৫১/২৮. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ২৬১৭ - বিষ মেশানো বকরী ও নবীজির ক্ষমা
মুশরিকদের দেয়া হাদিয়া গ্রহণ করা
وَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ ﷺ هَاجَرَ إِبْرَاهِيمُ عَلَيْهِ السَّلَام بِسَارَةَ فَدَخَلَ قَرْيَةً فِيهَا مَلِكٌ أَوْ جَبَّارٌ فَقَالَ أَعْطُوهَا آجَرَ وَأُهْدِيَتْ لِلنَّبِيِّ ﷺ شَاةٌ فِيهَا سُمٌّ وَقَالَ أَبُو حُمَيْدٍ أَهْدَى مَلِكُ أَيْلَةَ لِلنَّبِيِّ ﷺ بَغْلَةً بَيْضَاءَ وَكَسَاهُ بُرْدًا وَكَتَبَ لَهُ بِبَحْرِهِمْআবূ হুরাইরা (রাঃ) নবী (ﷺ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, ইবরাহীম (আঃ) (স্ত্রী) সারাকে নিয়ে হিজরতকালে এমন এক জনপদে উপস্থিত হলেন, যেখানে ছিল এক বাদশাহ অথবা রাবী বলেন, প্রতাপশালী শাসক। সে বলল, সারার কাছে উপহার স্বরূপ হাজেরাকে দিয়ে দাও। নবী (ﷺ)-কে বিষ মিশানো বকরীর গোশত হাদিয়া দেয়া হয়েছিল। আবূ হুমাইদ (রহঃ) বলেন, আয়িলার শাসক নবী (ﷺ)-কে একটি সাদা খচ্চর উপহার দিয়েছিলেন, প্রতিদানে তিনি তাঁকে একটি চাদর দিয়েছিলেন আর সেখানকার শাসক হিসাবে তাকে নিয়োগ পত্র লিখে দিয়েছিলেন।"
বিষ মেশানো বকরীর হাদিস: নবীজির সংযম ও ক্ষমা
সহীহ বুখারী : ২৬১৭
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ২৬১৭
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ الْوَهَّابِ، حَدَّثَنَا خَالِدُ بْنُ الْحَارِثِ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ هِشَامِ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ـ رضى الله عنه ـ أَنَّ يَهُودِيَّةً، أَتَتِ النَّبِيَّ ﷺ بِشَاةٍ مَسْمُومَةٍ، فَأَكَلَ مِنْهَا فَجِيءَ بِهَا فَقِيلَ أَلاَ نَقْتُلُهَا. قَالَ «لاَ». فَمَا زِلْتُ أَعْرِفُهَا فِي لَهَوَاتِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ.
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
এক ইয়াহূদী মহিলা নবী (ﷺ)-এর খিদমতে বিষ মিশানো বকরী নিয়ে এল। সেখান হতে কিছু অংশ তিনি খেলেন, অতঃপর মহিলাকে হাজির করা হল। তখন বলা হল, আপনি কি একে হত্যা করবেন না? তিনি বললেন, না। আনাস (রাঃ) বলেন, নবী (ﷺ)-এর তালুতে আমি বরাবরই বিষক্রিয়ার আলামত দেখতে পেতাম।
সহীহ বুখারী হাদিস ২৬১৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে এক ইয়াহুদি মহিলা নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর কাছে বিষ মেশানো বকরী নিয়ে আসে। নবীজি (صلى الله عليه وسلم) সেখান থেকে কিছু খান। পরে মহিলাকে আনা হলে বলা হয়, তাকে কি হত্যা করা হবে না? নবীজি (صلى الله عليه وسلم) বলেন, না। আনাস (রাঃ) বলেন, নবীজি (صلى الله عليه وسلم)-এর তালুতে তিনি বিষক্রিয়ার আলামত দেখতে পেতেন। হাদিসটি অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি ঘটনা জানায়। এখানে মূল শিক্ষা হলো, নবীজি (صلى الله عليه وسلم) কঠিন ক্ষতির মুখেও নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করেছেন এবং সঙ্গে সঙ্গে প্রতিশোধের পথে যাননি। তবে এই হাদিস থেকে সাধারণ আইন বা সব অবস্থার বিচার নিজে বানিয়ে নেওয়া ঠিক নয়। বর্ণনায় যতটুকু আছে, ততটুকুই বলা নিরাপদ।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- নবীজি (صلى الله عليه وسلم) কঠিন ক্ষতির মুখেও সংযম দেখিয়েছেন।
- ঘটনা জানার পরও তিনি সঙ্গে সঙ্গে হত্যার নির্দেশ দেননি।
- হাদিসে বিষক্রিয়ার আলামতের কথা আনাস (রাঃ) উল্লেখ করেছেন।
- সংবেদনশীল ঘটনা থেকে অতিরিক্ত সিদ্ধান্ত বানানো উচিত নয়।
