৬৪/৬২. অধ্যায়ঃ

সহীহ বুখারী হাদিস ৪৩৫১ - মানুষের অন্তর বিচার নয়

বিদায় হাজ্জের পূর্বে আলী ইবনু আবু ত্বলিব এবং খালিদ ইবনু ওয়ালিদ (রাঃ)-কে ইয়ামানে প্রেরণ

মানুষের অন্তর বিচার নয়: নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সতর্ক শিক্ষা

সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৩৫১

قُتَيْبَةُ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ عَنْ عُمَارَةَ بْنِ الْقَعْقَاعِ بْنِ شُبْرُمَةَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِيْ نُعْمٍ قَالَ سَمِعْتُ أَبَا سَعِيْدٍ الْخُدْرِيَّ يَقُوْلُ بَعَثَ عَلِيُّ بْنُ أَبِيْ طَالِبٍ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ إِلَى رَسُوْلِ اللهِ ﷺ مِنَ الْيَمَنِ بِذُهَيْبَةٍ فِيْ أَدِيْمٍ مَقْرُوْظٍ لَمْ تُحَصَّلْ مِنْ تُرَابِهَا قَالَ فَقَسَمَهَا بَيْنَ أَرْبَعَةِ نَفَرٍ بَيْنَ عُيَيْنَةَ بْنِ بَدْرٍ وَأَقْرَعَ بْنِ حابِسٍ وَزَيْدِ الْخَيْلِ وَالرَّابِعُ إِمَّا عَلْقَمَةُ وَإِمَّا عَامِرُ بْنُ الطُّفَيْلِ فَقَالَ رَجُلٌ مِنْ أَصْحَابِهِ كُنَّا نَحْنُ أَحَقَّ بِهَذَا مِنْ هَؤُلَاءِ قَالَ فَبَلَغَ ذَلِكَ النَّبِيَّ ﷺ فَقَالَ أَلَا تَأْمَنُوْنِيْ وَأَنَا أَمِيْنُ مَنْ فِي السَّمَاءِ يَأْتِيْنِيْ خَبَرُ السَّمَاءِ صَبَاحًا وَمَسَاءًقَالَ فَقَامَ رَجُلٌ غَائِرُ الْعَيْنَيْنِ مُشْرِفُ الْوَجْنَتَيْنِ نَاشِزُ الْجَبْهَةِ كَثُّ اللِّحْيَةِ مَحْلُوْقُ الرَّأْسِ مُشَمَّرُ الإِزَارِ فَقَالَ يَا رَسُوْلَ اللهِ اتَّقِ اللهَ قَالَ وَيْلَكَ أَوَلَسْتُ أَحَقَّ أَهْلِ الْأَرْضِ أَنْ يَتَّقِيَ اللهَ قَالَ ثُمَّ وَلَّى الرَّجُلُ قَالَ خَالِدُ بْنُ الْوَلِيْدِ يَا رَسُوْلَ اللهِ أَلَا أَضْرِبُ عُنُقَهُ قَالَ لَا لَعَلَّهُ أَنْ يَكُوْنَ يُصَلِّيْ فَقَالَ خَالِدٌ وَكَمْ مِنْ مُصَلٍّ يَقُوْلُ بِلِسَانِهِ مَا لَيْسَ فِيْ قَلْبِهِ قَالَ رَسُوْلُ اللهِ ﷺ إِنِّيْ لَمْ أُوْمَرْ أَنْ أَنْقُبَ عَنْ قُلُوْبِ النَّاسِ وَلَا أَشُقَّ بُطُوْنَهُمْ قَالَ ثُمَّ نَظَرَ إِلَيْهِ وَهُوَ مُقَفٍّ فَقَالَ إِنَّهُ يَخْرُجُ مِنْ ضِئْضِئِ هَذَا قَوْمٌ يَتْلُوْنَ كِتَابَ اللهِ رَطْبًا لَا يُجَاوِزُ حَنَاجِرَهُمْ يَمْرُقُوْنَ مِنْ الدِّيْنِ كَمَا يَمْرُقُ السَّهْمُ مِنْ الرَّمِيَّةِ وَأَظُنُّهُ قَالَ لَئِنْ أَدْرَكْتُهُمْ لَأَقْتُلَنَّهُمْ قَتْلَ ثَمُوْدَ.

আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ

'আলী ইবনু আবূ ত্বলিব (রাঃ) ইয়ামান থেকে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর কাছে এক প্রকার (রঙিন) চামড়ার থলে করে সামান্য কিছু স্বর্ণ পাঠিয়েছিলেন। তখনও এগুলো থেকে সংযুক্ত মাটি পরিষ্কার করা হয়নি। আবূ সা'ঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন, রাসূল (ﷺ) চার জনের মাঝে স্বর্ণখণ্ডটি বণ্টন করে দিলেন। তারা হলেন, 'উয়াইনাহ ইবনু বাদ্র, আকরা ইবনু হাবিস, যায়দ আল-খায়ল এবং চতুর্থ জন 'আলক্বামাহ কিংবা 'আমির ইবনু তুফায়ল (রাঃ)। তখন সাহাবীগণের মধ্য থেকে একজন বললেন, এটা পাওয়ার ব্যাপারে তাদের অপেক্ষা আমরাই অধিক হকদার ছিলাম। (রাবী) বলেন, কথাটি নবী (ﷺ) পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছল। তাই নবী (ﷺ) বললেন, তোমরা কি আমার উপর আস্থা রাখ না অথচ আমি আসমানের অধিবাসীদের আস্থাভাজন, সকাল-বিকাল আমার কাছে আসমানের সংবাদ আসছে।রাবী বলেন, এমন সময়ে এক ব্যক্তি উঠে দাঁড়াল। লোকটির চোখ দু'টি ছিল কোটরাগত, চোয়ালের হাড় যেন বেরিয়ে পড়ছে, উঁচু কপাল বিশিষ্ট, দাড়ি অতি ঘন, মাথাটি ন্যাড়া, পরনের লুঙ্গী উপরে উত্থিত। সে বলল, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আল্লাহ্‌কে ভয় করুন। নবী (ﷺ) বললেন, তোমার জন্য আফসোস! আল্লাহ্‌কে ভয় করার ব্যাপারে দুনিয়াবাসীদের মধ্যে আমি কি অধিক হকদার নই?রাবী আবূ সা'ঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন, লোকটি চলে গেলে খালিদ বিন ওয়ালীদ (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমি কি লোকটির গর্দান উড়িয়ে দেব না? রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেনঃ না হতে পারে সে সালাত আদায় করে। খালিদ (রাঃ) বললেন, অনেক সালাত আদায়কারী এমন আছে যারা মুখে এমন এমন কথা উচ্চারণ করে যা তাদের অন্তরে নেই। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, আমাকে মানুষের দিল ছিদ্র করে, পেট ফেড়ে দেখার জন্য বলা হয়নি।তারপর তিনি লোকটির দিকে তাকিয়ে দেখলেন। তখন লোকটি পিঠ ফিরিয়ে চলে যাচ্ছে। তিনি বললেন, এ ব্যক্তির বংশ থেকে এমন জাতির উদ্ভব হবে যারা শ্রুতিমধুর কণ্ঠে আল্লাহ্‌র কিতাব তিলাওয়াত করবে অথচ আল্লাহ্‌র বাণী তাদের গলদেশের নিচে নামবে না। তারা দ্বীন থেকে এভাবে বেরিয়ে যাবে যেভাবে লক্ষ্যবস্তুর দেহ ভেদ করে তীর বেরিয়ে যায়। (বর্ণনাকারী বলেন) আমার মনে হয় তিনি এ কথাও বলেছেন, যদি আমি তাদেরকে পাই তাহলে অবশ্যই আমি তাদেরকে সামূদ জাতির মতো হত্যা করে দেব।

সহীহ বুখারী হাদিস ৪৩৫১-এর সারসংক্ষেপ

এই হাদিসে ইয়ামান থেকে আসা স্বর্ণ বণ্টনের একটি ঘটনা এসেছে। নবী (صلى الله عليه وسلم) সেই স্বর্ণ চারজনের মাঝে ভাগ করে দেন। এতে একজন সাহাবী মনে করেন, তাঁরা এ সম্পদের বেশি হকদার ছিলেন। পরে আরেক ব্যক্তি এসে নবী (صلى الله عليه وسلم)-কে আল্লাহকে ভয় করতে বলে। নবী (صلى الله عليه وسلم) উত্তর দেন, আল্লাহকে ভয় করার ব্যাপারে তিনি কি দুনিয়াবাসীদের মধ্যে বেশি হকদার নন? লোকটি চলে গেলে খালিদ (রাঃ) তাকে শাস্তি দেওয়ার অনুমতি চান। নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, না, হতে পারে সে সালাত পড়ে। খালিদ (রাঃ) বলেন, অনেকে মুখে এমন কথা বলে যা অন্তরে নেই। তখন নবী (صلى الله عليه وسلم) বলেন, তাঁকে মানুষের অন্তর খুঁড়ে দেখা বা পেট ফেঁড়ে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। এই হাদিস বাহ্যিক আচরণ, সতর্কতা এবং অন্তর বিচার না করার শিক্ষা দেয়।

এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা

  • মানুষের অন্তরের অবস্থা নিশ্চিতভাবে বিচার করা আমাদের কাজ নয়।
  • অভিযোগ বা কঠোর কথা শুনেও নবী (صلى الله عليه وسلم) সংযম দেখিয়েছেন।
  • শুধু বাহ্যিক কথা দেখে অন্তরের দাবি নিশ্চিত করা যায় না।
  • কুরআন পড়লেও তা হৃদয়ে প্রভাব না ফেললে ভয়াবহ বিচ্যুতি হতে পারে।

সেটিংস

ভাষা

ফন্ট সেটিংস

আরবি ফন্ট ফেস

আরবি ফন্ট সাইজ

২৪

অনুবাদ ফন্ট সাইজ

১৮

রিডিং লেআউট

আল হাদিস অ্যাপ ডাউনলোড করুন

App Banner

ইসলামের জ্ঞান প্রচারে সহায়ক হোন

আপনার নিয়মিত সহায়তা আমাদের দ্বীনি ভাই-বোনের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছাতে সাহয্য করবে। আমাদের মিশনে আপনিও অংশ নিন এবং বড় পরিবর্তনের অংশীদার হোন।

সাপোর্ট করুন