৬৪/৬২. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৩৫২ - আলী (রাঃ)-এর ইহরাম ও হাদী
বিদায় হাজ্জের পূর্বে আলী ইবনু আবু ত্বলিব এবং খালিদ ইবনু ওয়ালিদ (রাঃ)-কে ইয়ামানে প্রেরণ
আলী (রাঃ)-এর ইহরাম: হাদী থাকলে ইহরামে থাকা
সহীহ বুখারী : ৪৩৫২
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৩৫২
الْمَكِّيُّ بْنُ إِبْرَاهِيْمَ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ قَالَ عَطَاءٌ قَالَ جَابِرٌ أَمَرَ النَّبِيُّ ﷺ عَلِيًّا أَنْ يُقِيْمَ عَلَى إِحْرَامِهِ زَادَ مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ عَنْ ابْنِ جُرَيْجٍ قَالَ عَطَاءٌ قَالَ جَابِرٌ فَقَدِمَ عَلِيُّ بْنُ أَبِيْ طَالِبٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ بِسِعَايَتِهِ قَالَ لَهُ النَّبِيُّ ﷺ بِمَ أَهْلَلْتَ يَا عَلِيُّ قَالَ بِمَا أَهَلَّ بِهِ النَّبِيُّ ﷺ قَالَ فَأَهْدِ وَامْكُثْ حَرَامًا كَمَا أَنْتَ قَالَ وَأَهْدَى لَهُ عَلِيٌّ هَدْيًا.
জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) 'আলী (রাঃ)- কে তাঁর কৃত ইহরামের উপর স্থির থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। মুহাম্মাদ ইবনু বাক্র জুরায়জ-'আত্বা (রহঃ)-জাবির (রাঃ) সূত্রে আরও বর্ণনা করেন যে, জাবির (রাঃ) বলেছেনঃ 'আলী ইবনু আবূ ত্বলিব (রাঃ) তাঁর আদায়কৃত কর খুমুস নিয়ে (মাক্কাহ্য়) আসলেন।তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে বললেন, হে 'আলী! তুমি কিসের ইহ্রাম বেঁধেছ? তিনি বললেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যেটির ইহ্রাম বেঁধেছেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তা হলে তুমি কুরবানীর পশু পাঠিয়ে দাও এবং ইহ্রাম বাঁধা এ অবস্থায় অবস্থান করতে থাক। বর্ণনাকারী [জাবির (রাঃ)] বলেন, সে সময় 'আলী (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর জন্য কুরবানীর পশু পাঠিয়েছিলেন।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৩৫২-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আলী ইবন আবু তালিব (রাঃ)-এর হজ সংক্রান্ত একটি ঘটনা এসেছে। তিনি তাঁর আদায়কৃত খুমুস নিয়ে মক্কায় আসেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি কী ইহরাম বেঁধেছেন। আলী (রাঃ) বলেন, নবী (صلى الله عليه وسلم) যে ইহরাম বেঁধেছেন, তিনিও সেটির ইহরাম বেঁধেছেন। তখন নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে বলেন, কুরবানির পশু পাঠিয়ে দিতে এবং আগের মতো ইহরাম অবস্থায় থাকতে। বর্ণনায় আরও এসেছে, আলী (রাঃ) নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর জন্য কুরবানির পশু পাঠিয়েছিলেন। এই হাদিসে ইহরাম, হাদী বা কুরবানির পশু এবং নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশ অনুসরণের বিষয়টি স্পষ্ট। এখানে বাড়তি বিধান না টেনে বলা যায়, যাঁর সঙ্গে হাদী সম্পর্কিত অবস্থা ছিল, তাঁর জন্য ইহরামে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইহরামের ধরন সম্পর্কে নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে জানানো হয়েছে।
- আলী (রাঃ) নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর ইহরামের মতো ইহরাম বেঁধেছিলেন।
- কুরবানির পশু থাকলে ইহরাম অবস্থার বিষয়ে আলাদা নির্দেশ এসেছে।
- ইবাদতের ক্ষেত্রে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশ মেনে চলা মূল শিক্ষা।
