৬৪/৭৮. অধ্যায়ঃ
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৩৯৭ - তাওয়াফ ও সাঈর পর হালাল হওয়া
বিদায় হাজ্জ
ইহরাম থেকে হালাল: তাওয়াফ ও সাঈর শিক্ষা
সহীহ বুখারী : ৪৩৯৭
সহীহ বুখারীহাদিস নম্বর ৪৩৯৭
بَيَانٌ حَدَّثَنَا النَّضْرُ أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ عَنْ قَيْسٍ قَالَ سَمِعْتُ طَارِقًا عَنْ أَبِيْ مُوْسَى الْأَشْعَرِيِّ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ قَالَ قَدِمْتُ عَلَى النَّبِيِّ ﷺ بِالْبَطْحَاءِ فَقَالَ أَحَجَجْتَ قُلْتُ نَعَمْ قَالَ كَيْفَ أَهْلَلْتَ قُلْتُ لَبَّيْكَ بِإِهْلَالٍ كَإِهْلَالِ رَسُوْلِ اللهِ ﷺ قَالَ طُفْ بِالْبَيْتِ وَبِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ ثُمَّ حِلَّ فَطُفْتُ بِالْبَيْتِ وَبِالصَّفَا وَالْمَرْوَةِ وَأَتَيْتُ امْرَأَةً مِنْ قَيْسٍ فَفَلَتْ رَأْسِي.
আবূ মূসা (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি (বিদায় হজ্জে) মক্কার বাত্হা নামক স্থানে নাবী (ﷺ)- এর সঙ্গে মিলিত হলাম। তখন তিনি আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, 'তুমি কি হজ্জের ইহ্রাম বেঁধেছ? আমি বললাম, হাঁ। তখন তিনি আমাকে (পুনরায়) জিজ্ঞেস করলেন। কোন্ প্রকারে হজ্জের ইহরামের নিয়ত করেছ? আমি বললাম, 'আমি রাসূলুল্লাহ (ﷺ)- এর ইহরামের মতো ইহরামের নিয়ত করে তালবিয়াহ পড়েছি। রাসূলুল্লাহ (ﷺ) বললেন, বাইতুল্লাহ তওয়াফ কর এবং সফা ও মারওয়াহ্ সায়ী কর। এরপর (ইহ্রাম খুলে) হালাল হয়ে যাও। তখন আমি বাইতুল্লাহ্ তওয়াফ করলাম ও সফা এবং মারওয়াহ্ সায়ী করলাম। এরপর আমি ক্বায়স গোত্রের এক মহিলার কাছে গেলাম, সে আমার চুল আঁচড়ে দিল (তাতে আমি ইহরাম থেকে মুক্ত হয়ে গেলাম)।
সহীহ বুখারী হাদিস ৪৩৯৭-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে আবু মূসা আশআরী (রাঃ)-এর বিদায় হজ্জের ঘটনা এসেছে। তিনি মক্কার বাতহা নামক স্থানে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর সঙ্গে মিলিত হন। নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি হজ্জের ইহরাম করেছেন কি না এবং কীভাবে নিয়ত করেছেন। আবু মূসা (রাঃ) বলেন, তিনি রাসূলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم)-এর ইহরামের মতো ইহরাম করেছেন। তখন নবী (صلى الله عليه وسلم) তাঁকে বাইতুল্লাহ তাওয়াফ করতে, সাফা-মারওয়া সাঈ করতে এবং তারপর হালাল হতে বলেন। তিনি তাই করেন এবং পরে চুল আঁচড়ানো হয়। হাদিসটি দেখায়, হজ্জ-উমরাহর কাজ নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশনা অনুযায়ী ধাপে ধাপে করা হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ইহরামের নিয়ত ও কাজ সম্পর্কে নবী (صلى الله عليه وسلم)-এর নির্দেশনা অনুসরণ করা দরকার।
- তাওয়াফ ও সাঈ হজ্জ-উমরাহর গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
- আবু মূসা (রাঃ) নির্দেশনা পাওয়ার পর তা পালন করেছেন।
- হজ্জের কাজে সন্দেহ হলে জিজ্ঞেস করে জানা উচিত।
