২/১৩. অধ্যায়ঃ
বুলুগুল মারাম হাদিস ৪৭৬ - নাজদের যুদ্ধে সালাতুল খাওফ
ভীতিকর অবস্থার সময় সালাত - যখন শত্রুরা কিবলা ব্যতিত অন্য দিকে হবে তখন সালাতুল খওফ বা ভয়-ভীতি অবস্থার সালাত পাঠের পদ্ধতি
সালাতুল খাওফ: নাজদের যুদ্ধে দুই দলের সালাতের পদ্ধতি
বুলুগুল মারাম : ৪৭৬
বুলুগুল মারামহাদিস নম্বর ৪৭৬
وَعَنِ ابْنِ عُمَرَ قَالَ: غَزَوْتُ مَعَ النَّبِيِّ - ﷺ - قِبَلَ نَجْدٍ, فَوَازَيْنَا الْعَدُوَّ, فَصَافَفْنَاهُمْ, فَقَامَ رَسُولُ اللَّهِ - ﷺ - يُصَلِّي بِنَا, فَقَامَتْ طَائِفَةٌ مَعَهُ, وَأَقْبَلَتْ طَائِفَةٌ عَلَى الْعَدُوِّ, وَرَكَعَ بِمَنْ مَعَهُ, وَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ, ثُمَّ انْصَرَفُوا مَكَانَ الطَّائِفَةِ الَّتِي لَمْ تُصَلِّ فَجَاءُوا, فَرَكَعَ بِهِمْ رَكْعَةً, وَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ, ثُمَّ سَلَّمَ, فَقَامَ كُلُّ وَاحِدٍ مِنْهُمْ, فَرَكَعَ لِنَفْسِهِ رَكْعَةً, وَسَجَدَ سَجْدَتَيْنِ. مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ، وَهَذَا لَفْظُ الْبُخَارِيِّ
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) হতে বর্ণিতঃ
আমি আল্লাহর রাসূল (ﷺ) –এর সঙ্গে নাজ্দ এলাকায় যুদ্ধ করেছিলাম। সেখানে আমরা শত্রুর মুখোমুখি কাতারবন্দী হয়ে দাঁড়ালাম। অতঃপর আল্লাহর রাসূল (ﷺ) আমাদের নিয়ে সালাত আদায় করলেন। একদল তাঁর সঙ্গে সালাতে দাঁড়ালেন এবং অন্য একটি দল শত্রুর মুখোমুখি অবস্থান করলেন। আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাঁর সঙ্গে যারা ছিলেন তাঁদের নিয়ে এক রুকু’ ও দু’টি সাজদাহ্ করলেন। অতঃপর এ দলটি যারা সালাত আদায় করেনি, তাঁদের স্থানে চলে গেলেন এবং তাঁরা আল্লাহর রাসূল (ﷺ) –এর পিছনে এগিয়ে এলেন। তখন আল্লাহর রাসূল (ﷺ) তাঁদের সঙ্গে এক রুকু’ ও দু’ সাজদাহ্ করলেন এবং পরে সালাম ফিরালেন। অতঃপর তাঁদের প্রত্যেকে উঠে দাঁড়ালেন এবং নিজে নিজে একটি রুকু’ ও দু’টি সাজদাহ্ (সহ সালাত) শেষ করলেন।শব্দ বিন্যাস বুখারীর। [৫১৩]
[৫১৩] বুখারী ৯৪২, ৯৪৩, ৪১৩২, ৪১৩৪, ৪৫৩৫; মুসলিম ৮৩৯; তিরমিযী ৫৬৪; নাসায়ী ১৫৩৯, ১৫৪০, ১৫৪২; আবূ দাঊদ ১২৪৩; ইবনু মাজাহ ১২৫৮; আহমাদ ৪১২৪, ৬৩১৫, ৬৩৯৫; মুওয়াত্তা মালেক ৪৪২; দারেমী ১৫২১
বুলুগুল মারাম হাদিস ৪৭৬-এর সারসংক্ষেপ
এই হাদিসে ইবনু উমার (রাঃ) নাজদ এলাকায় যুদ্ধের সময়ের সালাতুল খাওফের বর্ণনা দিয়েছেন। মুসলিমরা শত্রুর মুখোমুখি কাতারবন্দী হলেন। একদল রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে সালাতে দাঁড়ালেন, আর অন্য দল শত্রুর দিকে মুখ করে থাকলেন। নবীজি প্রথম দলের সঙ্গে এক রুকু ও দুই সিজদা করলেন। তারপর তারা অন্য দলের স্থানে গেল। যারা আগে সালাত পড়েনি তারা এসে নবীজির পেছনে দাঁড়াল। নবীজি তাঁদের সঙ্গে এক রুকু ও দুই সিজদা করলেন, তারপর সালাম ফিরালেন। এরপর প্রত্যেকে নিজে নিজে বাকি অংশ সম্পূর্ণ করলেন। এখানে সালাত, নিরাপত্তা এবং দলগত শৃঙ্খলার সুন্দর সমন্বয় দেখা যায়।
এই হাদিস থেকে আমাদের শিক্ষা
- শত্রুর মুখোমুখি অবস্থাতেও সালাত আদায়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
- সালাতুল খাওফে দলবদল করে নিরাপত্তা ও ইবাদত দুটোই বজায় রাখা হয়।
- জামাআতের নেতৃত্ব ও শৃঙ্খলা কঠিন অবস্থাতেও গুরুত্বপূর্ণ।
