৬৪/৬২. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৩৫৩ - হজ ও উমরার ইহরাম নির্দেশ
বিদায় হাজ্জের পূর্বে আলী ইবনু আবু ত্বলিব এবং খালিদ ইবনু ওয়ালিদ (রাঃ)-কে ইয়ামানে প্রেরণ
হজের ইহরাম, উমরা ও কুরবানির পশুর হুকুম
সহীহ বুখারী : ৪৩৫৩
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৩৫৩
مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيْلِ حَدَّثَنَا بَكْرٌ أَنَّهُ ذَكَرَ لِابْنِ عُمَرَ أَنَّ أَنَسًا حَدَّثَهُمْ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ أَهَلَّ بِعُمْرَةٍ وَحَجَّةٍ فَقَالَ أَهَلَّ النَّبِيُّ ﷺ بِالْحَجِّ وَأَهْلَلْنَا بِهِ مَعَهُ فَلَمَّا قَدِمْنَا مَكَّةَ قَالَ مَنْ لَمْ يَكُنْ مَعَهُ هَدْيٌ فَلْيَجْعَلْهَا عُمْرَةً وَكَانَ مَعَ النَّبِيِّ ﷺ هَدْيٌ فَقَدِمَ عَلَيْنَا عَلِيُّ بْنُ أَبِيْ طَالِبٍ مِنَ الْيَمَنِ حَاجًّا فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ بِمَ أَهْلَلْتَ فَإِنَّ مَعَنَا أَهْلَكَ قَالَ أَهْلَلْتُ بِمَا أَهَلَّ بِهِ النَّبِيُّ ﷺ قَالَ فَأَمْسِكْ فَإِنَّ مَعَنَا هَدْيًا.
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
ইবনু ‘উমর (রাঃ)-এর কাছে এ কথা উল্লেখ করা হল, ‘আনাস (রাঃ) লোকেদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জ ও ‘উমরাহর জন্য ইহরাম বেঁধেছিলেন। তখন ইবনু ‘উমর (রাঃ) বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জের জন্য ইহরাম বেঁধেছেন, তাঁর সঙ্গে আমরাও হজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধি। যখন আমরা মক্কা্য় পৌঁছলাম তিনি বললেন, তোমাদের যার সঙ্গে কুরবানীর পশু নেই সে যেন তার হজ্জের ইহরাম ‘উমরাহর ইহরামে পরিণত করে। অবশ্য নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে কুরবানীর পশু ছিল।অতঃপর ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) হজ্জের উদ্দেশে ইয়ামান থেকে আসলেন। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাঁকে) জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কিসের ইহরাম বেঁধেছ? কারণ আমাদের সঙ্গে তোমার স্ত্রী পরিবার আছে। তিনি উত্তর দিলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেটির ইহরাম বেঁধেছেন আমি সেটিরই ইহরাম বেঁধেছি। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে (এ অবস্থায়ই) থাক, কেননা আমাদের সঙ্গে কুরবানীর পশু আছে।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৩৫৩-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হজের ইহরাম নিয়ে ইবনু উমর (রাঃ)-এর বর্ণনা এসেছে। কেউ আনাস (রাঃ)-এর একটি বর্ণনা উল্লেখ করলে ইবনু উমর (রাঃ) বলেন, নবী (صلى الله عليه وسلم) হজের জন্য ইহরাম বেঁধেছিলেন এবং সাহাবীরাও তাঁর সঙ্গে হজের ইহরাম বাঁধেন। মক্কায় পৌঁছে নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, যার সঙ্গে কুরবানির পশু নেই, সে যেন তার হজের ইহরাম উমরার ইহরামে পরিণত করে। কিন্তু নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সঙ্গে কুরবানির পশু ছিল। পরে আলী (রাঃ) ইয়ামান থেকে হজের উদ্দেশে আসেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি কী ইহরাম বেঁধেছেন। তিনি বলেন, নবী (صلى الله عليه وسلم) যেটির ইহরাম বেঁধেছেন, তিনিও সেটিই করেছেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে সেই অবস্থায় থাকতে বলেন, কারণ তাঁদের সঙ্গে কুরবানির পশু ছিল।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হজের ইহরামের ক্ষেত্রে কুরবানির পশু থাকা বা না থাকা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
- যাদের সঙ্গে হাদী ছিল না, তাদের জন্য উমরায় পরিণত করার নির্দেশ এসেছে।
- আলী (রাঃ) নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর ইহরামের অনুসরণ করেছিলেন।
- ইবাদতের পদ্ধতি বুঝতে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশই মূল পথ।
