِهِ الطَّوَافُ بِالْبَيْتِ ثُمَّ لَمْ تَكُنْ عُمْرَةً ثُمَّ رَأَيْتُ الْمُهَاجِرِينَ وَالأَنْصَارَ يَفْعَلُونَ ذَلِكَ ثُمَّ لَمْ تَكُنْ عُمْرَةً ثُمَّ آخِرُ مَنْ رَأَيْتُ فَعَلَ ذَلِكَ ابْنُ عُمَرَ ثُمَّ لَمْ يَنْقُضْهَا عُمْرَةًوَهَذَا ابْنُ عُمَرَ عِنْدَهُمْ فَلاَ يَسْأَلُونَهُ وَلاَ أَحَدٌ مِمَّنْ مَضَى مَا كَانُوا يَبْدَءُونَ بِشَيْءٍ حَتَّى يَضَعُوا أَقْدَامَهُمْ مِنْ الطَّوَافِ بِالْبَيْتِ ثُمَّ لاَ يَحِلُّونَ وَقَدْ رَأَيْتُ أُمِّي وَخَالَتِي حِينَ تَقْدَمَانِ لاَ تَبْتَدِئَانِ بِشَيْءٍ أَوَّلَ مِنْ الْبَيْتِ تَطُوفَانِ بِهِ ثُمَّ إِنَّهُمَا لاَ تَحِلاَّنِ
‘উরওয়াহ্ ইবনু যুবায়র (রহঃ) হতে বর্ণিতঃ
তিনি ‘উরওয়া ইব্নু যুবাইর (রহঃ)-কে নবী (ﷺ)-এর হজ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেন। তিনি বললেন, নবী (ﷺ)-এর হজ-এর বিষয়টি ‘আয়েশা (রাঃ) আমাকে এরূপে বর্ণনা দিয়েছেন যে, নবী (ﷺ) মক্কায় উপনীত হয়ে সর্বপ্রথম ওজু করে বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করেন। তা ‘উমরাহ’র তাওয়াফ ছিল না। পরে আবূ বকর (রাঃ) হজ করেছেন, তিনিও হজের প্রথম কাজ বাইতুল্লাহ তাওয়াফ দ্বারাই শুরু করতেন, তা ‘উমরাহ’র তাওয়াফ ছিল না। তারপর ‘উমর (রাঃ)-ও অনুরূপ করতেন।এরপর ‘উসমান (রাঃ) হজ করেন। আমি তাঁকেও (হজের কাজ) বাইতুল্লাহ তাওয়াফ দ্বারাই শুরু করতে দেখেছি, তাঁর এই তাওয়াফও ‘উমরাহ’র তাওয়াফ ছিল না। মু’আবিয়া এবং ‘আবদুল্লাহ ইব্নু ‘উমর (রাঃ) (অনুরূপ করেন)। এরপর আমি আমার পিতা যুবাইর ইব্নু ‘আওয়াম (রাঃ)-এর সঙ্গে হজ করলাম। তিনি বাইতুল্লাহর তাওয়াফ হতেই শুরু করেন, আর তাঁর এ তাওয়াফ ‘উমরাহ’র তাওয়াফ ছিল না। মুহাজির ও আনসার সাহাবীগণ (রাঃ)-কে আমি এরূপ করতে দেখেছি। তাঁদের সে তাওয়াফও ‘উমরাহ’র তাওয়াফ ছিল না।সবশেষে আমি ‘আবদুল্লাহ ইব্নু ‘উমর (রাঃ)-কেও অনুরূপ করতে দেখেছি। তিনিও সে তাওয়াফ ‘উমরাহ’র তাওয়াফ হিসেবে করেননি। ইব্নু ‘উমর (রাঃ) তো তাঁদের নিকটেই আছেন তাঁর কাছে জেনে নিন না কেন? সাহাবীগণের মধ্যে যাঁরা অতীত হয়ে গেছেন তাঁদের কেউই মাসজিদে হারামে প্রবেশ করে বাইতুল্লাহর তাওয়াফ সমাধান করার পূর্বে অন্য কোন কাজ করতেন না এবং তাওয়াফ করে ইহ্রাম ভঙ্গ করতেন না। আমার মা (আসমা) ও খালা (‘আয়েশা) (রাঃ)-কে দেখেছি, তাঁরা উভয়ে মাসজিদুল হারামে প্রবেশ করে সর্বপ্রথম তাওয়াফ সমাধা করেন, কিন্তু তাওয়াফ করে ইহ্রাম ভঙ্গ করেননি।
সহীহ বুখারী হাদিস ১৬৪১-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হজ্জের একটি স্পষ্ট আমল দেখা যায়। নবী صلى الله عليه وسلم মক্কায় পৌঁছে প্রথমে অজু করেন, তারপর বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করেন। বর্ণনায় বারবার বলা হয়েছে, এই তাওয়াফ উমরার তাওয়াফ ছিল না। আবু বকর, উমর, উসমান, মুয়াবিয়া, ইবনু উমর, যুবাইর, মুহাজির ও আনসার সাহাবীদের আমলেও একই ধারা দেখা গেছে। তাই এখানে মূল শিক্ষা হলো, হজ্জের কাজে মক্কায় প্রবেশের পর বাইতুল্লাহ তাওয়াফকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া। হাদিসটি আরও বুঝায়, কোনো আমলকে নিজের ধারণায় অন্য নামে ধরা ঠিক নয়; নিয়ত ও বাস্তব কাজ আলাদা করে বুঝতে হবে। তাওয়াফের পর ইহরাম ভঙ্গ না করার কথাও এখানে পরিষ্কারভাবে এসেছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- মক্কায় এসে বাইতুল্লাহ তাওয়াফকে আগে করা নবী صلى الله عليه وسلم ও সাহাবীদের আমলে দেখা যায়।
- হজ্জের তাওয়াফকে উমরার তাওয়াফ মনে করা ঠিক নয়, যদি বর্ণনায় তা না থাকে।
- ইহরাম ভঙ্গের বিষয়টি তাওয়াফের সঙ্গে নিজের মতো করে জুড়ে দেওয়া উচিত নয়।
- সাহাবীদের ধারাবাহিক আমল হজ্জের পদ্ধতি বুঝতে সাহায্য করে।
