৬৪/৬২. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৩৫৪ - হজের ইহরাম ও হাদীর শিক্ষা
বিদায় হাজ্জের পূর্বে আলী ইবনু আবু ত্বলিব এবং খালিদ ইবনু ওয়ালিদ (রাঃ)-কে ইয়ামানে প্রেরণ
হজের ইহরাম ও কুরবানির পশু: নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশ
সহীহ বুখারী : ৪৩৫৪
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৩৫৪
مُسَدَّدٌ حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ عَنْ حُمَيْدٍ الطَّوِيْلِ حَدَّثَنَا بَكْرٌ أَنَّهُ ذَكَرَ لِابْنِ عُمَرَ أَنَّ أَنَسًا حَدَّثَهُمْ أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ أَهَلَّ بِعُمْرَةٍ وَحَجَّةٍ فَقَالَ أَهَلَّ النَّبِيُّ ﷺ بِالْحَجِّ وَأَهْلَلْنَا بِهِ مَعَهُ فَلَمَّا قَدِمْنَا مَكَّةَ قَالَ مَنْ لَمْ يَكُنْ مَعَهُ هَدْيٌ فَلْيَجْعَلْهَا عُمْرَةً وَكَانَ مَعَ النَّبِيِّ ﷺ هَدْيٌ فَقَدِمَ عَلَيْنَا عَلِيُّ بْنُ أَبِيْ طَالِبٍ مِنَ الْيَمَنِ حَاجًّا فَقَالَ النَّبِيُّ ﷺ بِمَ أَهْلَلْتَ فَإِنَّ مَعَنَا أَهْلَكَ قَالَ أَهْلَلْتُ بِمَا أَهَلَّ بِهِ النَّبِيُّ ﷺ قَالَ فَأَمْسِكْ فَإِنَّ مَعَنَا هَدْيًا.
ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
ইবনু ‘উমর (রাঃ)-এর কাছে এ কথা উল্লেখ করা হল, ‘আনাস (রাঃ) লোকেদের কাছে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জ ও ‘উমরাহর জন্য ইহরাম বেঁধেছিলেন। তখন ইবনু ‘উমর (রাঃ) বললেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হজ্জের জন্য ইহরাম বেঁধেছেন, তাঁর সঙ্গে আমরাও হজ্জের জন্য ইহরাম বাঁধি। যখন আমরা মক্কা্য় পৌঁছলাম তিনি বললেন, তোমাদের যার সঙ্গে কুরবানীর পশু নেই সে যেন তার হজ্জের ইহরাম ‘উমরাহর ইহরামে পরিণত করে। অবশ্য নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সঙ্গে কুরবানীর পশু ছিল।অতঃপর ‘আলী ইবনু আবূ তালিব (রাঃ) হজ্জের উদ্দেশে ইয়ামান থেকে আসলেন। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম (তাঁকে) জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কিসের ইহরাম বেঁধেছ? কারণ আমাদের সঙ্গে তোমার স্ত্রী পরিবার আছে। তিনি উত্তর দিলেন, নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেটির ইহরাম বেঁধেছেন আমি সেটিরই ইহরাম বেঁধেছি। নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তাহলে (এ অবস্থায়ই) থাক, কেননা আমাদের সঙ্গে কুরবানীর পশু আছে।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৩৫৪-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে হজের ইহরাম বিষয়ে একটি স্পষ্ট ঘটনা এসেছে। ইবনু উমর (রাঃ) বলেন, নবী (صلى الله عليه وسلم) হজের জন্য ইহরাম বেঁধেছিলেন এবং তাঁরা সবাই তাঁর সঙ্গে হজের ইহরাম বাঁধেন। মক্কায় পৌঁছার পর নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, যার সঙ্গে কুরবানির পশু নেই, সে যেন হজের ইহরামকে উমরার ইহরামে পরিণত করে। তবে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সঙ্গে কুরবানির পশু ছিল। এরপর আলী (রাঃ) ইয়ামান থেকে হজের উদ্দেশে আসেন। তিনি জানান, তিনি নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর মতো ইহরাম বেঁধেছেন। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে বলেন, সেই অবস্থায় থাকো, কারণ তাঁদের সঙ্গে কুরবানির পশু আছে। এই বর্ণনা হজ, উমরা, ইহরাম এবং হাদীর বিষয়ে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশ অনুসরণের গুরুত্ব দেখায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- হজের কাজে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশ অনুযায়ী চলা জরুরি।
- কুরবানির পশু না থাকলে ইহরামের বিষয়ে আলাদা নির্দেশ এসেছে।
- আলী (রাঃ) ইহরামে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর অনুসরণ করেছেন।
- হজের আমলে নিজের অবস্থা অনুযায়ী সঠিক পথ জানতে হয়।
