২/১৩. অধ্যায়ঃ
বুলুগুল মারাম হাদিস ৪৭৫ - সালাতুল খাওফের দলভিত্তিক পদ্ধতি
ভীতিকর অবস্থার সময় সালাত - যখন শত্রুরা কিবলা ব্যতিত অন্য দিকে হবে তখন সালাতুল খওফ বা ভয়-ভীতি অবস্থার সালাত পাঠের পদ্ধতি
সালাতুল খাওফের পদ্ধতি: এক দল সালাতে, আরেক দল পাহারায়
বুলুগুল মারাম : ৪৭৫
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ৪৭৫
عَنْ صَالِحِ بْنِ خَوَّاتٍ, - عَمَّنْ صَلَّى مَعَ رَسُولِ اللَّهِ - ﷺ - يَوْمَ ذَاتِ الرِّقَاعِ صَلَاةَ الْخَوْفِ: أَنَّ طَائِفَةً صَلَّتْ مَعَهُ وَطَائِفَةٌ وِجَاهَ الْعَدُوِّ, فَصَلَّى بِالَّذِينَ مَعَهُ رَكْعَةً, ثُمَّ ثَبَتَ قَائِمًا وَأَتَمُّوا لِأَنْفُسِهِمْ, ثُمَّ انْصَرَفُوا فَصَفُّوا وِجَاهَ الْعَدُوِّ, وَجَاءَتِ الطَّائِفَةُ الْأُخْرَى, فَصَلَّى بِهِمُ الرَّكْعَةَ الَّتِي بَقِيَتْ, ثُمَّ ثَبَتَ جَالِسًا وَأَتَمُّوا لِأَنْفُسِهِمْ, ثُمَّ سَلَّمَ بِهِمْ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ, وَهَذَا لَفْظُ مُسْلِمٍوَوَقَعَ فِي «الْمَعْرِفَةِ» لِابْنِ مَنْدَهْ, عَنْ صَالِحِ بْنِ خَوَّاتٍ, عَنْ أَبِيهِ
সালিহ ইবনু খাওয়াত (রহঃ) এমন একজন সাহাবী হতে বর্ণিতঃ
যিনি যাতুর রিকা’র যুদ্ধে রাসূলুল্লাহ (ﷺ)–এর সঙ্গে সালাতুল খাওফ আদায় করেছেন। তিনি বলেছেন, একদল লোক রাসূলুল্লাহ (ﷺ) –এর সঙ্গ কাতারে দাঁড়ালেন এবং অপর দলটি থাকলেন শত্রুর সম্মুখীন। এরপর তিনি তাঁর সঙ্গে দাঁড়ানো দলটি নিয়ে এক রাক’আত সালাত আদায় করে স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে থাকলেন। মুক্তাদীগণ তাঁদের সালাত পূর্ণ করে ফিরে গেলেন এবং শত্রুর সম্মুখে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়ালেন। এরপর দ্বিতীয় দলটি এলে তিনি তাঁদেরকে নিয়ে অবশিষ্ট রাক’আত আদায় করে স্থির হয়ে বসে থাকলেন। এরপর মুক্তাদীগণ তাঁদের নিজেদের সালাত সম্পূর্ণ করলে তিনি তাঁদেরকে নিয়ে সালাম ফিরালেন।শব্দ বিন্যাস মুসলিমের। ইবনু মানদাহ –এর ‘মা’রিফা’ নামক গ্রন্থে ‘সালিহর পিতা (খাওয়াত) হতে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। [৫১২]
[৫১২] বুখারী ৪১২৭, ৪১২৯; মুসলিম ৮৪১, ৮৪২, ৮৪৩; তিরমিযী ৫৬৫; নাসায়ী ১৫৩৬, ১৫৩৭, ১৫৫২; আবূ দাঊদ ১২৩৭, ১২৩৮, ১৭৩৯; ইবনু মাজাহ ১২৫৯; মুওয়াত্তা মালেক ৪৪০, ৪৪১।
বুলুগুল মারাম হাদিস ৪৭৫-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে যাতুর রিকা’র যুদ্ধে সালাতুল খাওফ বা ভয়ের অবস্থার সালাতের পদ্ধতি বর্ণিত হয়েছে। একদল সাহাবি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে কাতারে দাঁড়ালেন, আরেক দল শত্রুর সামনে অবস্থান করলেন। নবীজি প্রথম দলকে নিয়ে এক রাকআত সালাত আদায় করলেন, তারপর দাঁড়িয়ে থাকলেন। তারা নিজেদের সালাত পূর্ণ করে শত্রুর সামনে গেল। এরপর দ্বিতীয় দল এল। নবীজি তাঁদের নিয়ে বাকি রাকআত আদায় করলেন, তারপর বসে থাকলেন। তারা নিজেদের সালাত পূর্ণ করলে নবীজি তাঁদের নিয়ে সালাম ফিরালেন। এই হাদিসের মূল শিক্ষা হলো, ভয় ও যুদ্ধের অবস্থাতেও সালাতের গুরুত্ব কমে যায় না। তবে নিরাপত্তা ও জামাআতের শৃঙ্খলাও রাখা হয়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- ভীতিকর অবস্থাতেও সালাতের গুরুত্ব বজায় থাকে।
- সালাতুল খাওফে এক দল সালাত পড়ে, অন্য দল নিরাপত্তায় থাকে।
- ইমামের নেতৃত্বে দুই দলের সালাত শৃঙ্খলার সঙ্গে সম্পন্ন হয়।
